২০ লাখ টাকার অফারেও শেষ রক্ষা হয়নি কুকীর্তির নায়ক আকবরের

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২০

এলটিএন, সিলেট। মূল ওয়েছ খসরু। বরখাস্ত হওয়া এস আই আকবরের সঙ্গে পাওয়া গেছে দুই মেয়ে বন্ধুর ছবি। সবার প্রশ্ন এরা কারা? কারণ আকবর ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত। পুলিশের রেকর্ডেও সে বিবাহিত নয়। তবে ভারতীয় খাসিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এক মহিলার ছবি দেখিয়ে বলেছিল- ওই মহিলা তার স্ত্রী। আকবরের মোবাইল ফোন, বাংলাদেশ ও ভারতের চারটি সিম কার্ড এবং দুই মেয়ের ছবি এখনো ভারতীয় খাসিয়াদের কাছে রয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ভারতীয় খাসিয়া উমেশ এই ছবি ও মোবাইল ফোন দেখিয়ে বলেছে এগুলো আকবরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো এখন তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন উমেশ। এদিকে আকবরকে নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই সিলেটে।আকবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে আটকের কাহিনী নিয়ে নানা মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। সীমান্তের সোর্স সূত্র জানিয়েছে, সিলেট জেলা পুলিশ ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সোর্স মারফত আকবরকে শিলচর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে আসেন। আর সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। গোপাল নামের শিলচরের এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে আশ্রয় নিয়েছিল আকবর।

এরপর গোপালই টাকার বিনিময়ে তাকে ডোনা সীমান্তে খাসিয়া ও পুলিশের সীমান্তবর্তী সোর্সদের কাছে হস্তান্তর করেছে। কানাইঘাটের পুলিশের সোর্স রহিমউদ্দিন খাসিয়াদের সঙ্গে নিয়ে গোপালের সঙ্গে এই যোগাযোগ করে। এবং আটক হওয়ার পর এসআই আকবর তাকে ছেড়ে দিতে ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু রহিমউদ্দিনসহ তারা ৫ জন এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আকবরকে সিলেট জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেন। রায়হান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরের বাড়ি আশুগঞ্জে। প্রথমে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় এবং পরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তার পোস্টিং হয়। ব্যক্তিগত জীবনে আকবর ছিল অবিবাহিত। কয়েক মাস ধরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু আকবর সময়ক্ষেপণ করেছে। পরিবারের কথায় মত কিংবা অমত কিছুই জানায়নি।

এই অবস্থায় সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরবাজার ফাঁড়িতে দাপটের সঙ্গে চাকরি করেছে আকবর। স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহল তার আচরণে অসন্তুষ্ট থাকলেও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে সে ফাঁড়ি ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছিল। তবে রায়হান খুনের ঘটনার পর পলাতক হলে তার নানা অপকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় হয়। এর মধ্যে অনেক সময় অনেক মেয়ের সঙ্গে নানা ভঙ্গিমায়ও তার ছবি দেখা যায়। সিলেটের আঞ্চলিক নাটকে অভিনয় করতো আকবর।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ফাঁড়ির ইনচার্জ হওয়ার কারণে আকবর বন্দরবাজার এলাকায় ছিল বেপরোয়া। বন্দরবাজার এলাকার অনেক আবাসিক হোটেলে সে রাত-বিরাতে যাতায়াত করতো। তার শেল্টারে এসব হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলতো। রায়হান খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ২৯ দিন পলাতক থাকার পর সোমবার সিলেট জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর। এর আগে সে ভারতে ছিল। আসামের শিলচর থেকে তাকে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার আগে এসআই আকবরকে ভারতীয় খাসিয়া ও সীমান্তের সোর্সরা জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে একজন হচ্ছে মেঘালয়ের ডোনাবস্তির উমেশ। আকবরকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসার পর খাসিয়ারাও তাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।

এ সময় খাসিয়া ও বাঙালিরা মিলে আকবরকে রায়হান খুনের ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা চড়-থাপ্পড়ও দেন। এ সময় ডোনাবস্তির উমেশ এসআই আকবরের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও ম্যানিব্যাগ নিয়ে নেন। গতকাল ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, উমেশ এসআই আকবরের মোবাইল ফোন দেখাচ্ছিল। আর বলছিল- এই ফোনের সঙ্গে ৪টি সিম পাওয়া গেছে। এছাড়া দুই মেয়ের ছবি দেখায়। ২০-২২ বছর বয়সী ওই মেয়ের মধ্যে একজনকে এসআই আকবর তার স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়েছিল। অন্যজনের ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। এগুলো উমেশের কাছে রয়েছে বলে জানায় সে। আকবরের এই দুই মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে সিলেটে আলোচনা চলছে। এদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে জানা গেছে- আকবর অবিবাহিত ছিল। সে বিয়ে করে থাকলে তার রেকর্ডে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তার বসবাসের জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু আকবর ওই কক্ষে বসবাস করতো না। সে নগরীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একাই বসবাস করতো।