সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে খাসোগির বাগ্‌দত্তার মামলা

প্রকাশিত: ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৮:০৬:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

এএফপি, বিবিসি, আল-জাজিরা ও মিডল ইস্ট আই । তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার অভিযোগে বাগ্‌দত্তা হাতিস চেঙ্গিজ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা করা হয়। মামলায় হাতিস চেঙ্গিজ অভিযোগ করেছেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে খাসোগিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল সৌদি কনস্যুলেটে।

যুবরাজের নাম থাকলেও বাকি ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ নেই মামলায়।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান খাসোগি। বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন বাগ্‌দত্তা হাতিস চেঙ্গিজ। কিন্তু ৫৯ বছর বয়সী সাংবাদিককে ফিরে আসতে দেখা যায়নি। তাঁর দেহাবশেষও পাওয়া যায়নি।

এর আগে ইস্তাম্বুলের আদালত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক দুই সহযোগীসহ ২০ জন সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করেন। গত মাসে সৌদি আরবের আদালত জামাল খাসোগি হত্যায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদির কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ খাসোগি। ওই দিন ১৫ সৌদি নাগরিকও সেখানে ঢোকেন। তাঁরা কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে এর পাশের দুটি আন্তর্জাতিক হোটেলে ওঠেন। কনস্যুলেটের অপারেশন শেষ করে ওই দিনই তাঁরা তুরস্ক ত্যাগ করেন। তাঁদের বহনকারী ব্যক্তিগত বিমান দুটি কায়রো ও দুবাই হয়ে রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এদিকে এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল, সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ ইউনিটের সদস্য। তাঁদের একজন সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন খাসোগি। এরপরই ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতি মাসে কলাম লিখতেন। কলামে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে নানা সমালোচনামূলক লেখা লিখেছেন। নিজের কলামেই তিনি লেখেন, সালমান বাদশাহ হলে খাসোগি ভিন্নমত পোষণের কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন।

খাসোগি ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে কাগজপত্র ইস্যু করার জন্য ঢোকেন। কিন্তু তাঁর পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এবং তুরস্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি কনস্যুলেট থেকে আর বের হননি। তবে সৌদির কর্মকর্তারা খাসোগির নিখোঁজ ও তাঁর হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। তবে তাঁদের এই দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

তুরস্কের এই চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সৌদি আরব জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে তুরস্কের তদন্তকারী দল তল্লাশি করতে পারবে। পরে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কনস্যুলেট ভবনে তল্লাশির অনুমতিও আছে।

তুরস্কের পুলিশ জানিয়েছিল, জামাল খাসোগি যেদিন কনস্যুলেটে যান, সেদিন সৌদি আরব থেকে কর্মকর্তাসহ ১৫ জন ব্যক্তি দুটি ফ্লাইটে তুরস্ক পৌঁছে ইস্তাম্বুলে নিজেদের কনস্যুলেটে যান। ওই দিনই তাঁরা ফিরে যান। তুরস্কের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ইস্তাম্বুলে পাঠানো সৌদির বিশেষ দলের হাতে জামাল খাসোগি খুন হয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা।