দেশ চলবে মদিনা সনদ অনুযায়ী,সিলেটে হেফাজতের সমাবেশে ৩ দফা দাবি

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৮:১৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ। সিলেট এডিশন।সিলেটে শোডাউন দিলো হেফাজতে ইসলাম। সাবেক আমীর আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো তারা সিলেটে বিশাল জমায়েত করলো। তাদের এই শোডাউনে গতকাল শনিবার লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিলো সিলেট মহানগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠ এলাকা। সমাবেশের বিস্তৃতি কেবল মাদ্রাসা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেটি ছড়িয়ে পড়েছিল তালতলা থেকে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়। এতে করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট এলাকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, তালতলা এবং কীন ব্রিজ এলাকা। বিপুল সংখ্যক লোক সমাগমের কারণে ওই সব এলাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- এর ব্যঙ্গ চিত্রের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেট জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মূল মঞ্চ করা হয়েছিল রেজিস্ট্রারি মাঠের ভেতরে।সন্ধ্যার আগে সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

দাবিগুলো হলো- মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে হবে, সিলেটের হোটেলসমূহে মদের অনুমোদন বাতিল ও মাদকের অবাধ ছডাছডি বন্ধ করতে হবে এবং বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে ভাষণ দানকালে তিনি বলেন, মুসলিম হিসেবে আমরা সবাই ভাই ভাই। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ হচ্ছে আস্তিক ও অন্যভাগ নাস্তিক। সরকারের ভেতরেও নাস্তিকরা ঘাপটি মেরে বসে আছে। এরা হচ্ছে মূল সমস্যা। এরা শুধু হেফাজতের সমস্যা নয়, এরা সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশের জন্য সমস্যা। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম কারো দুশমন নয়। কারো সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের প্রতিযোগিতা নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ হেফাজতে ইসলামের নয়। তবে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে, তাদের বিরুদ্ধে হেফাজতের অবস্থান। একমাত্র আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে হেফাজতে ইসলাম কাজ করবে। সুতরাং নবীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে যে বেয়াদবি করা হয়েছে সেটির প্রতিবাদ বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে করতে হবে। রাসুলের জন্য কোটি কোটি জনতা রক্তের সাগরে ভাসতে প্রস্তুত। সমাবেশে হেফাজতের আমীর বলেন, কাদিয়ানিরা শুধু ইসলাম নয়, দেশ ও জাতির শত্রু। এরা মুসলমান পরিচয়ে মক্কা, মদিনা চলে যায়। সুতরাং কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। তাদেরকে কাফের ঘোষণার মাধ্যমে পবিত্র মক্কা ও মদিনা যাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে হবে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট জেলা শাখার আয়োজনে নগরের রেজিস্টারি মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সমাবেশস্থলের আশপাশের সড়কেও জমায়েত হন নেতা-কর্মীরা। গতকাল বিকেলে সুরমা পয়েন্টে

এদিকে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় রেজিস্ট্রারি মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। হেফাজতের আমীর তার ভাষণে এ সম্পর্কে বলেন, সমাবেশের স্থান সংকীর্ণ হলে কী হবে, আল্লাহর আকাশে আমাদের জন্য অফুরন্ত জায়গা রয়েছে। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর সম্মান রক্ষায় আমরা নিজেদের কোরবানি দিতেও প্রস্তুত আছি। ব্যঙ্গ চিত্রের জন্য ফ্রান্সকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। আমরা ফ্রান্সের এই আচরণ মানবো না, মানছি না। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

