‘গোল্ডেন মনিরের’ বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র, ৬শ’ ভরি স্বর্ণ, কোটি টাকা জব্দ; ২০০ প্লটের সন্ধান

প্রকাশিত: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৭:৫৪:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ, ঢাকা এডিশন।রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় স্বর্ণব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে এই অভিযান চালানোর পর মনিরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে মনিরের বাসায় শুক্রবার রাতে অভিযানে যায় র‌্যাব। ছয়তলা বাড়িতে র‍্যাব-৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে শুক্রবার মধ্যরাতে শুরু হয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চলে।

র‌্যাব-৩ এর অপস অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক বলেন, মনিরের বাড়ি থেকে নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, ৪ লিটার মদ, ৮ কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র ও মদের পাশাপাশি ৯ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করেছে র‌্যাব।অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখায় মনিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান ফারজানা।

মনিরের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‌্যাব কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মনিরের বাড়িতে পাঁচটি গাড়ি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনটি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র নেই বলে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

মনিরের ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার উপর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। বাড্ডা, নিকেতন, কেরানীগঞ্জ, উত্তরা, নিকুঞ্জে দুইশর বেশি প্লট রয়েছে তার।

র‌্যাব জানিয়েছে, মনিরের বিরুদ্ধে রাজউকের সিল নকল করে ভূমিদস্যুতার একটি এবং দুদকের একটা মামলা রয়েছে।মনির একটি রাজনৈতিক দলে ‘অর্থ জোগানদাতা’ বলেও উল্লেখ করেছে র‌্যাব। রাজউক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে সে রাজউকের সিল জাল করে অনেক প্লট হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও চলমান আছে।
গোল্ডেন মনির মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী ও স্বর্ণ চোরাকারবারি বলে র‌্যাব জানতে পেরেছে। পাশাপাশি সে জমির দালালি করে। বিভিন্ন দেশ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে সে দেশে স্বর্ণ আমদানি করে। ঢাকার নতুন বাজারে তার একটি গাড়ির শো রুম আছে। মূলত এই শো রুমের আড়ালেই সব অপকর্ম করে।
র‌্যাব জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে, অস্ত্র ও মাদক আইনে মোট তিনটি মামলা করা হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য, দুদক, বিআরটিএ সিআইডি ও এনবিআরের কাছে চিঠি দেবে র‌্যাব।