সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে পর্যটন সুবিধা নির্মাণ শুরু

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩৬:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি। কক্সবাজারের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে তিনটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক হোটেল ও পর্যটন সুবিধা নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো গ্রেট আউটডোর অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার লিমিটেড, গ্রিন অরচার্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং সানসেট বে লিমিটেড। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।

গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের মাস্টারপ্ল্যান-সংক্রান্ত সভায় দ্রুত পর্যটন আকর্ষণে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহের পরিপ্রেক্ষিতে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আয়োজন করা হয়।

গ্রেট আউটডোর অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার লিমিটেড তিন একর জমিতে প্রায় ছয় মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে পর্যটনবান্ধব বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলবে। এর মধ্যে রয়েছেÑস্নোরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, প্যাডেল বোর্ডিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিং প্রভৃতি।

গ্রিন অরচার্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড দেড় একর জমিতে প্রায় সাড়ে সাত মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে গড়ে তুলবে ২১০টি রুম বিশিষ্ট তিন স্টার হোটেল, রিক্রিয়েশন সেন্টার এবং কনভেনশন সেন্টার। সানসেট বে লিমিটেড এক একর জমিতে প্রায় ১৯ দশমিক দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ৩৭০টি রুমবিশিষ্ট পাঁচ তারকা হোটেলসহ পর্যটনবান্ধব স্থাপনা তৈরি করবে।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ইতোমধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ অনুমোদন পেয়েছে, যার মাধ্যমে ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হবে এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিনিয়োগকারীদের তালিকায় নেদারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও গ্রেট আউটডোর অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেলুর রহমান, গ্রিন অরচার্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস ও সানসেট বে লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ পাটোয়ারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পবন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের হাত ধরে বাংলাদেশ পর্যটনবান্ধব সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে সমর্থ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের মাস্টারপ্ল্যান সংক্রান্ত সভায় দ্রুত পর্যটন আকর্ষণে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের যে নির্দেশনা দেন, তারই পরিপ্রেক্ষিতে বেজা নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতে এ ট্যুরিজম পার্কটি গড়ে তুলতে যাচ্ছে।

গ্রিন অরচার্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস এবং সানসেট বে লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ পাটোয়ারি জানান, তারা দ্রুত কাজ শুরু করে সর্বপ্রথম হোটেল নির্মাণ করতে চান, যাতে পর্যটকরা নীল সাগরের জলরাশি উপভোগ করতে পারেন। পর্যটনকে সমৃদ্ধ করার এ পরিকল্পনার জন্য তারা বেজার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

গ্রেট আউটডোর অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেলুর রহমান বলেন, তারা স্নোরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, প্যাডেল বোর্ডিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিং সুবিধাসহ আধুনিক পর্যটনবান্ধব স্থাপনা গড়ে তুলতে চান।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য, দেশীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যটকবান্ধব মহাপরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ এবং কক্সবাজার ও এই অঞ্চলের পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে একটি সামগ্রিক যোগসূত্র স্থাপন করা। এ মহাপরিকল্পনায় সমুদ্রসৈকত সংরক্ষণ, বিদ্যমান জলাশয় সংরক্ষণ, ঝাউবন সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, বৃষ্টির পানি ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, দেশীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, পর্যটক ও পরিবেশবান্ধব সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ, পথচারী ও বাইসাইকেলবান্ধব সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়াদি বিবেচনা করা হয়েছে।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্কটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে অবস্থিত যার আয়তন এক হাজার ৪৭ একর। সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পূর্বে শাহপরীর দ্বীপ অবস্থিত। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কোলাহলের বাইরে ও বৈশিষ্ট্যগতভাবে নীল পানির কারণে স্থানটি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য উপযোগী।