ওল্ডহোম এবং গোলাপজানের গল্প।।রফিকুল নাজিম

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৭:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

‘শুনছো ? কাল থেকে আবার আমাদের রোজ দেখা হবে। আমরা কিন্তু প্রতিদিনই দেখা করবো। কোনো অজুহাত দাঁড় করাবে না। জানো তো-তোমার সাথে কথা না বলে আমি বেশিদিন থাকতে পারি না। অথচ সেই আমাদের কথা হয় না অনেকদিন হলো। হুম,আগামীকাল ঠিকঠাক সময়ে কিন্তু তুমি চলে এসো।’

বালিশের নিচ থেকে ছবিটা হাতে নিয়ে গোলাপজান মন ভরে ছবির মানুষটাকে দেখছে। মানুষটার সাথে বিড়বিড় করে কথা বলছে। এভাবে তাদের রোজ কথা হয়। আগে অবশ্য রাতের তারাদের আড়াল থেকে কথা বলতো সাদিক সাহেব। গোলাপজান জিরাফের মুখ বাড়িয়ে দাঁড়াতো ঘরের পশ্চিম দিকের জানালায়। জানালার সামনে ঝুলে থাকতো মস্তবড় খোলা আকাশ। বিস্তৃত আকাশে তারকারাজি মিটিমিটি হাসতো। সবার অগোচরে কথা বলতো গোলাপজান আর সাদিক সাহেব। তাদের সেই দুর্দান্ত দিনের কিশোর কিশোরী প্রেমের মতোন। ছেলের বউয়ের কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা জারির পরও গত দু’বছরে গোলাপজান গোপনে দু’তিনবার ঘরের পশ্চিম দিকের জানালা খুলেছে। তাও খুব সর্তকতার সাথে;বিড়াল পায়ে-সাবধানে।

 

গোলাপজান এই মহল্লার শেষ মাথার দোতলা বাড়িতে থাকেন। ছেলের ফাহিমের সাথে। ফাহিম সরকারের ঊর্ধ্বতন একজন আমলা। কয়েকবছরে তার বেশ নামডাক হয়েছে। তিন বছর আগে এই বাড়িটা কিনেছে সে। বাড়ি কেনার বছরখানেক পর ফাহিম হঠাৎ এক বিকেলে বালিয়াডাঙ্গা যায়। গ্রামটা ঠিক আগের মতো আর নেই। প্রমত্ত নদীর শরীরটা ক্রমেই শীর্ণ হয়ে এসেছে। ছেলেবেলার কদমগাছটা পশ্চিমপাড়ার শতায়ু বারিক দাদুর মতো কংকাল শরীরে একা দাঁড়িয়ে আছে। সবুজের আর বিন্দুমাত্র ছটা নেই তার গায়ে। ফাহিমের স্কুলে যাওয়ার সেই মাটির আইলপথ এখন চওড়া পিচঢালা রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে শো শো করে চলে যাচ্ছে দূরের যাত্রীবাহী গাড়িগুলো। গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছে সরকার। রাতে দূরের ঘরবাড়িগুলোতে বিজলি বাতি জ্বলে। গ্রাম জুড়ে বিজলিবাতির মিটমিটে আলো আর জোনাকি পোকাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা হঠাৎ কষ্টসাধ্য বৈকি! বালিয়াডাঙা এখন আর গ্রাম না। আংশিক নগরে রূপ নিয়েছে। তাই বুদ্ধি করে ফাহিম পৈত্রিক ভিটা ছাড়া সব জমাজমি বিক্রি করে শহরের দোতলা বাড়িটা কিনেছে। অবশ্য এখনো তার কিছু দেনা রয়ে গেছে। তাই বাপের ভিটেমাটি বিক্রির পুরো বন্দোবস্ত করেছে সাদিক। একসপ্তাহ পর সব কাগজ কলম হবে। তাই গোলাপজানকে শহরের এই বাড়িতে নিয়ে এসেছে ফাহিম। রসুইঘরের পেছনের রক্তকরবী গাছটা বালিয়াডাঙ্গার এই বাড়িতেই গোলাপজানকে বউ হয়ে আসতে দেখেছে। আবার বালিয়াডাঙ্গাকে চিরদিনের জন্য ছেড়ে যাওয়াও দেখছে। সময়ের স্বাক্ষী এই রক্তকরবী গাছটা দু’দিনই গোলাপজানকে শিশুর মত কাঁদতে দেখেছে!

