বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি-তদন্ত কমিটির ২০ দফা সুপারিশ,প্রকাশ হলো না দোষীদের নাম ওদুর্ঘটনার কারণ

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০ | আপডেট: ১:৫৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ, ঢাকা।বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় দোষীদের বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিলেও এজন্য দায়ীদের কারো নাম প্রকাশ করেননি নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। জানাতে রাজি হননি দুর্ঘটনার কারণও। নৌমন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।

নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনী মামলা করেছে। মামলার প্রতিবেদন ১৭ আগস্ট দেয়া হবে। আইনশৃংখলা বাহিনীর তদন্তের স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দুর্ঘটনার কারণগুলো প্রকাশ করা যাচ্ছেনা। এ সময় দোষীয় কারো নামও প্রকাশ করেননি তিনি।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা যাতে স্বস্তি পায়, আইনী বিচার পায়-সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনার রোধে যে ২০-দফা সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকার নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জনগণ সবার স্বার্থ দেখছে। ভেসেল ট্রাফিক সিস্টেম (ভিটিএস) চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ভিটিএস চালু ও ডিজিটালাইজড হলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। গত ১১ বছরে নৌখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রশিক্ষিত নাবিক তৈরি করতে দেশে একটি মেরিন একাডেমি ছিল। এখন নতুন ৪টি মেরিন একাডেমি করা হয়েছে।

নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী তদন্ত কমিটির ২০ দফা সুপারিশ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে নৌ-ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করা, কেরানীগঞ্জের চর কালীগঞ্জ ও চর মীরেরবাগ এলাকা থেকে ডকইয়ার্ড স্থানান্তর, লঞ্চ অলস বসে থাকার ঘাট সরিয়ে নেয়া, ঢাকা নদী বন্দরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের সংখ্যা বাড়ানো, লঞ্চে দক্ষ ড্রাইভার ও মাষ্টারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ইত্যাদি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম মোহাম্মদ সাদেকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

গত সোমবার রাতে প্রতিবেদনটি জমা দেয় তদন্ত কমিটি। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এতে বলা হয়েছে, রং সাইডে চালিয়ে এসে পেছন থেকে মর্নিংবার্ডকে ধাক্কা মারে ময়ূরী-২। এ সময় লঞ্চটির গতিও ছিল বেশি। দুর্ঘটনার জন্য ময়ূরী-২ লঞ্চের চারজন চালককে দায়ি করা হয়। তারা হলেন- প্রথম মাষ্টার মো: আবুল বাশার মোল্লা (২য় শ্রেণির মাষ্টার), দ্বিতীয় মাষ্টার জাকির হোসেন (৩য় শ্রেণির মাষ্টার), প্রথম ড্রাইভার শিপন হাওলাদার (২য় শ্রেনির ড্রাইভার) ও দ্বিতীয় ড্রাইভার মো: শাকিল সিপাই (৩য় শ্রেণির মাষ্টার)।

বুড়িগঙ্গার শ্যামবাজার এলাকায় গত ২৯ জুন ময়ূরী-২ এর ধাক্কায় ডুবে যায় কাঠপট্টি ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ছোট লঞ্চ মর্নিংবার্ড। ওই দুর্ঘটনায় ৩৪ যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে সেদিনই সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এর আহ্বায়ক করা হয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মো: রফিকুল ইসলাম খানকে। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরও আলাদা কমিটি গঠন করে। এছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এ দুর্ঘটনায় ময়ূরী-২ লঞ্চের মালিক-চালকসহ ১৪-১৫ জনের নামে মামলা দায়ের করে নৌপুলিশ।