পর্যটনসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগে আগ্রহী শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:১০:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১-পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার সুদর্শন দীপাল সুরেশ সেনাভিরত্ন এ আগ্রহের কথা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কান উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। শ্রীলঙ্কান উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগ করতে পারেন।’ এসময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং উদার বৈদেশিক বিনিয়োগ নীতির কথা উল্লেখ করেন।শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার পর্যটনের পাশাপাশি সি-ক্রুজ চালু এবং উপকূলীয় এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণে তার দেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘তার দেশ জাহাজ, হাসপাতাল, পর্যটন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, এভিয়েশন সেক্টরে বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বিনিময়ে আগ্রহী।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সফলতার প্রশংসা করেন হাইকমিশনার। তিনি জানান, করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেয়া ব্যবস্থায় তিনি অভিভূত।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার জনগণের মধ্যে করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছে। মানুষ সচেতন হয়েছে। যার ফলে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।’

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কূটনীতিকদের জন্য করোনা টিকা সরবরাহ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার।অটিজম বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, ‘অটিজম সেক্টরে তার কাজ প্রশংসনীয়।’ অটিজম বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বিনিময়ে শ্রীলঙ্কা আগ্রহী বলে জানান তিনি।

এসময় অটিস্টিক, তৃতীয় লিঙ্গসহ বিপদগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় প্রান্তিক উপকারভোগীদের ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা প্রদানের প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার। তিনি এটিকে ‘groundbreaking’ (যুগোপযোগী) হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিজের ছাত্র জীবনের কথা স্মরণ করে হাইকমিশনার জানান, ‘দিল্লিতে পড়াশোনা করার সময় বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী।