ছাদিক সিরাজীর কবিতা

প্রকাশিত: ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০ | আপডেট: ৪:৩৬:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

 

নূরের উৎসমুখ

মহাপ্লাবনের পর
তামাম জাহানে উত্তাল হলো মুক্তপ্রাণের স্বর
সেই স্বরে উঠে প্রমূর্ত হয়ে কবিতার মহাঝড়।

আরেকটা প্লাবন চাই
যে প্লাবন এসে ধুয়ে মুছে নেবে জীর্ণ জীবনটাই
আবার আসবে প্রাণের মিছিল শহরে সহসাই।

যদি চাও হে উত্তরণ
মিথ্যা স্বরাজ জ্বলে পুড়ে যাক নির্মম প্রহসন
সত্য সাহস সওগাত চাই মহাপ্রাণ প্রয়োজন।

আজ সৃষ্টি–সুখের নির্মাণে চাই নূরের উৎসমুখ
চাই সত্যান্বেষী মহাপুরুষ এক ইস্পাতচেরা বুক।

সফেদ মখমল

আগরের গন্ধ শুঁকেছি অানমনে সেদিন
আদমের চোখের জল পান করেছে সে
মাটির দেহ ছুঁয়ে করেছি কসম
হাওয়ার গন্ধমে মিশে আছো তুমি হে নারী
আমি তো অমরই আছি জনম জনম।

একদিন কন্যাসমর্পণ করতে গিয়ে দেখি
অতিমানবের অস্তিত্বের গান শোনা যায়
মাটির পিয়াস আছে আর আছে জলের
শুণ্যালোকের সফেদ শব্দ শোনে যে প্রাণ
জানে সে গভীর জ্ঞান মোহিত মখমলের!

সমুদ্রের মাপজোখ

সময়ের আস্তিনে কবিতা লিখে চলেছি
মেঘের পালকিতে বসে পড়ছি সমুদ্রের পাঠ
স্বপ্নের বীজগুলো বপন করে রেখেছি ফুরাতের তীরে
তবুও যদি উড়ে আসে শাদা গাঙচিল
হৃদয়ের জলরং নীড়ে।

মাপজোখ করে রাখা কিছু স্বপ্ন ছিলো
আজন্ম বুকের ভেতর লালন করা পোষা পাখি যেন
প্রতিদিন একটি দুটি করে পালক ছিড়ে যায়
আর আমি অসহায় হতে থাকি ঝড়ে কাঁপা বকের মতো
অতঃপর যখন একটু কিরণ দেখা যায় তিমিরের পর
আমি আবারও জীবনের স্বাদ খোঁজে পাই আবহায়াতের পেয়ালার ঠোঁটে!

[ বিশ্বনাথ, সিলেট ]