‘চাকরিদাতা’ ২৩ প্রতারক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১ | আপডেট: ৬:৪০:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো বিজবন্ড আইটি লিমিটেড, লাইফ গার্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপ্লাই লিমিটেড এবং ডিজিট-৪ সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস সার্ভিসেস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠান তিনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, এমন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব–৪–এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর পল্লবী, ফার্মগেট এবং খুলনায় বিজবন্ড আইটি লিমিটেডের তিনটি কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে পল্লবীর কার্যালয় থেকে ৩ জন এবং ফার্মগেটের কার্যালয় থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল হামিদ (৩৮)। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জে।

র‌্যাব–৪–এর উপ–অধিনায়ক মেজর মো. কামরুল হোসেন  বলেন, বিজবন্ড নিজেদের ফেসবুক পেজ এবং চাকরির বিজ্ঞাপনদাতা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লোকজনকে আকৃষ্ট করে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে পারদর্শী করা এবং কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকে সেসব বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপন দেখে চাকরিপ্রার্থীরা যখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখনই শুরু হয় প্রতারণার ধাপ।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমেই নিবন্ধিত হওয়ার জন্য টাকা নেয় তারা। এই টাকা ফোনের মাধ্যমেও দেওয়া যায়, আবার তাদের কার্যালয়ে গিয়ে সশরীরেও দেওয়া যায়। যাঁরা নিবন্ধন ফি হিসেবে দুই হাজার দেন, তাঁদের ছয় হাজার টাকা মাসিক বেতন; যাঁরা তিন হাজার দেন, তাঁদের সাত হাজার টাকা মাসিক বেতন এবং যাঁরা পাঁচ হাজার দেন তাঁদের আট হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। নিবন্ধনের টাকা দিয়ে যখন প্রার্থীরা চাকরি চান, তখনই নতুন ফাঁদ পাতেন প্রতারকেরা। চাকরি আপাতত নেই বলে জানিয়ে তাঁদের কার্যালয়েরই বিপণন বিভাগে কাজ শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যাঁরা রাজি হন, তাঁদেরকে ৫টি করে ভুয়া ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলে চাকরি প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়। যে যত বেশি লোককে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন, তাঁকে তত বেশি কমিশন দেওয়া হবে, এমনটাই চুক্তি হয়। কিন্তু চুক্তিও মানা হয় না। একপর্যায়ে যাঁরা কাজে যুক্ত হন, তাঁরাও হতাশ হয়ে চলে যান।

বিজবন্ডের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হামিদসহ গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন মো. আবদুল জব্বার (৩৬), গাজিউর রহমান (২২), মো. আবদুস সালাম (৩৬), মাহামুদা খাতুন (৩০), মাসুম কবির (২৯), মো. ফরিদ ইমরান (২৬), এনামুল হক (২৭), মাহমুদা খাতুন (৩০), সুমনা খাতুন (১৯), মো. সোহেল ফরাজি (২৯) ও মোছা. শামীমা আক্তার (২৮)। তাঁদের কাছ থেকে ৬৫টি টাকা প্রাপ্তির রসিদ, ৩০১টি ভর্তি ফরম, ৬৫টি অঙ্গীকারনামা, ৭০টি চাকরির নিয়োগ ফরম, ২১৫টি কমিশন ভাউচার, ৭টি রেজিস্টার, ১টি প্যাড, ৪টি মানি রিসিট, ১টি ভর্তি ফরম বই, ৫টি চুক্তিপত্র, ১টি সিল, ৫০টি ভিজিটিং কার্ড, ৪৫টি আইডি কার্ড এবং ১৫টি জীবনবৃত্তান্ত জব্দ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণপর্ব থেকেই পালাতেন চাকরিপ্রার্থীরা

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, যে দুটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে অভিযান চালানো হয়েছে, তাদের পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো ছিল যে প্রশিক্ষণপর্ব থেকেই অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থী পালিয়ে যেতেন। মাঝখান থেকে ভর্তি ফরম ফি এবং প্রশিক্ষণ ফি হিসেবে দেওয়া পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।

র‌্যাব–৪–এর উপ–অধিনায়ক মেজর মো. কামরুল হোসেন বলেন, টাকা দেওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের একটি মুঠোফোন নম্বর ধরিয়ে দিয়ে সাত দিনের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকার আশপাশের এলাকার ঠিকানা দেওয়া হতো। সেখানে গিয়ে তাঁরা খালি প্লটের মধ্যে টিনশেডের ঘর দেখতে পেতেন। যেখানে রাতে থাকার জন্য চাটাই পাতা থাকত। অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষক হিসেবে রাখা হতো। এসব দেখে প্রথম দিনই অধিকাংশ লোক চলে যেতেন। যাঁরা থাকতেন, তাঁদেরকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো না। এতে দু–এক দিনের মধ্যেই সবাই পালিয়ে যেতেন।

র‌্যাব শাহ আলীর লাইফ গার্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপ্লাই লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি থেকে এমন প্রতারণার অভিযোগে তাসলিমা সুলতানা (৩০), সায়মা ইসলাম (২৪), মৌসুমী আক্তার (২৮), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০) ও মো. রাকিব হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে ১০০টি জীবনবৃত্তান্ত ফরম, ১৫টি চাকরির আবেদন ফরম বই, ৪টি রেজিস্টার, ৪টি সিলমোহর, ৭টি মুঠোফোন, ২০০টি ভিজিটিং কার্ড এবং ৫ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করেছে।

এ ছাড়া কাফরুলে ডিজিট-৪ সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে মো. কামরুজ্জামান (৩৩), মো. মশিউর রহমান (২৭), সোহাগ (১৯), মো. রুবেল (২৮), মোছা. মমতাজ নায়রী (৪৪) ও মোছা. শাহীনূর আক্তারকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১০টি প্রচারপত্র, ৫টি আইডি কার্ড, ১০টি মনোগ্রাম এবং ৪০টি ভর্তি ফরম জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন