গাইবান্ধায় করোনায় মোট আক্রান্ত ৩৯৩ সুস্থ্য ১৩৭ মৃত্যু ৯

প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০ | আপডেট: ১:৩৯:অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

আশরাফুল ইসলাম। গাইবান্ধায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই যেন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে কোভিড- ১৯। গতকাল ৩ জুলাই শুক্রবার একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড ১০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১০৫ জন। সব মিলিয়ে গাইবান্ধায় মোট আক্রান্ত বেড়ে ৩৯৩ জনে পৌঁছলো, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে ৪ জুলাই শনিবার গাইবান্ধায় মোট করোনা আক্রান্ত ৩৯৩ জন মানুষ। তবে জেলায় ২৪ ঘন্টায় শতকের ঘর পেরিয়ে কোভিড- ১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা ১০৫ জন এই প্রথম। আজই প্রথম একদিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিললো। তবে করোনার সংক্রমণের মধ্যেই আশার আলো এর সুস্থতার সংখ্যা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এ পর্যন্ত জেলায় ১৩৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন । গাইবান্ধায় করোনাজয়ী ১৩৭ জনের মধ্যে গাইবান্ধা সদরে ২৮ জন, সুন্দরগঞ্জে ০৯ জন, সাদুল্লাপুরে ১৬ জন, গোবিন্দগঞ্জে ৫৭ জন, সাঘাটায় ১২ জন, পলাশবাড়ীতে ১১ জন ও ফুলছড়িতে ৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ৩ জুলাই শুক্রবার নতুন করে আক্রান্ত ১০৫ জনের মধ্যে পলাশবাড়ীতে ১০ জন, ফুলছড়িতে ৭ জন, সাদুল্লাপুরে ৩ জন, সদরে ২৫ জন, সুন্দরগঞ্জে ১০ জন, সাঘাটায় ৭ জন এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৪৩ জন রয়েছেন। জেলার ৭ উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্ত ৩৯৩ জনের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে সর্বাধিক ১৭৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সদরে ৬৯, পলাশবাড়ীতে ৪৫, সাদুল্লাপুরে ৩৬, সাঘাটায় ২৫, সুন্দরগঞ্জে ২৮ এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ১৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
গাইবান্ধায় বর্তমানে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ২৪৭ জন বিভিন্ন আইসোলেশনে চিকিৎসা  নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৪১ জন গাইবান্ধা সদরে, সুন্দরগঞ্জে ১৮ জন, সাদুল্লাপুরে ১৯ জন, গোবিন্দগঞ্জে ১১১ জন, সাঘাটায় ১৩ জন, পলাশবাড়ীতে ৩২ জন ও ফুলছড়িতে ১৩ জন। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। এদেরমধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৪ জন, সদরে ১ জন, সাদুল্লাপুরে ১ জন, পলাশবাড়ীতে ২ জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ জানান, ‘গত ১৫ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলায় সংগৃহিত ৫৫৩টি নমুনা এবং পরবর্তী সময়ে আরও ২৮টি নমুনাসহ মোট ৫৮১টি নমুনা ঢাকা, বগুড়া ও রংপুর পিসিআর ল্যাবে করোনা পরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ৩ জুলাই শুক্রবার একসাথে ওই ৫৮১টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়। এতে ১০৫ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। তিনি বলেন, ‘পজিটিভ কেসগুলোর অধিকাংশই এখন সুস্থ হওয়ার পথে। প্রতিদিনের রিপোর্ট প্রতিদিন পাওয়া গেলে হয় তো একত্রে এতবেশী সংখ্যক পজিটিভ রোগী একসাথে রিপোর্ট করতে হতো না’। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।