ঈশ্বরদীতে অনুমতি না নিয়ে করোনার টেস্ট, ক্লিনিক মালিক গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০ | আপডেট: ১:৩২:অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

ইশ্বরদী সংবাদ দাতা।ঈশ্বরদীতে অনুমতি না নিয়ে করোনা টেস্ট করায় রূপপুর মেডিকেয়ার নামে এক ক্লিনিকের মালিককে আটক করেছে পুলিশ। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে আব্দুল ওহাব রানা নামে ওই ক্লিনিক মালিককে আটকের পর বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, আব্দুল ওহাব রানা এবং নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদ পরস্পর তিন দিন ধরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান কোম্পানি টেস্ট রোশেমসহ বিভিন্ন কোম্পানির শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষার জন্য ফটু মার্কেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাঠে তাবু টাঙ্গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এই নমুনা তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এরপর অনলাইনে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের ঠিকানায় রিপোর্ট আসে।

নিয়ম অনুযায়ী করোনার নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতিতে সেগুলো নির্ধারিত পিসিআর ল্যাবে যাবে। রিপোর্টগুলোও সিভিল সার্জন অফিস কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

অনুসন্ধানে ৫০টি রিপোর্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার আবু সাইদ মুঠোফোনে জানান, রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক আব্দুল ওহাব রানাকে আমি চিনি না। ওই নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ৫০ জনের নমুনা টেস্টের সঠিক রিপোর্ট আমরা গত ৬ জুলাই তারিখে পাঠিয়েছি। আমাদের জানা ছিলনা প্রতিষ্ঠানটির সরকারি অনুমোদন নেই। তবে রিপোর্টগুলো সঠিক।

ঘটনাটি জানা নেই ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এফ এ আসমা খানেরও।

এব্যাপারে মেডিকেয়ারের পরিচালক আরিফুল বারী কিরণ জানান, রাশিয়ান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেস্ট রোশেম, নিকিমথ ও রুইনওয়াল্ডের অনুরোধে আমরা করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টেস্টের ব্যবস্থা করি। পূর্ব অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগ সাঠিক নয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নমুনা সংগ্রহের জন্য আমাদের একটি প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাসীর উদ্দিন জানান, পাবনা সিভিল সার্জন অফিসে যোগাযোগ করা হয়েছে। অনুমতি না নিয়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট প্রদান প্রতারণার সামিল। তাই আটক আব্দুল ওহাব রানাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে পাবনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে অনুমতি না নিয়ে করোনার টেস্ট, ক্লিনিক মালিক গ্রেফতার