 

শহরের এই দোতলা বাড়িটা কখনোই গোলাপজানের আপন হয়ে ওঠেনি। গোলাপজান মনে মনে বিশাল একটা দূরত্ব ভেতরে ভেতরে লালন করেছে একা। সে বালিয়াডাঙ্গার বিশাল আকাশ পেছনে ফেলে এসেছে।  তবুও আজো আকাশটার জন্য তার পরাণ পোড়ে। বিয়ের সময়কার সবুজ রঙের ট্র্যাংকটা খুলে গোলাপজান। লাল টুকটুকে কাতান শাড়িটা বুকে জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে অনেকক্ষণ।  এই শাড়িটা পরেই সে নতুন বউ সেজে এসেছিল বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তখন তার বয়স কতোই আর হবে? তেরো কি চৌদ্দ বছরের কিশোরী তখন সে। তামাটে শরীরের সেই মানুষটাকে দেখলে প্রথম প্রথম তার খুব ভয় হতো। সাদিক সাহেব-মানুষ হিসেবে কিন্তু বেশ রসিক ছিল। গোলাপজানের সংসারের সাত বছর স্বপ্নের মত কেটে গেল নিমিষেই। সেইবার খুব বান ডাকলো জলেশ্বরী নদীতে। ঘোলাপানি উপচে এলো গ্রামের ফসলি জমিতে। আটাশ দিনের বন্যায় পঁচে গেলো মাঠের সব ফসল। শূন্যগোলা থেকে মানুষের ক্ষুধার চিৎকার শোনা যেত। চারিদিকে মানুষের সে কি হাহাকার! চারিদিকে মানুষ ক্ষুধায় কাতর। সাদিক সাহেবের চোয়াল ছিলো বেশ শক্ত। দাঁতে দাঁত কামড়ে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে যেতে লাগলেন। কিন্তু  এক দুপুরে মাঠ থেকে এসে ঘরের দাওয়ায় শুয়ে পড়লেন। সেই শোয়া থেকে আর ওঠতে পারেনি সাদিক সাহেব। গ্রামের লোকেরা বলে কলিজার কামড়ে নাকি মারা গেছে। সেই থেকে পাঁচ বছরের ফাহিমকে নিয়ে গোলাপজান একার যুদ্ধ শুরু।

 

– আপনার গোছগাছ কতো দূর হলো? এই স্মৃতির বাক্স নিয়ে বসে থাকলে চলবে? চোখের জল মুছে সব কিছু ঠিকঠাক গুছিয়ে নেন।

-‎ হ্যাঁ গো, বউমা। সেই সন্ধ্যাত্তে গুছাইতাছি। তুমি চিন্তা কইরো না।

-‎ আপনি না পারলে আমি রহিমাকে বলি হাত লাগাতে। সকাল সকাল গাড়ি চলে আসবে। রাতেই গোছগাছ শেষ করে রাখেন।

-‎ না, ন।  রহিমাকে লাগতো না। আমি পারমু। ফাহিম কি আইছে বাসাত?

-‎ না। আসতে নাকি দেরি হবে। অফিসের কী কাজে আটকা পড়েছে।

-‎ ফাহিম আইলে আমারে একটু কইয়ো, বউমা।

-‎ oh disgusting! I say again,never call me বউমা। ক্ষেত ক্ষেত শোনায়। তাড়াতাড়ি গোছান তো সব। যত্তোসব!

 

ফাহিমের বউ হনহন করে কিচেনের দিকে হেঁটে গেলো। আবার ট্র্যাংক খুললো গোলাপজান। সবুজ রঙের ট্র্যাংক হাঁতড়ে খুঁজে পায় ফাহিমের একটা ছবি। সাদাকালো। পাসপোর্ট সাইজ। সম্ভবত এসএসসির ফরম ফিলাপের জন্য তোলা হয়েছিলো ছবিটা। তখন গোলাপজান ফাহিমকে খোকা নামে ডাকতো। সে’বার খোকার ফর্ম ফিলাপের জন্য গোলাপজান কানের দুলজোড়া বিক্রি করতে হয়েছিলো। অল্প বয়সে বিধবা হয়ে অনেক যুদ্ধ করে মানুষ করেছে ফাহিমকে। সারারাত কাপড় সেলাই করা, সকালে খোকাকে স্কুলে পাঠিয়ে গঞ্জের দোকানগুলোতে কাপড় ডেলিভারি দেয়া। খুব হাড়ভাঙা খাটুনি গেছে গোলাপজানের। তিলে তিলে আজকের এই মস্ত অফিসারকে হিসেবে গড়ে তুলেছে গোলাপজান। গোলাপজান এসব ভেবে নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলে থাকে। নিজের বুকটা টান টান হয়ে যায় গর্বে। ফাহিম আজ কত্তো বড় অফিসার!

 

গোলাপজান জায়নামাজ আর তসবিহ তুলে রাখে ট্র্যাংকে। মা মা ডাকতে ডাকতে হুড়মুড় করে গোলাপজানের ঘরে ঢুকে ফাহিম। বেশ ভড়কে গেছে গোলাপজান। শেষ কবে যে ফাহিম এই ঘরে এসেছে! শেষ কবে এভাবে মা মা করে বাড়ি মাথায় তুলেছে-মনে করতে পারছে না সে। ছোটবেলায় ফাহিম মা মা করে পুরো বালিয়াডাঙ্গা গ্রামটাকে মাথায় তুলতো। ইদানিং খোকার অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিন গোলাপজান দরজার আড়াল থেকে ছেলেকে লুকিয়ে দেখে। ‘আজ কিনা হুট করে তার সে ঘরে চলে আসলো! কিছু হয়নি তো আবার। অজানা একটা শঙ্কা সুঁইয়ের মতো ফোঁড় কাটে মনে। না হয়তো। আগামী হয়তো চলে যাবো তাই হয়তো খোকার মন খারাপ। তাই হয়তো এমন করে করে জড়িয়ে আছে। তবুও থাকুক।  কতোদিন খোকার শরীরের এই ঘ্রাণটা নিতে পারে না। খোকা এমনি করে আরো কিছুক্ষণ জড়িয়ে থাক।’-কথাগুলো একমনে ভেবে গোলাপজান।

 

– মা, ঘরের বাইরে চলো। অনেকদিন হয় তুমি বাবাই’র ঘরে আসো না। চলো আজ আমরা অনেক গল্প করবো।

– হ্যাঁ রে খোকা, তোর শরীর খারাপ করছে না তো?

– আমি ঠিকঠাক আছি। ‎চলো তো, মা।

 

ফাহিম গোলাপজানের হাত শক্ত করে ধরে ড্রয়িংরুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার কাছে অনেকটা ঘুমের ঘোরে দেখা স্বপ্নের মতোই এসব ঠ্যাকছে। ঐতো বাবাই ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে। মটু পাতলু তার প্রিয় কার্টুন। দশ বছরের বাবাই তার চোখ ছানাবড়া করে দ্যাখছে দাদুকে। গত দু’বছরে বড়জোর চার পাঁচবার দাদি-নাতিনের সরাসরি দেখা হয়েছে! কি অদ্ভুত! যেন নিজ ভূমে পরবাসী তারা।

 

– হাই বাবাই, আজ থেকে তুমি তোমার গ্র্যান্ডমা’য়ের সাথে গল্প করবে। রূপকথার কিচ্ছা শুনবে। ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড?

– ‎সরি,পাপ্পা। মাম্মি মাইন্ড করবে। খুব রাগ করবে। আর দি’দার কিচ্ছা নাকি সেই সেকেলের গালগপ্পো। এসব রাবিশ ফেইরিটেইল শুনতে বারণ করেছে মম।

– ‎আমি বলছি।আজ থেকে তুমি দি’দার সাথে গল্প করবে। ওকে?

– ‎ওকে,পাপ্পি।

 

গোলাপজান কিছুই বুঝতে পারছেন না। কিসব হচ্ছে এসব! রিনা গরম গরম এক গ্লাস দুধ নিয়ে এলো।

– মা, গরম গরম দুধটা এক ঢুকে গিলে ফেলুন তো। তাড়াতাড়ি খেয়ে নেন। ছিঃ বাবাই, এসব কথা বলে না। তুমি অবশ্যই দি’দার সাথে বসে গল্প করবে। আমি কেন নিষেধ করবো? বোকা ছেলে আমার। গুছিয়ে এখনো কথা বলতে শিখেনি।

 

গোলাপজানের বিস্ময়ের ঘোরের সুতো আরো পেঁচিয়ে যাচ্ছে। কি হচ্ছে এসব! এসব তো আগামীকাল সকালের ফর্মালিটি। তো এখনই কেন এমন করছে ফাহিম আর রিনা? নয় ক্লাস পাস করা এই ষাটের ঘরের বৃদ্ধা কিভাবে এই জটিল অংকটা মিলাবে? অথচ এই গোলাপজানের জন্যই রিনা ফাহিমকে প্রায় ডিভোর্স দিয়ে দিচ্ছিলো। ঘরে থাকা প্রাচীন মুদ্রার কোনো মূল্য থাকে না। নেহাত শোপিচের চেয়ে বেশি কিছু না। শেষমেশ গোলাপজানকে ওল্ডহোমের রেখে আসার শর্তে রিনা আবার গত পরশুদিন এই বাসায় পা রেখেছে। হঠাৎ সেই রিনা গোলাপজানকে মা ডাকছে! তার জন্য নিজ হাতে কিচেন থেকে গরম গরম দুধ নিয়ে আসছে! কিছুতেই ঘোরটা কাটে না গোলাপজানের।

 

– হ্যাঁ রে খোকা, কি হয়েছে রে,বাপ? কোনো সমস্যা হয়েছে?

