ট্রায়ালে ভুল স্বীকারের পর প্রশ্নের মুখে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন সাফল্য

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ।চলতি সপ্তাহেই অ্যাস্ট্রাজেনেকা- অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের ৯০ শতাংশ সফলতার খবরে বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয় খুশির জোয়ার। সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তে নেমে আসে যুক্তরাজ্যে। তাইতো একটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিরোনাম করে ‘দ্রুত টিকাটি নিয়ে ফেলুন’ কারণ নতুন টিকাটির দাম হবে এক কাপ কফির চাইতেও কম।

কিন্তু, শেষ ট্রায়ালের সেই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর সেখানে নিজেদের একটি বড় ভুল স্বীকার করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের গ্রহণ করা ডোজ সম্পর্কে সেখানে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়নি, বলেই তারা উল্লেখ করে। এই প্রেক্ষিতেই চূড়ান্ত বিশ্লেষণ ও অন্যান্য পরীক্ষায় টিকাটি উৎরে যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

তবে বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রায়ালের তথ্যগত ভুল ধারাবাহিকভাবে কিছু অনিয়ম এবং কিছু বিষয় উল্লেখ না করার ফলেই হয়েছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এভাবে তথ্য প্রকাশ করায় নষ্ট হয়েছে তাদের প্রকাশিত ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতাও।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও বলেছেন ফলাফল স্বচ্ছভাবে প্রকাশ হয়নি। বিশেষ করে, কোম্পানিটি সরাসরি তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেনি। বরং টিকা গবেষণা সমন্বয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান কর্মকর্তা সবার আগে ফল প্রকাশ করেন। ইতিবাচক দাবিতে প্রকাশিত ফলে বয়স্কদের দেহে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকাটি কার্যকর হয়েছে কিনা- সেটাও স্পষ্ট নয়।

এই সকল ঘাটতির কারণে টিকাটি যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য দেশের নিয়ামক সংস্থার অনুমোদন পেতে সমস্যার মুখে পড়বে বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। ফলে মহামারি নিয়ন্ত্রণের বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরেকদফা হোঁচট খাবে।

বিনিয়োগ ব্যাংক এসভিবি লিরিঙ্কের বিশ্লেষক জিওফ্রি পোরজেস বলেন, ‘এতে করে কোম্পানিটির সামগ্রিক টিকা গবেষণার উদ্যোগের ওপর আস্থা কমেছে।’

এব্যাপারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার মুখপাত্র মিশেল মেইক্সেল অবশ্য দাবি করেন, ‘সর্বোচ্চ মান অনুসরণ করেই ট্রায়াল সম্পন্ন করা হয়েছে।’

গত বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের শীর্ষ নির্বাহী মেনেলাস প্যাঙ্গোলাস কোম্পানিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান সমালোচনা খণ্ডনের চেষ্টা করেন।

এসময় তিনি জানান, ডোজ সম্পর্কিত অনিয়ম ট্রায়াল পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ একটি সহকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় হয়। বিষয়টি জানার সঙ্গেসঙ্গেই নিয়ামক সংস্থাকে তা জানানো হয় এবং পরীক্ষার কর্মসূচি থেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে ডোজ দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল করা হয়।

টিকার ফলাফলের তথ্য কেন সবার আগে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের জানানো হলো- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”অন্যান্য বৈজ্ঞানিকদের পর্বেক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশিত জার্নালেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। তার আগে, সংবাদপত্রে প্রকাশ করা সঠিক নয়।”

কোম্পানিটির বিবৃতির বিষয়ে ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলিজি অ্যান্ড ইম্ম্যিউনোলজির অধ্যাপক জন মুর বলেন, ‘সতি বলতে কী, অ্যাস্ট্রাজেনেকার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উত্তরের চাইতে বেশি প্রশ্নেরই জন্ম দিয়েছে।’

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-পরিসংখ্যানবিদ নাতালিয়া ডিনের মতে, ‘ট্রায়ালের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া এবং তার পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোম্পানিটি নিম্ন মানের গ্রেড পাওয়ার মতো কাজ করেছে।’

আস্ট্রাজেনেকার টিকার কম খরচের কারণে উন্নয়নশীল অনেক দেশ টিকাটি নিয়ে আস্থা রেখেছিল। প্রতিবেশী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউড এর শতকোটি ডোজ উৎপাদনে লাইসেন্স নিয়েছে। বাংলাদেশেও টিকাটি উৎপাদন ও বিপণনে সেরামের সঙ্গে চুক্তি করে স্থানীয় ফার্মা জায়ান্ট বেক্সিমকো।