ঢাকা ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বিচারাধীন হাজারো মামলার জট -মানিকগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ নেই দীর্ঘ দিন

LTN
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২০
বিচারাধীন হাজারো মামলার জট -মানিকগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ নেই দীর্ঘ দিন

রিপন আনসারী,মানিকগঞ্জ থেকে ।মানিকগঞ্জ জেলা জজ কোর্ট। এক দিকে করোনার মহামারী অন্য দিকে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে মামলার কার্যক্রম। এতে জজশীপে হাজার হাজার বিচারাধিন মামলার জট বেধে গেছে। ফলে ভুক্তভোগী বিচার প্রার্থীরা চরম ভাবে বিচারহীনতায় ভুগছেন। ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে ধীর গতিতে চলছে দুই আদালাতের বিচার ব্যবস্থা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ নিয়োগ দেয়ার দাবী জেলার আইনজীবিদের।
আদালত সুত্রে জানাগেছে, গত ৩ সেপ্টম্বর মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মমতাজ বেগম বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বদলির প্রায় ২মাস হতে চললেও শুন্য পদে এখনো জেলা ও দায়রা জজ নিয়োগ হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় বিচারধিন মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় মামলার জট বেড়ে যাচ্ছে। জেলার প্রধান বিচারক না থাকায় গুরুত্বপুর্ন ও বিচারাধিন মামলা গুলো নিয়ে বিচার প্রার্থীরা চরম শংকায় রয়েছেন। জেলা ও দায়রা জজের অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শাহানা হক সিদ্দিকা। গুরুত্বপুর্ন কিছু মামলা আদালতে উঠলেও সিংহভাগ মামলার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মার্ডারসহ গুরুত্বপুর্ন মামলার রায়,আপিল ও শোনানী সবই কার্যত বন্ধ।
আদালত সুত্রে আরো জানাগেছে, শুধূ জেলা ও দায়রা জজই নন পাশাপাশি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ আনোয়ার ছাদাত নেই ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টম্বর থেকে। বদলি হয়ে যাওয়ার এক বছরের অধিক সময় ধরে পদটি শুন্য অবস্থায় রয়েছে। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ম আফরোজা বেগম। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় সেখানে বিচারাধিন মামলার জট বেড়ে যাওয়ায় বিচার প্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আদালতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জজশীপে গেল সেপ্টম্বর মাস পর্যন্ত ফৌজদারী মামলা ৪হাজার ৫শ ১৮টি ও দেওয়ানী মামলা ১৪ হাজার ৬৮টি মামলা বিচারাধিন অবস্থায় পড়ে আছে। জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় বিচারাধিন মামলার জটও দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া মামলার জটে আটকে পড়া গুরুত্বপুর্ন মামলার রায় গুলো কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট মোখসেদুর রহমান বলেন, জেলা ও দায়রা জজ ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় গুরুত্বপুর্ন মামলা গুলোর কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় বড় বড় মার্ডার মামলাসহ গুরুত্বপুর্ন হাজারো মামলার জট বেড়েছে । এতে বিচার প্রার্থীদের মধ্যে অনিহা এসে যাচ্ছে। আইনজীবি হিসেবে আমরা মানুষের সেবা করতে এসেছি কিন্ত বিচারক কবে কিংবা কখন যোগ দেবেন সে বিষয়ে বিচার প্রার্থীদের কাছে আমরা কোন জবাব দিতে পারি না।
জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট একেএম আজিজুল হক বলেন, জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় মামলা গুলোর প্রতিকার পাচ্ছে না বিচার প্রার্থীরা। মামলার বিশাল জট বেধে গেছে। এতে আইনজীবি ও বিচার প্রার্থীরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় সেখানে হাজার হাজার মামলার জট বেধে যাওয়া বিচার প্রার্থীরা নিরুৎসাহীত হয়ে পড়ছেন।
আইনজীবি অ্যাডভোটে আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ এর পদ শুন্য হওয়ার পর থেকে তীব্র ভাবে মামলার জট বেড়ে গেছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে নিয়মিত মামলা গুলো প্রতিদিনই জজকোর্টে বিচার নিষ্পত্তির জন্য বদলি হয়ে যাচ্ছে। প্রথমত যদি বিচারক না থাকে তাহলে আদালতে বিচার কার্যক্রম ব্যহত হয়। দ্বিতীয়ত বিচার প্রার্থীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয় এবং তৃতীয়ত ন্যায় বিচার বঞ্চিত হলে অপরাধীরা অপরাধ করে আরো উৎসহ বোধ করে এবং অপরাধীদের উৎসাহ বোধের কারনে সামাজিক বিশৃঙ্খরা সৃষ্টি হয়।
অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন লিটন বলেন, সব চেয়ে গুরুত্বপুর্ন দুই জন বিচারক না থাকায় বিচারাধিন হাজার হাজার মামলার গুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে বিচার প্রার্থীরা সঠিক সময়ে বিচার না পাওয়ায় তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মামলার জট ভয়াবহ আকার ধারন করবে। একজন আইনজীবি হিসেবে শুধু আমিই নই সকল আইনজীবি ও বিচার প্রার্থীদের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে শুন্য পদে দ্রুত বিচারক পদায়ন করা হোক।
আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান বলেন, একটা জেলার প্রধান জজ না থাকলে মামলার গতি থাকে না। যার ফলে মামলায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া করোনার কারনে প্রায় চার মাস কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। শুন্য পদে দুই বিচারক যোগ দিলে বিচার কার্য্যে কিছু গতি আসবে। অবিলম্বে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা জজ-২ নিয়োগের দাবী আমাদের সকল আইনজীবিদের। তাহলেই সকল জটিলতা কিছুটা কেটে উঠবে বলে আমি মনে করি।