– ‎না, মা। সবকিছু ঠিকঠাক আছে।

– ‎শোন খোকা, এখন আমাকে ছাড়। সাথে কয়েকটা বই নিতে হবে। সব বই নিয়ে রাখমু কই? তাই কিছু বই বাছাই করতে হবে। সকালে আবার গাড়ি চলে আসবে। আমি যাই রে,বাবা। গোছগাছটা শেষ করতে হবে।

– ‎বসো তো, মা। তোমাকে ব্যাগ গোছাইতে হবে না। সকালে গাড়ি আসবে না।

– ‎কি যে বাজে বকছিস তুই!

– ‎হ্যাঁ মা। আগামীকাল তোমার গাড়ি আসবে না। আর কোনোদিনও ওল্ডহোমের গাড়িটা আমাদের বাসায় আসবে না।

– ‎আমি তোর কথার মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝছি না। ওদের গাড়ি না আসলে আমি কিভাবে একা ওল্ডহোমে যাবো?

– ‎ওখানে আর তোমাকে যেতে হবে না। করোনার ছোবলে সারাবিশ্বে লাখ লাখ লোক মারা যাচ্ছে। গতকাল আমার এক কলিগ হাসিবও মারা গেছে। জানো-ওর মা ওকে দ্যাখতে ওল্ডহোম থেকে পালিয়ে এসেছে! তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি-আমরা একত্রে বাঁচবো। মাগো,আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।

– খোকা, ‎তোর কথাগুলো শুনে মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দ্যাখছি রে! এসব কী আর বাস্তবে হয় রে! বউ মা আর বাবাইকে নিয়ে মাঝে মাঝে আমাকে ওল্ডহোমে দ্যাখতে আসিস। তোর কাছে আমার শেষ একটা চাওয়া-দাদুভাইকে একটু দ্যাখার জন্য মাঝেমধ্যে ওল্ডহোমে নিয়ে আসিস। ওর সাথে একটা বেলা গল্প করতে দিস।

 

গোলাপজানের গলা ধরে নিঃশব্দে কাঁদছে বাবাই। মাথা নিচু করে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে ফাহিম। বৃষ্টির দিনে বালিয়াডাঙ্গার ঘরটার চালা দিয়ে যেমন টুপটুপ করে জল পড়তো, ঠিক তেমন করে নোনতা জলে ভিজে গেছে ফাহিমের বুক।

অনুতাপের আগুনে পুড়তে পুড়তে কাঁদছে রিনা। গোলাপজানের হাত টিপতে টিপতে বললো,’সরি মা। আমাকে ক্ষমা করে দেন। সব দোষ আমার। আমি লজ্জিত, মা। আজ থেকে আপনি আমার মা হয়েই এই বাসায় থাকবেন। তবে আমার একটা শর্ত আছে- আমাকে কিন্তু বউমা বলেই ডাকতে হবে। এখন আমরা ড্রয়িং রুমে সবাই মিলে টিভি দ্যাখবো। বাবাইকে কিন্তু রোজ রাতে কিচ্ছা শোনাতে হবে,মা। আমরা চারজনে বসে লুডু খেলবো। কি গো মা,আমাদের সাথে খেলবেন না?’

 

চারজনই একসাথে কাঁদছে। তবে গোলাপজানের চোখের জলে আনন্দের গাঢ় রঙ লেগে আছে। গোলাপজানের বুক থেকে মাথা তুলে রিনা বললো, ‘ওহ মা,আরেকটা কথা-আজ থেকে আপনি দক্ষিণের ঘরেই থাকবেন। ব্যালকনি থেকে প্রতিদিন আপনি আকাশ দ্যাখবেন।’ কথাটা শেষ হতেই গোলাপজান দক্ষিণের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। রাতের আকাশটা আয়নার মতোই আজ পরিষ্কার। কিছুক্ষণ আগের বৃষ্টিতে ঝরে গেছে ঈশানকোণে জমাট বাঁধা মেঘমালা। মুছে গেছে মাটির ধূলো। ঐতো পরিষ্কার দ্যাখা যাচ্ছে সেই তারাটা। গোপালজানে চোখে তারাটা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে আসে।

 

 

পলাশ,নরসিংদী।

কৃতজ্ঞতাঃ অভিনেতা ও কবি ইন্দ্রনীলকে।তাঁর ‘করোনার মা’ কবিতার ছায়া অবলম্বনে লেখা আমার গল্পটি।