পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২১ | আপডেট: ৭:২২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২১

লন্ডন টাইমস নিউজ।একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়াসহ দেশটির সঙ্গে ঝুলে থাকা দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর দ্রুত সুরাহা চায় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন এবং সম্পদ ভাগাভাগির বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব বিষয় উত্থাপন করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- প্রতিমন্ত্রী আন্তরিকভাবে হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং বলেন যে, সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার হলো সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তৃত করা। এ চেতনার আলোকে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করছে এবং কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। শাহরিয়ার আলম বিদ্যমান সাফটা চুক্তি ব্যবহার করে আরো বাংলাদেশি পণ্যের পাকিস্তানে প্রবেশ, নেতিবাচক তালিকা শিথিল ও বাণিজ্য বাধা দূর করার আহ্বান জানান। হাইকমিশনার ইমরান পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের শুভকামনা প্রতিমন্ত্রীকে জানান এবং বলেন, সহযোগিতার সম্ভাব্য প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে তিনি যথাযথ শ্রম দেবেন।উভয়ে ২০১০ সাল থেকে ঝুলে থাকা এফওসি আয়োজনে গুরুত্ব আরোপ করেন।

হাইকমিশনারকে ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। এদিকে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের তরফে প্রচার করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়Ñ উভয়ের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। হাইকমিশনার ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিদেশীয় চুক্তির একটি কপি প্রতিমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ওই চুক্তিতে দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার অমীমাংসিত সব ইস্যুরই উল্লেখ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি মতে, হাইকমিশনার প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, এই চুক্তিতে দু’দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে যাবে তার কথাও বলা আছে। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অবাণিজ্যিক যেসব বাধা রয়েছে তা দূর করার তাগিদ দেন হাইকমিশনার।

একই সঙ্গে ঢাকা ও ইসলামাবাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে উভয়ের আগ্রহ এবং পদক্ষেপ থাকার ওপর জোর দেন তিনি। হাইকমিশনার প্রতিমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশিদের জন্য পাকিস্তান সব ধরনের ভিসা জটিলতা দূর করেছে। সেগুনবাগিচার আলোচনায় সর্ব পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও পাকিস্তানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।