ইজিবাইক থামিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণ, আদালতে মামলা

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০ | আপডেট: ২:০১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ জামালপুর।জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রামে নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এজাহারে ওই ছাত্রীর বয়স ১৮ উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন মো. আলমগীর (২২) ও মো. মমিনুল ইসলাম (২৪)। তাঁদের দুজনের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। দুজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

ধর্ষণের ঘটনাটি ৫ অক্টোবর মধ্যরাতের। আর আদালতে মামলা হয়েছে ৮ অক্টোবর। বিষয়টি এত দিন প্রকাশ্যে না এলেও আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়ানগঞ্জের বেশ কয়েকটি পেজে ঘটনাটি তুমুল আলোড়ন ফেলে। এরপরই ঘটনাটি সবার নজরে আসে এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

মামলার এজাহার ও ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকার এক যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ওই ছাত্রী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে ইজিবাইকে ঘুরতে বের হন। এ সময় বখাটে আলমগীর ও মমিনুল তাঁদের ইজিবাইকের গতিরোধ করেন। পরে তাঁরা ওই ছাত্রী ও তাঁর প্রেমিককে ইজিবাইক থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে নেন। ১০ হাজার টাকা না দিলে তাঁদের ছাড়া হবে না বলে জানান। ১০ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাঁদের ছেড়ে না দিয়ে বিভিন্ন খেতের আল দিয়ে ঘোরাতে থাকেন বখাটেরা। পরে ছাত্রী ও তাঁর প্রেমিককে রাত ১১টার দিকে বখাটে আলমগীর তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সঙ্গে তাঁর বন্ধু মমিনুলও যান।

আলমগীরের বাড়িতে ছাত্রীর প্রেমিককে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। অন্য আরেকটি কক্ষে ওই ছাত্রীর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে আলমগীর ও মমিনুল দুজন রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে রাত ৩টার দিকে তাঁরা ছাত্রীটিকে তাঁর প্রেমিকের হাতে তুলে দেন এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে নানা রকম হুমকি দেন। পরে প্রেমিক যুবকটি ছাত্রীটিকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এ সময়কালে ছাত্রীটি বাড়ি ফিরে না আসায় তাঁর পরিবার এলাকার নানা জায়গায় খোঁজ করে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মেয়ে বাড়ি ফিরে এলে ঘটনা জানতে চায় পরিবার। ছাত্রীটি এ সময় পুরো ঘটনা তাঁর পরিবারকে খুলে বলেন। পরে পরিবার থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

৮ অক্টোবর ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ওই দুই বখাটেকে আসামি করে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ধর্ষণের মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমি একজন দিনমজুর। বহু কষ্টে মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছি। আসামিরা আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় আমার পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। কোনো উপায় না পেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আমি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।’

জানতে চাইলে দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম ময়নুল ইসলাম আজ  বলেন, ‘ওই পরিবারটি কোনো ধরনের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। বিষয়টি আজই আমরা জানতে পেরেছি। পরিবারটি আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জেনেছি।’

এ ব্যাপারে জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) এম এম সালাউদ্দিন  বলেন, ‘আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশনাসংক্রান্ত পত্র এখনো আমাদের কাছে আসেনি। এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’