কৃষক-পুলিশ সংঘর্ষে উত্তপ্ত হরিয়ানা

প্রকাশিত: ৮:১০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৮:১০:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

এলটিএন, টিটিএন।‘দিল্লি চলো’ আন্দোলনে অংশ নিতে পায়ে হেঁটে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হচ্ছেন কৃষকরা। নতুন কৃষক আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের রাজধানী দিল্লিতে দুই দিনের সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা।

এদিকে, কয়েক হাজার কৃষকের একটি দল হরিয়ানায় প্রবেশ করার পর পুলিশ তাদের দিল্লি যেতে বাধা দিচ্ছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া কৃষকদের ওপর জলকামান এবং টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে পুলিশ।এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা পুলিশের বেরিকেড ভেঙে ব্রিজ থেকে নদীতে ছুড়ে ফেলেছে। তারা লাঠি-সোটা, ইট নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে।

প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পুলিশে এবং কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়ার উদ্দেশে পাঞ্জাব দিয়ে দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু পুলিশ তাদের পাঞ্জাবে যেতে বাধা দিচ্ছে।

নতুন কৃষক আইনের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন ভয় থেকেই রাস্তায় নেমে এসেছেন দরিদ্র এই কৃষকরা। কিন্তু তাদের সমাবেশে বাধা দিয়ে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে।

পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় দেখা গেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা বেরিকেড তুলে তা পানিতে ফেলে দিচ্ছে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথড় ছুড়ছে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা সামনে অগ্রসর হতে চাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ সমাবেশে অংশ নেওয়া কৃষকের পথ রোধ করে রেখেছে।কৃষকদের বাধা দিতে হরিয়ানা পুলিশ একটি ব্রিজের মাঝখানে ট্রাক রেখে দিয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেই ট্রাক সরাতে সক্ষম হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, উত্তরাখন্ড, রাজস্থান, কেরালা এবং পাঞ্জাব থেকে কৃষকরা এই সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে, কৃষকদের বাধা দিতে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তারের নির্দেশে ওই রাজ্যের সঙ্গে গতকাল পাঞ্জাবের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করতে আগে থেকেই জল কামান, দাঙ্গা গাড়ি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করে রাখা হয়েছিল। হরিয়ানায় বড় ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। এমনকি হরিয়ানা থেকে পাঞ্জাবগামী সব ধরনের বাস সেবা দু’দিনের জন্য বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার রাতে হরিয়ানা পুলিশ কমপক্ষে দু’বার বিক্ষোভকারীদের ওপর জল কামান নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর ঠাণ্ডা পানি নিক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুতেই বিক্ষোভকারীদের দমানো যায়নি।

ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন দাবি করেছে, তাদের এই সমাবেশে দুই লাখের বেশি কৃষক অংশ নেবে। দু’দিনের সমাবেশে অংশ নিতে খাবার, সবজি, কাঠ এবং কম্বল নিয়েই রওনা দিয়েছেন কৃষকরা।