শবনম ফারিয়ার বিয়ে বিচ্ছেদ

প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০ | আপডেট: ২:০৯:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

এলটিএন বিনোদন।বিয়ের ঠিক এক বছর নয় মাসের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার। বর হারুন অর রশীদ অপুকে ২৭ নভেম্বর ডিভোর্স দেন তিনি। দুজনের সম্মতিতেই এই বিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শবনম ফারিয়া। ছবি : ফেসবুক থেকে

এ প্রসঙ্গে শবনম ফারিয়া বলেন, এই বিচ্ছেদের পেছনে উল্লে­খযোগ্য কারণ নেই। একে অপরের প্রতি কোনো অভিযোগও নেই। দুজনেই চেয়েছি নিজেদের মতো ভালো থাকতে। তাই আলাদা হয়ে গেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি আর অপু অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করেছি একসঙ্গে থাকতে! কিন্তু বিষয়টা একটা পর্যায়ে খুব কঠিন হয়ে যায়। চলতি বছরের শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা আর একসঙ্গে থাকতে চাই না। দুজনেরই সমস্যা হচ্ছিল। তাই বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটিয়েছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি চাকরিজীবী হারুন অর রশীদ অপু। এর আগে ২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এরপর বন্ধুত্ব এবং প্রেম। তিন বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আংটি বদল হয় তাদের।

বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ এক পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, ‘আমাদের জীবনে কিছু মানুষ আসে। তাদের কেউ কেউ স্থায়ী হয়, কেউ কেউ কিছু কারণে স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারে না। আমার মা সব সময় একটা কথা বলেন, “আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না, আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি!” ঠিক সেভাবেই আমি আর অপু অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দেখলাম, বিষয়টা একপর্যায়ে খুব কঠিন হয়ে যায়। “মানুষ কী বলবে” ভেবে নিজেদের ওপর একটু বেশিই টর্চার করে ফেলছিলাম আমরা। “জীবনটা অনেক ছোট, এত কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার কী দরকার?” ভেবে এ বছরের শুরু থেকেই সিদ্ধান্তে আসি, আমরা আর একসঙ্গে থেকে কষ্টে করতে চাই না। তবু পরস্পরকে বুঝতে বছরখানেক সময় নিয়েছি। ফাইনালি “আল্লাহ্ যা করেন ভালোর জন্যেই করেন” ভেবে আমরা আমাদের প্রায় আড়াই বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে আবারও পুরানো বন্ধুত্বে ফিরে গেছি। অপুর জন্যে দোয়া, ভালোবাসা আর শুভকামনা। যে সুখের জন্যে আমরা আলাদা হলাম, আমরা যেন সেই সুখ খুঁজে পাই, সবাই সেই দোয়া করবেন।’

‘দেবী’ ছবিটি দেখে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে আবেগে পরস্পরকে আলিঙ্গন করেছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি ছবিটি শেয়ার করেন ফারিয়া

‘দেবী’ ছবিটি দেখে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে আবেগে পরস্পরকে আলিঙ্গন করেছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি ছবিটি শেয়ার করেন ফারিয়া

ঘটনাকে অন্যভাবে না ভাবার অনুরোধ জানিয়ে ফারিয়া লিখেছেন, ‘দয়া করে “মিডিয়ার বিয়ে টেকে না” ধরনের কথা বলে আমাদের কারণে আমার অন্য সহকর্মীদের ছোট করবেন না। আমরা সম্পূর্ণ “পারিবারিক কারণে”, পারিবারিকভাবে, পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ের মতো ইনস্টিটিউশন থেকে বের হয়ে এসেছি। আমাদের কখনো ভালোবাসা বা বিশ্বাসের অভাব ছিল না, হবেও না। দুজন মানুষের বিবাহবিচ্ছেদ মানে, দুটো পরিবারের বিচ্ছেদ, অনেক স্মৃতির বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদটা কারও জন্য সুখকর অনুভূতি না। তবু আমরা পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে চাই।’