গাইবন্ধার চিঠি-বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আশার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন পলাশবাড়ীর শিক্ষিত তরুন উদ্যোক্তা মামুন

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০ | আপডেট: ১১:১০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আশার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন পলাশবাড়ীর শিক্ষিত তরুন উদ্যোগক্তা মামুন

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা ::তরুন শিক্ষিত যুবক মামুন সরকার পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরী হরিনমারী গ্রামের একজন বাসিন্দা । বাংলাদেশ পলিট্যাকনিক সাইন্স থেকে মাষ্টার্স কমপ্লিট করে বেকার জীবন যাপন করছিলেন। বর্তমানে চাকুরির আশা ছেড়ে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা বাস্তবায়নে একজন সফল উদ্যোগক্তা হিসেবে তিনি এলাকায় বেশ পরিচিতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি নর্দান বায়োফ্লক ফিস ফামিং নামে আধুনিক বায়োফ্লক ও বটম পদ্ধতিতে মৎস্য চাষের জন্য সম্পুর্ন্ন ব্যাক্তিগত উদ্যোগে তিনি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এছাড়া ও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য বেকার যুবকদের প্রশিক্ষন প্রদানের পাশাপাশি ,পোনা মাছ ক্রয়, বিক্রয় করে সাবলম্বী হওয়ায় স্বপ্ন চোখে এগিয়ে যাচ্ছেন ।

মামুন সরকার জানান, বাংলাদেশের তরুণ মৎস্য চাষিদের মধ্যেই অনেকেই নতুন এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন যার নাম বায়োফ্লক, যা দেশে মাছের উৎপাদন অতি দ্রুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে । যদি ও মাছ চাষের এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশে এসেছে মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। এই পদ্ধতি যেখানে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অল্প জায়গায় বিপুল পরিমান মাছ চাষ করা হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। তিনি আরো জানান যে প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষের চেয়ে এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ আলাদা।এখানে টেকনিক্যাল বিষয় গুলোর সুচারুরূপে দেখতে হয়। আমি প্রায় ৭ টি ট্যাংকে শিং, কই, মাগুর ও পাবদাসহ বেশ কয়েক ধরনের মাছ চাষ করছি”। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষতদের চাকুরীর পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তার দেখানোর পথ অনুসরন করেই আমি উদ্যোগক্তা হয়েছি। এছাড়াও আমি নিজ উদ্যোগে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষন দিয়ে এই মাছ চাষে আগ্রহী করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করছি। এ চাষে নতুন নতুন উদ্যোগক্তা সৃর্ষ্টি করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ অক্টোবর সোমবার এখানে এক প্রশিক্ষন কর্মশালাল আয়োজন করা হয়েছে।

মৎস্য গবেষকদের মতে জানা যায়, বায়োফ্লক এমন একটি পদ্ধতি যেখানে জৈব বর্জ্যের পুষ্টি থেকে পুনঃব্যবহারযোগ্য খাবার তৈরি করা হয়।অর্থাৎ যে ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল তৈরি হয় তা পানিতে উৎপন্ন হওয়া নাইট্রোজেন গঠিত জৈব বর্জ্যকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হতে না দিয়ে নিজেদের বংশ বাড়ায় এবং এটিকেই ফ্লক বলে।এসব ফ্লকে প্রচুর উপাদান থাকে, যা মাছের পুষ্টির যোগান দেয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে প্রোবায়োফ্লকটি কালচারের মাধ্যমে ফ্লক তৈরি করা হয়।

গাইবান্ধায় বাল্যবিবাহ রোধে মমদা ফাউন্ডেশনের মতবিনিময়


আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা ::বাল্যবিবাহ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিরূপণের লক্ষ্যে গাইবান্ধায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধ করতে দরকার সবার সচেতনতা।

১৭ অক্টোবর শনিবার সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ কানাডার সহযোগিতায় এবং মমদা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন। সভায় মমদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সাদেকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাহিদুর রহমান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সামছুল ইসলাম, মমতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এনামুল হক ও প্রকল্প পরিচালক এইচ.এম মাসুদুর রহমান প্রমুখ।

মমতা ফাউন্ডেশনের এসিসট্যান্ট ম্যানেজার ইসমাত জাহান ইতির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, নাইজুর রহমান, সঞ্জয় চক্রবর্তীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী ও বাল্যবিবাহ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিরূপণ লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

গাইবান্ধায় একযোগে বিট পুলিশের আয়োজনে নারী ধর্ষন ও নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা ::বন্ধ হোক নারী নির্যাতন নিশ্চিত হোক দেশের উন্নয়ন এ শ্লোগান কে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলা জুড়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশণায় একযোগে গোটা জেলার থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিট পুলিশিং এর আয়োজনে নারী ধর্ষন ও নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমগ্র দেশব্যাপী বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে নারী ধর্ষন ও নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের প্রতিটি বিট পুলিশিং কার্যালয় এই সমাবেশের আয়োজন করে। গাইবান্ধা জেলার ৯৩ টি বিটে পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশে একযোগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০.০০ ঘটিকায় নারী ধর্ষন ও নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশসমূহে ছাত্র-ছাত্রী, যুবক-যুবতী, সুশীল সমাজের নের্তৃবৃন্দ সহ সকলস্তরের জনগন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করেন। সমাবেশসমূহে নারী ধর্ষন ও নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। নারী ধর্ষন ও নারী নির্যাতন বন্ধে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের প্রত্যেকটি ইউনিট তৎপর আছে। নারী ধর্ষন ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত সকল সংবাদ দ্রুততার সাথে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়। উক্ত সমাবেশসমূহে নারী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়। সামাজিক সচেতনতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ উক্ত কর্মসূচির আয়োজন করে। উল্লেখ্য যে, উক্ত অনুষ্ঠানটি সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ প্রচার করা হয়েছে।
এদিন গাইবান্ধা পৌর পার্কে পৌরসভার ১ নং বিট পুলিশের আয়োজনে নারী ধর্ষন ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ তৌহিদুল ইসলাম । এতে আরো বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা পৌর মেয়র এ্যাড.শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন, সদর থানা অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ শাহরিয়ারসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও সর্বস্তরে মানুষ এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিজেদের করণীয় ও সমস্যা গুলো তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন পুলিশ হবে জনতার এই বিশ্বাসে জেলা জুড়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ । এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দূর প্রত্যয়ে জেলা পুলিশ তাই নারী ধর্ষন ও সকল প্রকার নারী নির্যাতনের বিষয়ে সাথে সাথে নিকটস্থ পুলিশের নিকট তথ্য প্রদান করার অনুরোধ জানান পুলিশ সুপার।

এদিন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সকালে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা চত্বরে কলেজ পাড়া ১৮নং বিট পুলিশিং ইউনিটের আয়োজনে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির অতিরিক্তি মহাসচিব (রংপুর) ও স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামানের সভাপতিত্বে এবং এসআই সেলিম রেজার সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার্স) মো. আবু খায়ের, থানা পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন, সুন্দরগঞ্জ ডি.ডব্লিউ সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ একেএমএ হাবীব সরকার, প্রভাষক কৃষ্ণা সরকার, কাউন্সিলর এমদাদুল হক, পৌর জাপার সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার ডাবলু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসানুল করিম চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগনেতা দেবাশীষ কুমার সাহা প্রমূখ এছাড়ার উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি ওয়ার্ডে এক যোগে বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে গোবিন্দগঞ্জে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ মিলনাতয়নে উপজেলার প্রধান সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) রাহাত গাওহারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ প্রধান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন, গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দ। এছাড়ার উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি ওয়ার্ডে এক যোগে বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পলাশবাড়ী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিট পুলিশিং ইউনিটের আয়োজনে স্থানীয় জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পলাশবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদুর রহমান মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর প্রশাসক আবু বকর প্রধান, থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্দ) মতিউর রহমান, ও মহিলাদের পক্ষে জেসমিনসহ অন্যান্যরা। এসময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশটির সঞ্চালনায় ছিলেন থানার এসআই সঞ্জয় কুমার সাহা। এছাড়াও উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নসহ ১২টি স্থানে পৃথক পৃথক ভাবে বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিট পুলিশিং সমাবেশ জেলার ফুলছড়ি ও সাঘাটা সাদুল্যাপুর উপজেলায় সবকয়টি ইউনিয়নের বিট পুলিশিং কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ।