ফাঁদে ফেলে ১১ জনকে ধর্ষণ, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: ৭:২১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০ | আপডেট: ৭:৪২:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০

প্রতিনিধি এলটিএন।বরিশালের বাকেরগঞ্জে ফাঁদে ফেলে ৪ বছরে ১১ জনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্তরঙ্গ অবস্থার ভিডিও চিত্র ধারণ করেছেন তিনি। এসব ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়েছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত বুধবার মামলা করেছেন এক স্কুলছাত্রীর মা। বরিশালের ঘটনাটি ছাড়াও চার জেলায় শিশুসহ চারজনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে  নিজস্ব প্রতিবেদকপ্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, বাকেরগঞ্জের অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নওরোজ হিরা সিকদার। তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের ফাঁদে। এভাবে তিনি ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ জনকে ধর্ষণ করেছেন। ১২–১৮ বছর বয়সী ওই মেয়েদের বেশির ভাগই এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রী। আর ওই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সদস্য। তিনি মুঠোফোনে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে রাখতেন। পরবর্তী সময়ে সেগুলো দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। নওরোজের মুঠোফোনের মেমোরি কার্ডটি ১৭ অক্টোবর চুরি হয়ে যায়। ১৯ অক্টোবর থেকে ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় বুধবার এক স্কুলছাত্রীর মা মামলা করেন।

বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নকিব আকরাম হোসেন বলেন, নওরোজের এক ভাতিজিকেও আসামি করা হয়েছে। দুজনই পলাতক।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা-পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে দল বেঁধে এক নারীকে (৪০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তিনি শনিবার রাতে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ পবা উপজেলার মো. শুকুর (৪০), গোদাগাড়ী উপজেলার রনি (৩০) ও বাবুকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে। সবজি কেনার সূত্র ধরে তাঁদের একজনের সঙ্গে পরিচয় হয় তানোর উপজেলার ওই নারীর। পরিচিত ব্যক্তিটিকে বাড়তি টাকা দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সেই টাকা আনতে গোদাগাড়ীতে যান। সেখানে তাঁকে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনকে গতকাল রোববার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নৌকার ভেতরে প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৬) ধর্ষণের অভিযোগে বোরহান উদ্দিন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুজনের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। ওই নারী শনিবার বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। একটি ঘাটে দেখা হয় পূর্বপরিচিত বোরহানের সঙ্গে। তিনিও একই গ্রামে যাওয়ার কথা বলেন। দুজন মিলে নৌকা ভাড়া করেন। তার ভেতরেই ধর্ষণ করেন বোরহান। করিমগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, ওই নারী গতকাল মামলা করেছেন। বোরহানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাচিকে (৫০) ধর্ষণের অভিযোগে সফিকুল ইসলাম (৩৮) নামের একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ওই নারীর ঘরের দরজার কড়া নাড়েন সফিকুল। দরজা খুললে সফিকুল ঘরে ঢুকে পড়েন। ওই নারীকে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান তিনি। কালীগঞ্জ থানার এসআই নেছার উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর থেকে সফিকুল পলাতক।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানা-পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে শনিবার মামলা হয়েছে। ২১ অক্টোবর রাতে মেয়েটি শৌচাগারে যাচ্ছিল। তখন স্থানীয় বখাটে একলাছ মিয়া (২৬) একজনের সহযোগিতায় মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যান। পাশের ধানখেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন একলাছ। কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ খান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।