সিলেট সীমান্তে ৩ মাসে ৪ বাংলাদেশি হত্যা

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০ | আপডেট: ১১:২১:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

নিজস্ব সংবাদ দাতা।গত তিন মাসে ভারতে অনুপ্রবেশের পর ভারতীয় খাসিয়া নাগরিক ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে চার বাংলাদেশি নিহত ও আট জন আহত হয়েছেন।

ভারতীয় সীমানার ভেতরে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সিলেট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ ইউসুফ জামিল।

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে টহল জোরদার করা ছাড়াও গৃহীত উদ্যোগের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অনাকাঙ্খিত সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে প্রতিপক্ষ বিএসএফকে নিন্দামূলক প্রতিবাদলিপি পাঠানোসহ অপরাধী বা হত্যাকারী খাসিয়াদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে তাগাদা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

‘সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিরুৎসাহিত করার জন্য সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনৈতিকভাবে তাদেরকে স্বাবলম্বী করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধিসহ এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে’ বলেও যোগ করেন তিনি।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক আরও জানান, গত ২৩ মে থেকে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, চুরি ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে ভারতে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার কারণে সীমান্তবর্তী জনসাধারণ কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই তাদের অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত রাখা জরুরি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বিজিবি সিলেট সেক্টরের উদ্যোগে সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী অসহায় ও হতদরিদ্র জনসাধারণের বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ‘আলোকিত সীমান্ত’ প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র জনসাধারণের মধ্য থেকে আগ্রহী জনসাধারণকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যোক্তা নির্বাচনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।