কাউন্সিলকে অবৈধ দাবি হেফাজতের প্রয়াত আল্লামা শফীর অনুসারীদের

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০ | আপডেট: ৩:২৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

এলটিএন হাটহাজারী।আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলকে অবৈধ আখ্যায়িত করে এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমীর আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত নেতারা।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা মিলনায়তনে নতুন কমিটি ঘোষণার পর গণমাধ্যমকে প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন তারা।

এর আগে শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের ব্যাপারে আপত্তি করেছিলেন হেফাজতের কয়েকজন নায়েবে আমীর ও যুগ্মমহাসচিব।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষাভবনের ৩য় তলায় শুরু হয় প্রতিনিধি সম্মেলন।

এতে সভাপতিত্ব করেছেন আল্লামা শফীর জীবদ্দশায় হেফাজত থেকে পদত্যাগকারী সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। কিন্তু এতে আমন্ত্রণ না পেয়ে অংশ নেনি অন্যতম নায়েবে আমীর মুফতি ওয়াক্কাস, যুগ্মমহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

রোববার সন্ধ্যায় হেফাজতের নায়েবে আমীর মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, আমি কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির, ঢাকা মহানগরী কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অথচ আমাকে এখন পর্যন্ত কোনো কিছু জানানো হয়নি।

একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এ কাউন্সিল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, আল্লামা শফীর অবর্তমানে এখন একজন আমীর নিযুক্ত করাই ছিল প্রধান কাজ। কিন্তু তা না করে পুরো কমিটি বিলুপ্ত করা হল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাবে একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এটি করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। যারা চায় না দেশের আলেমরা এক থাকুক।

ঘোষিত এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী বলেন, তারা একতরফাভাবে সম্মেলন করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং তাতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির ৬৫ জন নেতাকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

আমরা এই সম্মেলনকে অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ মনে করি। এজন্য আমরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি।

খুব শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে নিজেদের কর্মপদ্ধতি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ দুই নেতা।

এর আগে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রয়াত আমীর আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারীরা দাবি করেন, কওমি অঙ্গন ও আল্লামা আহমদ শফীর চরম বিরোধী ভাণ্ডারীদের মাধ্যমে হেফাজত দখলের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ পঠিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হেফাজতের ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত করে যারা হেফাজতকে একটি চিহ্নিত মহলের ক্রীড়নকে পরিণত করতে চাচ্ছে- অচিরেই জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে ইনশাআল্লাহ।

হেফাজতের মূলধারাকে বাদ দিয়ে যারা হেফাজতের একজন পদত্যাগী নেতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এই ঈমানি সংগঠনকে দ্বিখণ্ডিত করার ষড়যন্ত্র করছে- এ দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ বিশেষত ওলামায়ে কেরাম তা কোনো দিনই মেনে নেবে না।

হেফাজতের ঐতিহ্য রক্ষায় আলেমদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, আমরা দেশবাসী বিশেষত ওলামায়ে কেরামকে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। স্পষ্টভাবে বলছি, একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হেফাজতের কাউন্সিলের নামে একতরফাভাবে কাউকে দায়িত্ব দিলে তা এ দেশের ওলামায়ে কেরাম মেনে নেবে না।