চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেশিন কেনায় দুর্নীতি, হাতেনাতে ধরলেন এমপি

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

যশোর প্রতিনিধি।স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির খবর নতুন কিছু নয়। সারাদেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবার চৌগাছাতেও সেই দুর্নীতির প্রমাণ মিললো। তবে শুধু প্রমাণই নয়, হাতেনাতেই ধরে ফেললেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন কেনায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়।

দুর্নীতি সম্পর্কে যশোর-২ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক ডাক্তার নাসির উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে নতুন কেনা পোর্টেবল এক্সরে মেশিনটি দেখতে যাই। আমি একজন ডাক্তার হিসেবে এসব মেশিন আমার সর্বাধিক পরিচিত। মেশিনটি দেখেই আমি বুঝতে পারি এটি মোটেও নতুন নয়। একটি পুরাতন মেশিনকে রং করে সরবরাহ করা হয়েছে।

তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কীভাবে সেটি বুঝে নিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। দুর্নীতিকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না।

বিষয়টি তদন্তে ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন এমপি নাসির উদ্দিন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কীভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক্সরে মেশিনটি বুঝে নিলেন তা আমার মাথায় আসছে না। শুধু তাই না উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তিনি কীভাবে সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়পত্র দিলেন সেটি মোটেও আমার বোধগম্য নয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টিতে আমি খুবই আপসেট। আমার স্টোরকিপার ও এক্সরে অপারেটর দুজনেই বলল, এক্সরে মেশিনটি ঠিক আছে, আর আমি প্রত্যয়ন দিলাম। আপনার কী মেশিনটি দেখে নেয়া উচিত ছিল না? উত্তরে তিনি বলেন, আমার ভুল হয়েছে।

হাসপাতাল স্টোরকিপার ইমরান বলেন, সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানর আর কে এন্টার প্রাইজের মালিক কবির আমাদের কোনো কাগজপত্র দেননি। তবে নিলেন কেন? উত্তরে তিনি বলেন, আমি নতুন, তবে এক্সরে মেশিনটি আমি বুঝে নেইনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরবরাহকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরকে এন্টারপ্রাইজের মালিক কবিরকে আমি বলেছি, আজকের মধ্যে মেশিন ক্রয়ের সম্পূর্ণ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে। কবির রাজি হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টাপ্রাইজের মালিক কবির বলেন, নতুন এই মেশিনের দাম ১৫ লাখ টাকা। এডিবির বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এই মেশিন ক্রয় সম্ভব না।