ম্যাক্রোঁর ফের দাবি-ইসলামের বিরুদ্ধে আমি কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিইনি, সব দোষ তুরষ্কের

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩০:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ, ইউরোপ এডিশন। এএফপি সংবাদ। ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেননি বলে দাবি করেছেন ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।  তিনি বলেন, ‘আমি আসলে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিইনি, আমি বক্তব্য দিয়েছি ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। ’

তার ওই বক্তব্য মুসলিম ব্রাদারহুড বিকৃত করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে বলে দাবি করেন ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট।প্যারিস ভিত্তিক সাপ্তাহিক একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে এ বক্তব্য শুক্রবার প্রকাশ করেছে এএফপি।

এএফপি জানায়, শুক্রবার আলোচিত ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের ম্যাগাজিন জিউন আফ্রিক। ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমি যখন ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তখন আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়। এটা মুসলিম ব্রাদারহুডের মাধ্যমে তুরস্ক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়।  যার কারণে এটা জনমতের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব সৃষ্টি করে।  এটা স্বাভাবিকভাবেই সাহারাসহ আফ্রিকাতেও তার প্রভাব পড়েছে।’

ওই সাক্ষাৎকারে তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি বক্তব্য দেন ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার অভিযোগ, আফ্রিকায় এন্টি ফ্রান্স সেন্টিমেন্ট গড়ে তুলতে তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়াও অর্থায়ন করছে।

তুরস্কের পাশাপাশি রাশিয়াও ফ্রান্সের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে আফ্রিকায় জনমত গঠন করেছে বলে দাবি করেন ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট।ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমি কোনো অর্বাচীন বিষয়ে কথা বলছি না।  অনেকেই বলেন, কে কণ্ঠ দেয়, কে ভিডিও বানায়, কে ফ্রেঞ্চ ভাষায় গণমাধ্যমে উপস্থাপন করে? -এগুলো রাশিয়া অথবা তুরস্ক অর্থায়ন করে।’

সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, গত মাসে নবী মুহাম্মদের একটি ব্যাঙ্গচিত্র  যখন প্যারিসে (ফ্রান্সের রাজধানী) স্কুলে একজন শিক্ষক তার ক্লাসে বৈধভাবে প্রদর্শন করেন সেটা নিয়ে তুরস্ক ভুল বুঝাবুঝি তৈরি করতে ব্যাপক অবদান রাখে।

গত কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া, লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তুরস্কের সঙ্গে ব্যাপক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রয়েছে ফ্রান্স।  তুরস্কের বিভিন্ন পদক্ষেপে সবার আগে সরব হচ্ছে তুরস্ক। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাতে তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে সেজন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এখনই তুরস্কের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়নি।

তোপের মুখে সুর নরম করেন ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট

মহানবীকে (সা.) বিদ্রূপ করে কার্টুন প্রকাশে সমর্থন ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে সৃষ্ট তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে সুর নরম করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, মহানবীকে (সা.) অবমাননা করে কার্টুন প্রকাশে মুসলমানদের অনুভূতি কেমন হতে পারে, তা বুঝেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

গত মাসে আলজাজিরা ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।   সাক্ষাৎকারে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা ফ্রান্সের কোনো সরকারি প্রকল্প বা উদ্যোগ ছিল না। এটি একটি বেসরকারি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংবাদপত্রের কাজ। পত্রিকাগুলো সরকারের অনুগত নয়। কার্টুন এঁকে রাসূলের (সা.) অবমাননা করায় মুসলমানদের অনুভূতি কেমন হতে পারে, তা আমি বুঝতে পারি।’

মহানবীর কার্টুন আঁকাকে সমর্থন করেন না জানিয়ে ম্যাক্রো জানান, তার সরকার এই কার্টুন আঁকাকে সমর্থন করবে না বলে জোর দিয়েছিলো। কিন্তু কথা বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় মানুষ মনে করেছে, তিনি কার্টুনগুলো সমর্থন করেন।

যারা ইসলাম বিকৃত করে তাদের আচরণে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলেও মন্তব্য করেন ফরাসি  প্রেসিডেন্ট।কয়েকদিন আগে খুন হওয়া ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এরপরই ফ্রান্সের মুসলিমরা ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তাদের ধর্মকে দমন করা ও ইসলামফোবিয়াকে বৈধতা দিতে চেষ্টা করছেন তিনি।

ম্যাঁক্রোর এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পরই তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ নিন্দা জানায়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা দরকার’।   তিনি ফ্রান্স পণ্য বয়কটের ডাক দেন।

পুরো মুসলিম বিশ্বেই ফরাসি পণ্য বয়কটের হিড়িক পড়ে যায়। দোকান থেকে ফরাসি পণ্য সরিয়ে ফেলছে অনেক খ্যাতনামা চেইন শপসহ বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

করোনা মহামারীকালে এই বয়কটের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আঁচ করতে পেরে আরব দেশগুলোর প্রতি পণ্য বয়কট বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে ফ্রান্স।