অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল ভারত: রয়টার্স

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৮:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২১

রয়টার্স। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা টিকার ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, দেশটিতে আগামী বুধবার থেকে এই টিকা প্রয়োগ করা হতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগে ভারতে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায় (এসআইআই) প্রস্তুত হচ্ছে করোনার টিকা ‘কোভিশিল্ড’। এর আগে যুক্তরাজ্য এই টিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। গত বুধবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিও জরুরি প্রয়োগ নিয়ে বৈঠক করে। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে দুটি বৈঠক হয়। শুক্রবারের বৈঠকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কোভিশিল্ড’ টিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই বিশেষজ্ঞ কমিটি মূলত টিকার বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করে, সেটি নিরাপদ ও কার্যকর কিনা-তা বিবেচনা করে দেখেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এবার এই সুপারিশ বা ছাড়পত্র বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার (ডিসিজিআই) কাছে। ডিসিজিআইয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া ভারতে কোনো ওষুধ বা টিকার ব্যবহার বা প্রয়োগ করা যায় না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিশিল্ডকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছ ডিসিজিআই। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চায়নি।

শুক্রবারের বৈঠকে সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেক তাদের টিকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে। এই দুটি প্রতিষ্ঠান টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিল। শুক্রবারের বৈঠকে এ দুটি টিকা বিবেচনা করা হয়। একই তালিকায় ছিল ফাইজার-বায়োএনটেকও। তবে ফাইজার বিস্তারিত উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য আরও কিছুদিন সময় চেয়েছে।

ভারত এরই মধ্যে গণহারে টিকা দেওয়ার মহড়া শুরু করে দিয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকেই রাজ্যে রাজ্যে এটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো করেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো, যখন সত্যিকার টিকা দেওয়া হবে, তখন যেন ত্রুটি-বিচ্যুতি এড়ানো যায়।