ইতালিতে আবারো সম্পূর্ণ লকডাউন শুরুর প্রক্রিয়া চলছে

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৩:৫২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০

সীমা কাওসার আখী ইটালি থেকে।শুরু হলো পৃথিবী বদলে যাওয়ার অন্যতম কারণ করোনা ভাইরাস ,২০১৯ নভেম্বরে চীনের উহান শহরে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাস, আস্তে আস্তে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেল । প্রথম ধাপে ইতালিসহ অনেক দেশের লাখো লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে,এই নিষ্ঠুর করোনা ভাইরাস ।

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত ইতালি আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই গির্জাগুলোকে হাসপাতালে পরিণত করা হচ্ছে খোলা মাঠে আবারও হাসপাতাল বানানো হচ্ছে, জনমনে প্রকাণ্ড আতঙ্ক বিরাজ করছে । আস্তে আস্তে স্কুলগুলো খুললেও দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি স্কুলেই দু’সপ্তাহ পর অনেক স্টুডেন্ট করনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে । যার জন্য ইতালির অনেক শহরেই স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তাদের নিজ বাসায় অনলাইন ক্লাস নিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ।

ইতালিতে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা। দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণ শুরুর পর ইতিমধ্যে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ও মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কয়েকটি অঞ্চলে আবার নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। সংকট কাটাতে বিভিন্ন গির্জাকে চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গতকাল দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ জন।
মোট মারা গেছেন ৪৩ হাজার ৫৮৯জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যুবরণ করেছে ৬৩৬ জন। আতঙ্কে আছে গোটা ইতালির জনগণ ।

এই সপ্তাহে,বৃহস্পতিবার টেস্ট করা দুই লাখ ৩৬ হাজার ৬৭২ জনের মধ্যে,আক্রান্ত ৩৭ হাজার ৯৭৮জন। একই সঙ্গে দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা,প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়া প
গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৩ হাজার ১৭০ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইতিমধ্যে গত ৬ নভেম্বর থেকে দেশের নয়টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও চারটি বিভাগীয় অঞ্চলকে ১৫ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে ইতালির সরকার। প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত এক অধ্যাদেশে বলা হয়েছে,যে অতীতের মতো আবারো সমগ্র ইতালিকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যেসব অঞ্চলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে সেসব অঞ্চলকে রেড জোনের তালিকায় আনা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা একটু কম এমন অঞ্চলকে কমলা জোন এবং যেসব অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম, সেসব অঞ্চলকে হলুদ জোনের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে রেড জোনের
তালিকাভুক্ত মিলানের বিভাগীয় অঞ্চল লোম্বারদিয়া, পিয়েমন্তে, ভালে দি অস্তা ও কালাব্রিয়া এ চারটি অঞ্চলে গত শুক্রবার থেকে জারি করা হয়েছে লকডাউন।

দেশটির সরকারের ঘোষিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী লকডাউনের সময় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া,এসব অঞ্চলের কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না । তার পরেও যে কোন প্রয়োজনে বের হলে সরকারের দেয়া ফরম ফিলাপ করে সাথে রাখতে হবে যে ফরমটি যার যার এলাকার সিটি পুলিশের ওয়েবসাইটে থাকবে ।
এছাড়াও এ সময় রেড জোনের তালিকাভুক্ত অঞ্চল থেকে কেউ হলুদ বা কমলা জোনে যেতে ও আসতে পারবে না। তবে শুধুমাত্র চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রমাণসহ অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবে। তবে, এসব অঞ্চলে মুদি দোকান ও ফার্মেসিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান খোলা থাকবে। কোন কোন এলাকায় ছোট বাচ্চাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।অনেক স্বাস্থ্যসম্মত দিকগুলো বিবেচনা করেই শেষ হবে স্কুল চালানো হচ্ছে ।
রেস্টুরেন্ট, বার চালু থাকবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত । তবে রেস্টুরেন্টের ভেতরে বসে কেউ খেতে পারবেনা, শুধুমাত্র অনলাইন এবং ফোনের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করে বাসায় আনার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

দীর্ঘ এই প্যানডেমিক আস্তে আস্তে অর্থনৈতিক অবস্থা যেরকম দুর্বল করছে, বেকার হয়ে পড়ছে অনেক চাকরিজীবী মানুষ,বন্ধ হচ্ছে মিল-কারখানাসহ হোটেল রেস্টুরেন্ট, ডিস্কোবার, সিনেমা হল,ক্যাসিনোসহ বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো ।এদিকে করোনার প্রভাবে ইতালির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও কিছুটাভেঙে পড়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন মানুষকে শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা দিতে , ডাক্তার-নার্সের রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধের কমতি নেই একটি কথা আছে ইতালি দেশ,সে দেশে মানুষ চিকিৎসার অভাবে এবং খাদ্যের অভাবে মৃত্যু বরণ করেনি কখনো আগামীতেও করবে না ।কিন্তু যে হারে করোনাভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে সে হারে কতটুকু স্বাস্থ্য সেবা সম্পূর্ণ ধরে রাখবে সেটাই দেখার বিষয় । কিছু কিছু হসপিটালের সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রোগীর চাপে অনেক হাসপাতালে জায়গা নেই, বাহিরে অ্যাম্বুলেন্সের বড় লাইন বিশেষ করে বৃদ্ধদের এবারও আক্রান্ত করছেন অনেক বেশী ভাব নেয় ছোট শিশুরাও ।

দেশের তোরিনোসহ কয়েকটি অঞ্চলে গির্জা গুলোতে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের লাইন লেগেই আছে। এমনইএকটি ছবি কয়েকদিন যাবত ইতালির বিভিন্ন মিডিয়ায় আলোচিত হচ্ছে। দেশটির নেপোলিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরে অপেক্ষারত অ্যাম্বুলেন্সে করোনারোগীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এমতবস্থায় সরকার দেশের হোটেলগুলোকে করোনা হাসপাতাল তৈরির চিন্তাভাবনা করছে।

এমতাবস্থায় করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যু সংখ্যা দিন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায়,নতুন আইন আসতে পারে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে লাল, কমলা এবং হলুল রংয়ের পরিবর্তন করা হবে। তবে দেশটির চিকিৎসক সংগঠন আগের মতোই সারা দেশে টোটাল লকডাউন দেয়ার জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছে।
আপাতত এখনও সম্পূর্ণ লকডাউন দিবে কিনা,সে ব্যাপারে কোনো আদেশ জারি হয়নি ।