ইংল্যান্ডে সেপ্টেম্বরে স্কুল খুলবে,বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পরিবারের সঙ্গে কাজ করার তাগিদ গ্যাভিন উইলিয়ামসনের

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০ | আপডেট: ৬:২০:অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

মাস্টার সৈয়দ আবদুল কাদির । কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস যুক্তরাজ্যের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর গত ১ লা জুন ২০২০ থেকে কেবল মাত্র প্রাইমারী স্কুল গুলো খোলা হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। করোনা ভাইরাস নামক মরণব্যাধির আতঙ্কে বেশিরভাগ অভিভাবক ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে নারাজ ছিলেন। বর্তমানে প্রাইমারী স্কুল গুলো কি ওয়ার্কারদের ছেলে-মেয়ে এবং ক্লাস সিক্স, ক্লাস ওয়ান, রিসেপশন ক্লাস ও নার্সারি ক্লাসের কিছুসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নিয়েই খোলা থাকবে সামার হলিডের পূর্ব পর্যন্ত।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন মেনে ব্রিটেনের সকল স্কুল খোলার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য এডুকেশন সেক্রেটারি গ্যাভিন উইলিয়ামসন পরিবার ও সকল স্টেক হোল্ডারদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন।

ইতোমধ্যেই প্রতিটি বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে, খেলার মাঠে এবং ডাইনিং হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সতর্কিকরণের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, যথানিয়মে হাত পরিষ্কার করার নিয়মাবলী ও নির্দেশনা প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্থানীয় কতৃপক্ষ বলেছে, শিশুদের মাঝে ২ মিটার (৬ফুট) সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হবে এবং অনেক স্কুলে শ্রেনীকক্ষের স্পেস কম হওয়ায় ছাত্র কমিয়ে ক্লাসের আকার ছোট করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক দূরত্ব এখন ২ মিটার থেকে ১ মিটার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেছে, তারা ২ মিটার দুরত্ব বজায় রাখতে পারছে না, অন্যথায় তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে।

নতুন নিয়মের মধ্যে সোসিয়াল ডিস্টেনস বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের স্মল গ্রুপ আকারে রাখা, যথাসম্ভব একটি গ্রুপের সাথে অন্যান্য গ্রুপের অবাধে মেলামেশা এড়ানো। কোন শিক্ষার্থীর দেহে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে অভিভাবকদের টেস্টিং কিট দেয়া হবে এবং যাদের প্রাদুর্ভাব রয়েছে তাঁদের জন্য প্রয়োজনে মোবাইল টেস্টিং ইউনিট প্রেরণ করা হবে। স্কুলের জন্য টেস্ট এন্ড ট্রাক পদ্ধতি ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের গণপরিবহনে নিরুৎসাহিত করা ইত্যাদি। তবে ছাত্র-ছাত্রী ও স্টাফদের জন্য বিদ্যালয়ের ভেতরে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয় ‌ অপরদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই লেস্টার সিটিতে দুই সপ্তাহের জন্য এলাকাভিত্তিক লকডাউন চলছে। এলাকাভিত্তিক লকডাউনের সম্ভাব্য তালিকায় লন্ডনের বিভিন্ন বারাসহ অন্যান্য সিটিও রয়েছে। তবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির উপর। গভর্নমেন্ট এর গাইড লাইন যথাযথভাবে মেনে না চললে এবং যে এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে, সে এরিয়া প্রয়োজনে দু সাপ্তার জন্য এলাকা ভিত্তিক লকডাউনে যেতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমানে এক অজানা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য সরকার প্রদত্ত সকল গাইড লাইন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকবৃন্দ ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে আবার প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

 

সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইংল্যান্ডে স্কুলগুলো আবার খুলে দেয়া হচ্ছে-গাইড লাইনে যা আছে