ভারতীয় দূতের প্রথম সাক্ষাৎ-তিস্তার জন্য বসে থাকা নয়: পররাষ্ট্র সচিব

প্রকাশিত: ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩২:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

ঢাকা এলটিএন।তিস্তার জন্য অন্যান্য অগ্রগতি থামিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ভারতের নয়া হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের পর মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। হাই কমিশনারের উপস্থিতিতে মিডিয়ার সঙ্গে আলাপে সচিব জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি বছরেই যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের চেষ্টা চলছে। তবে তার আগে ঝুলে থাকা পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠক হতে হবে। পানি সচিব কবির বিন আনোয়ারের দিল্লিতে যাওয়ার কথা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি যেতে পারেননি। এখন হয়তো যাবেন। পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পরপরই জেআরসির বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করা হবে এবং এটি চলতি বছরের মধ্যেই আয়োজনে ঢাকা-দিল্লি উভয়ের তাগিদ রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, কেবল পানিসম্পদ নিয়ে আলোচনা নয়, বেশকিছু বৈঠক সামনে হবে।তিস্তা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের অনেক অভিন্ন নদী আছে। অন্যান্য নদীর বিষয়েও অগ্রগতি আছে। সেগুলো আমরা একইসঙ্গে সেরে ফেলার চেষ্টা করছি। তিস্তার জন্য অন্যান্য অগ্রগতি থামিয়ে রাখা উচিত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অগ্রগতির জায়গাগুলোতে বাংলাদেশ ফোকাস করছি, তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা রয়েছে। তিস্তার ক্ষেত্রে টেকসই সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় দূত বলেন, সচিব যা বলেছেন তা-ই আমরা আলোচনা করেছি। এ নিয়ে তার বক্তব্যে আমাদের কোনো ভিন্নমত বা ভিন্ন অবস্থান নেই।

পররাষ্ট্র সচিব ও হাই কমিশনার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে পিয়াজ আমদানি এবং কাঁচা পাট রপ্তানি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, আমাদের কাছে যা নেই, তা আমরা দিতে পারি না। তবে এটি ঠিক যে প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে আমাদের আরো ভালো কিছু করার আছে। আমরা কীভাবে সেটি করতে পারি তা নিয়ে কথাবার্তা চলছে, সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশকে জানাবো। কয়েক ধরনের পিয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে জানিয়ে হাই কমিশনার বলেন, এর মধ্যে ২০ হাজার টন পিয়াজ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরিবহন সংক্রান্ত কিছু সমস্যা আছে। কোভিড-১৯ এর কারণে সীমান্ত অঞ্চলের বন্দরগুলো উন্মুক্ত হয়নি। বিকল্প হিসেবে চেন্নাই থেকে জাহাজে করে তা পাঠানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিষয়ে ভারতীয় দূত বলেন, গত দুই বছরে বাংলাদেশ ১০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করেছে। আমরা বাণিজ্য বাড়াতে চাই। আগামী মাসগুলোতে বাণিজ্য কর্মকর্তারা কোভিডের কারণে কী কী সমস্যা হচ্ছেÑ সেটি নিয়ে আলোচনা করবেন।

এয়ার বাবল: এদিকে ভারত প্রস্তাবিত যোগাযোগের বিশেষ এয়ার সার্ভিস ‘এয়ার বাবল’ চালুর বিষয়ে দুই দেশ মতৈক্যে পৌঁছেছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ওই সার্ভিস চালুর বিষয়ে আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এ নিয়ে আমাদের কিছু সুপারিশ বা অনুরোধ ছিল। দিল্লি তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। সিভিল এভিয়েশনসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এটি চূড়ান্তকরণে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি এটি রোগী ও তাদের সহযাত্রীদের জন্য সহায়ক হবে। এখন একজন রোগীর সঙ্গে একজন অ্যাটেনডেন্ট যেতে পারেন। বিশেষ ওই সার্ভিসের আওতায় যেন একজন রোগীর সঙ্গে দু’জন অ্যাটেনডেন্ট যেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলাম। দিল্লি এতটাই ইতিবাচক যে, তারা দুই থেকে বাড়িয়ে ৩ জন অ্যাটেনডেন্টে সম্মত হয়েছে।