ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার ইউএনও

প্রকাশিত: ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৭:৪০:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

এলটিএন ঢাকা।মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা নিধন বন্ধের অভিযানে গিয়ে অবরুদ্ধ এবং হামলার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। রোববার বিকালে সোনারগাঁও উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ইউএনও আতিকুল ইসলাম তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সোনারগাঁও উপজেলায় মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে রুদ্ধশ্বাস অভিযান। জেলেরা নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে টেঁটা-বল্লম নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। বৃদ্ধ নারীদের নিয়ে নদীর মাঝখানে চলে আসে আসামি ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য। অভিযানে পাঁচ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। তিনজনকে এক সপ্তাহ করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জেসমিন বেগম সঙ্গে ছিলেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন সোনারগাঁও থানা পুলিশ। বৈদ্দেরবাজার নৌপুলিশ ফাঁড়িতে অফিস পরিদর্শন প্রোগ্রাম থাকায় নদীপথে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে তারা অংশ নিতে পারেনি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও আতিকুল ইসলাম সোমবার সকালে বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক তিনি রোববার দুপুর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে অভিযান শুরু করেন।  সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা জেসমিন বেগম ও পুলিশ সদস্যরা। নুনেরটেক থেকে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা কালে দেখতে পান জেলেরা মৎস্য আইন অমান্য করে কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছে।  এ সময় তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল জব্দ করেন।  সেই সঙ্গে নদী থেকে হাতেনাতে তিনজন জেলেকে আটক করে প্রত্যেককে এক সপ্তাহের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।  এ খবর মেঘনার পাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নারী-পুরুষেরা একত্র হয়ে টেঁটা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে তাঁদের অবরোধ করেন এবং তাঁদের ওপর হামলা করেন। পরে কৌশলে তাঁরা স্পিডবোটে উঠে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন।

ইউএনও আতিকুল বলেন, নারী-পুরুষ মিলে যেভাবে হামলা করা হয়েছে, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি। তবে মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।