হেফাজতে ইসলাম সিলেট জেলার নায়েবে আমীর, প্রবীণ আলেম হযরত মাওলানা শায়খ জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উপদেষ্টা মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা রশীদুর রহমান ফারুক পীর সাহেব বরুনা, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ সিলেটের নেতারা। সমাবেশে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, এদেশের প্রতিটি মুসলমান, প্রতিটি তরুণ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হেফাজতে ইসলামের সদস্য। প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই দেশ চলবে মদীনা সনদ অনুযায়ী। তিনি বলেন, কোন দল বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য হেফাজতের উদ্দেশ্য নয়। হেফাজতের উদ্দেশ্য হলো রাসুল (সা.)-এর এজেন্ডা বাস্তবায়ন। ইসলাম, ঈমান আকিদা রক্ষার কাজ হেফাজত করবে। আল্লামা বাবুনগরী সিলেটবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সিলেটবাসী হেফাজতের সঙ্গে থাকেন। তিনি সিলেটের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা, ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের সিলেট জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলার নায়েবে আমীর ইউসূফ কাসেমী ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এই দাবির মধ্যে সিলেটের রায়হান হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা বলা হয়। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভার্থখলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফিজ মইজদউদ্দিন আহমদ। এদিকে হেফাজতের সমাবেশে যোগ দেননি কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সিলেটের সভাপতি, সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি আল্লামা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী। শুক্রবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি সমাবেশে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দেন। সমাবেশ নিয়ে কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীর আচরণের কারণে তিনি যোগ দেননি বলে জানা গেছে। তবে তিনি জানান, হেফাজতের সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন। এদিকে  হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের কারণে সিলেট নগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরের পর থেকে নগরীসহ আশেপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন মুসল্লিরা। বিভিন্ন মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মিছিল নিয়ে আসা হয় সমাবেশস্থলে। এ কারণে সিলেট নগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে সমাবেশ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

হেফাজতে ইসলাম সিলেটের অন্যতম নেতা হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, প্রিন্সিপাল মাওলানা সামিউর রহমান মুসা ও মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- শায়খুল হাদিস মুফতি মুজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস মাওলানা আউলিয়া হোসাইন, মাওলানা শায়খ আবদুল বাসির, মহানগর হেফাজত নেতা হাফিজ মাওলানা নূরুজ্জামান, মাওলানা খলিলুর রহমান, অধ্যাপক বজলুর রহমান, জেলা হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মাওলানা আহমদ বেলাল, মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ, হাফিজ আবদুর রহমান সিদ্দিকী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা নাসির উদ্দিন, কারী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানিগঞ্জী, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আহমদ সগীর, মওলানা ইউসুফ খাদিমানী, মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা সাইফুল্লাহ, মাওলানা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ,মাওলানা আবদুল মালিক কাসিমী,মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াস, মাওলানা মুজিবুর রহমান কাসিমী, হাফিজ মাওলানা ফখরুজ্জামান, মাওলানা এবাদুর রহমান, মাওলানা আবদুল গফফার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা এমরান আলম, মাওলানা ইকবাল আহমদ, মাওলানা আবদুস সামাদ, মাওলানা সুহাইল আহমদ, মাওলানা মুশাহিদ খালপারী, মাওলানা আলী আমদ, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন, মাওলানা মাসুক আহমদ সালামী, মাওলানা জিল্লুর রহমান, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী, মাওলানা হাফিজ জামিল আহমদ আনসারী, মাওলানা এহতেশাম কাসিমী, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা তালিব উদ্দীন, মাওলানা আলী আহমদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা নূর আহমদ কাসিমী, মাওলানা ফাহাদ আমান, মাওলানা আবদুল্লাহ নেজামী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা হাফিজ আলী আহমদ, মাওলানা আমীন উদ্দীন, মাওলানা আবদুল মুছাব্বির, মাওলানা মাওলানা কয়েছ আহমদ, মাওলানা পীর আবদুল জব্বার, মাওলানা আফতাব উদ্দীন নোমানী, মাওলানা নাজিম উদ্দিন, মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমীর, রোটারিয়ান মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা নাজমুল হোসাইন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কবীর আহমদ খান, হাজী আব্বাস উদ্দীন জালালী, মাওলানা ইমদাদুল হক, মাওলানা আলী আবিদীন, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, হাফিজ ফুজায়েল আহমদ, মাওলানা তারেক আহমদ, মাওলানা একরামুল হক জুনাইদ ও মাওলানা লুৎফুর রহমান প্রমুখ।