নাগরিক স্মরণসভায় বক্তারা-সবার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় জুনো ছিলেন দৃষ্টান্ত

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৭:১৫:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।দল-মতের সীমা অতিক্রম করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ও কমিউনিস্ট নেতা হায়দার আনোয়ার খান জুনো ছিলেন দৃষ্টান্ত। তিনি যেমন কৃষকের বন্ধু ছিলেন, আবার রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আন্দোলনের ব্যাপারেও ছিলেন অনমনীয়।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জুনোর স্মরণসভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক হায়দার আকবর খান রনো। জুনো ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা, বাম রাজনীতিক, লেখক ও সংস্কৃতি সংগঠক।

নাগরিক স্মরণসভা জাতীয় কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হারুন অর রশীদ। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেমন ও হায়দার আকবর খান রনো।

সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মোস্তফা জামাল হায়দার, সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসাইন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাফি রতন, নুরুল হক নূর, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, নাগরিক কমিটির প্রচার বিভাগের আহ্বায়ক মোস্তফা আলমগীর রতন ও জুনোর মেয়ে অনন্যা লাবণী পুতুল।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালে যুক্ত হন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সালু এবং সাবেক বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আলী ইমাম ও অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্ত হন অধ্যাপক আনিছুর রহমান। সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব শেখ রফিকুল বাবুল। শোকসভায় উদীচী আয়োজিত গণসঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

রাশেদ খান মেনন বলেন, একটি দেশ, একটি পতাকা, একটি ভূখণ্ড বা একটি জাতীয় সংগীতের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, সমতার জন্য। আজ সামাজিক ন্যায়বিচার কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটা আমাদের হিসাব করতে হবে।

তিনি বলেন, হায়দার আনোয়ার খান জুনো একাত্তরের রণাঙ্গনে হার মানেননি। হার মেনেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসজুড়েই নরসিংদীর শিবপুরের সমগ্র অঞ্চল পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত ছিল। শিবপুর অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে পাঁচটি সম্মুখযুদ্ধ করেছিলেন জুনো। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে বিশাল অস্ত্রভান্ডারসহ তাদের নরসিংদীর ক্যাম্প দখল করেছিলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা মুক্তিযুদ্ধকে এককেন্দ্রিক ঘটনার পরিধি করেছি। যদি বিকেন্দ্রীকরণ হয়, এক জায়গায় হলেও জুনোর ইতিহাস স্থান পাবে। যেটা আমাদের তরুণদের প্রণোদিত করবে দেশ গঠনে। জনগণের মুক্তির আন্দোলনে। এসব নিশ্চিত করা হলেই জুনোর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

হায়দার আনোয়ার খান জুনোর মেয়ে অনন্যা লাবণী পুতুল স্মরণসভায় উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমার বাবা সারাজীবন সৎ আদর্শ ধারণ করে চলেছেন। তার এই স্মরণসভা তখনই সফল হবে, যখন তার আদর্শ বাস্তবায়ন হবে।

হায়দার আনোয়ার খান জুনো গত ২৯ অক্টোবর মারা যান। তিনি ষাটের দশকের মধ্যভাগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) প্রথম সারির নেতা ছিলেন। ১৯৭০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘স্বাধীন গণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’ ঘোষণার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি।