জিয়াউর রহমান বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০ | আপডেট: ১:২৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

এলটিএন ঢাকা।রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আজ সকালে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ করেন দলের নেতা কর্মীরা। বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকালীন সময়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পরিবর্তিত নামফলক মুছে দেন। পরে তারা নবাবপুর সড়কে পথসভা করেন।

এসময় ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আমার বাবা অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ২০০৬ সালের ২৫শে মার্চ জিয়াউর রহমানের নামে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে মোগলটুলি উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়েছে। এলাকাবাসী বা কারো চাহিদা না থাকলেও সিটি করপোরেশন থেকে বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করায় ক্ষোভ জানান তিনি।

বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, বিদ্যালয় থেকে নাম পরিবর্তন করলেই জিয়াউর রহমানের নাম মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকা- দেশের সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে তা চলবে বলে জানান বিএনপির এই নেতা।

এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামে মোগলটুলিতে ২০০৬ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন নাম রাখা হয় ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত স্কুলটির নাম রেখেছিলেন তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। কিছুদিন আগে স্কুলটির নাম পরিবর্তন করা হয়। নতুন নাম রাখা হয় ‘মোগলটুলি উচ্চবিদ্যালয়’।

নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সর্বোচ্চ ফোরাম বোর্ড সভায় স্কুলটির নাম পরিবর্তন করা হয়।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান

বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান,ছবি: মোহাম্মদ মোস্তফা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বংশাল চৌরাস্তায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে হাজির হন ইশরাক হোসেন ও হাবিব-উন-নবী খান। পরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। বংশাল মোড় থেকে মালিটোলা হয়ে মিছিলটি স্কুলটির সামনে যায়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্কুলটির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা একপর্যায়ে স্কুলের প্রধান ফটকে থাকা নতুন নামে কালি লেপটে দেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা স্কুলের নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্কুলের প্রধান ফটকে থাকা নতুন নামে কালি লেপটে দেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্কুলের প্রধান ফটকে থাকা নতুন নামে কালি লেপটে দেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা,ছবি: মোহাম্মদ মোস্তফা

বিএনপির নেতা-কর্মীরা যখন স্কুলের নতুন নামের ওপর কালি মাখিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন পাশেই পুলিশের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও স্কুলের নতুন নাম মুছে দেওয়ার পর নবাবপুর রোডের জাবিন টাওয়ারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৫ মার্চ আমার বাবা ও তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে স্কুলটি নির্মাণ করেন।

আজকে ন্যক্কারজনকভাবে স্কুলটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। না এটি ঢাকাবাসীর দাবি ছিল, না অন্য কারও দাবি ছিল।’

স্কুলের প্রধান ফটকে থাকা নতুন নাম মুছে দিয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

স্কুলের প্রধান ফটকে থাকা নতুন নাম মুছে দিয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা,ছবি: মোহাম্মদ মোস্তফা

ইশরাক আরও বলেন, ‘এই সিটি করপোরেশনে যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাঁরা নির্লজ্জ মানসিকতা দেখিয়েছেন। আপনারা সহনশীলতার রাজনীতিতে আসেন।’

সরকারকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, নাম পাল্টিয়ে জনগণের মন থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা যাবে না।

বিক্ষোভ মিছিলের পর নবাবপুর রোডে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

বিক্ষোভ মিছিলের পর নবাবপুর রোডে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা, ছবি: মোহাম্মদ মোস্তফা

হাবিব-উন-নবী খান বলেন, জিয়াউর রহমানের নামে করা স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠেছে। তাদের সঙ্গে নিয়েই আজকের এই প্রতিবাদ।

প্রতিষ্ঠাকালে স্কুলটির নাম রাখা হয় ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়’

প্রতিষ্ঠাকালে স্কুলটির নাম রাখা হয় ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়’, ছবি: মোহাম্মদ মোস্তফা

ইতিহাসের খাতায় যা লেখা হয়েছে, নামফলক পরিবর্তন করে তা পরিবর্তন করা যাবে না।

হাবিব-উন-নবী খান আরও বলেন, ‘আজকে থেকে প্রতিবাদ শুরু হলো। এখন থেকে চলবে। যেখানেই অন্যায়ভাবে নামফলক পরিবর্তন করা হবে, সেখানেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলের প্রধান ফটকে নাম পরিবর্তন করা হলেও তার পাশে থাকা উদ্বোধনী ভিত্তিপ্রস্তরে এখনো ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়’ নামের ফলক আছে। ওই ফলকে লেখা রয়েছে, ২০০৬ সালের ২৫ মার্চ স্কুলটির উদ্বোধন করা হয়েছে।