বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের নিরাপদ ও ভরসার স্থল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৮:৪১:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

শাহীদুল আলম।আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকতে এবং আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একমাত্র বাহিনী যে বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য তাদের নিজেদের জীবন বাজি রেখে, পরিবারের সমস্ত সদস্যদের মায়া এবং ভালোবাসা ত্যাগ করে আমাদের দেশকে রক্ষা এবং আমাদেরকে নিরাপদ রাখতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমরা যদি একটু গভীর মনোযোগ দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনীর সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তুলনা করি তাহলে আমার মনে হয় সেনাবাহিনীর সমতুল্য অন্য কোন বাহিনী হতে পারে না।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর কোনরকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই আস্থা রাখতে পারেন। এটা সম্পূর্ণই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য সাধারণ মানুষের প্রতি মায়া-মমতা এবং ভালোবাসার জন্য । তারা মানুষকে ভালবাসতে জানেন মানুষের সাথে মিশতে জানেন মানুষের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করতে জানেন। আচ্ছা সবাই একটু মনোযোগ সহকারে ভাবুন তো এ পর্যন্ত আমরা কি কখনো শুনেছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের কোন জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? নির্দোষ কোন ব্যক্তি সেনাবাহিনীর কাছে আক্রমণের শিকার হয়েছে?

আমরা যতই খুঁজি এবং পূর্বের কথা মনে করার চেষ্টা করি আমার মনে হয় আমরা কেউই এমন কোন উত্তর পাবো না যে সেনাবাহিনীর জন্য নির্দোষ কোন ব্যক্তি আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরং অনেক অসহায় ব্যক্তি সেনাবাহিনীর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে, এ সুনাম তারা তাদের দক্ষতা এবং ভাল কাজের বিনিময়ে অর্জন করেছেন । আমরা প্রায়ই দেখতে পাই অন্যান্য বাহিনী সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন বিপদে ফেলে কিংবা বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে কিন্তু এই পর্যন্ত কোন রেকর্ড নাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোন সদস্য কোন ব্যক্তি কে বিপদে ফেলে অসদুপায় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও আমরা বর্তমান প্রেক্ষাপটে গেলে দেখতে পাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিমুহূর্ত তাদের পরিবারের মায়া ত্যাগ করে তাদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সারা বিশ্বের মহামারী করোনা ভাইরাসের উপর কাজ করে যাচ্ছে। তারা সব সময় ব্যস্ত সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে । এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথেষ্ট সুনাম এর সাথে দুর্বার গতিতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমদের দিক নির্দেশনায় এবং সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের সহযোগিতায় । কিন্তু সেনাবাহিনীর এই সুনাম নষ্ট করার জন্য কিছু দুষ্কৃতকারীরা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে জেনারেল আজিজ স্যারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বার্তা অপপ্রচার করা হচ্ছে, তারা বার্তা প্রকাশ করেছে সেখানে জেনারেল আজিজ আহমদের কোন কন্ঠ নাই, তারা বিভিন্ন শক্তিশালী কন্ঠ পরিবর্তন এর সফটওয়্যার নিজেদের ইচ্ছামত কন্ঠ রেকর্ড করে অপপ্রচার করছে । কিন্তু তারা জানেনা ইতিমধ্যে বাংলার জনগণ তাদের মস্তিষ্কে যথেষ্ট বিপ্লব ঘটিয়েছে, জনগণ বুঝতে শিখেছে দেশের বাইরে থেকে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এই অডিওটি করা হয়েছে । যে ব্যক্তি সেনা প্রধানের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন কিংবা সমালোচনা করেছেন তার কথা একটু ভাবুন তো তিনি দেশের বাহিরে কেন? তিনি কেন চাকুরীচ্যুত? তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো কি মিথ্যা? এগুলোর সঠিক উত্তর কি দিতে পারবেন তিনি? আমরা জানি তিনি এগুলোর কোনটির উত্তর দিতে পারবেন না । পারবেন কিভাবে, এগুলোতো তিনি করেছেন? তাহলে আমরা কি মনে করতে পারি না এই জঘন্য অপরাধ করার পরেও যিনি আবারও জঘন্য অপরাধ করছেন দেশের বিরুদ্ধে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তার কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত? যে ব্যক্তি এই অপরাধগুলো করার পরেও দেশকে বাঁচানোর কথা বলে দেশকে ভালোবাসার কথা বলে, তার কথা বিশ্বাস করা উচিত? আর যাই হোক যে ব্যক্তি এই জঘন্য অপরাধ করতে পারে সে ব্যক্তি কখনো দেশকে ভালবাসতে পারে না, দেশের জনগণকে ভালবাসতে পারে না।

আমরা তাদের কথায় বিশ্বাস না করে আমরা বিশ্বাস করি, যে বাহিনী তাদের জীবন বাজি রেখে আমাদের দেশকে রক্ষা করছে, আমাদেরকে রক্ষা করছে, আমাদেরকে নিরাপদ রাখছে, সে বাহিনীর প্রধানের উপর, সে বাহিনীর প্রত্যেক জন সদস্যর উপর । আপনাদের মত দুশ্চরিত্রের মানুষের কাছে অন্তত বাংলার জনগণের একটি চাওয়া, আপনারা অন্তত: সেনাপ্রধান কিংবা দেশকে ক্ষতি করার জন্য ষড়যন্ত্র করা থেকে বিরত থাকুন, বাংলার জনগণ আপনাদের ভালোবাসা চায়না। তাহলে কেন আপনারা এই অপপ্রচার গুলো করছেন? বাংলাদেশের জনগণ মনে করে আপনাদের মত কর্নেল শহীদ কিংবা সোহরাওয়ার্দী না থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে, বাংলাদেশের প্রতিটা জনগণ নিরাপদে থাকবে।