গত ১০ মাসে দেশে আত্মহত্যা করে মারা গেলেন ১১ হাজার মানুষ(পডকাষ্ট শুনুন)

প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ | আপডেট: ১২:১৯:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

লন্ডন রেডিও পডকাষ্ট। সাম্প্রতিক- পর্ব ২২। সহযোগীতায় চ্যানেল এইট এবং লন্ডন টাইমস।  মহামারি করোনাভাইরাসের সময়ও দেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণ ঝরেছে আত্মহত্যা ও হৃদরোগে। করোনায় যে সময়ে পাঁচ হাজার ২০০ জন মারা গেছেন, ঠিক ওই সময়ে আত্মহত্যা করেই মারা গেছেন প্রায় ১১ হাজার জন। আর হৃদরোগে মারা গেছেন এক লাখ ৮০ হাজার জন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনে ‘স্টেকহোল্ডার (মিডিয়া) কনসালটেশন ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। এই খবর প্রকাশিত হয়েছে এই মাসেই ১৯-১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ঢাকার আরটিভি এবং খোলাকাগজে।

ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, আমরা সবকিছুতে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি, এটা হওয়া উচিত নয়। একটা বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে যেন অন্য কিছুতে বেশি ক্ষতি না করি। যেমন কোভিড নিয়ে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম অথচ অন্য কারণে বেশি মানুষ মারা গেছে। এটা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল যা সার্ভে করার পর বের হয়ে এসেছে।

সচিব আরও বলেন, মুদ্রাস্ফীতি না হলে অর্থনীতি চলবে না। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগও করবেন না। মুদ্রাস্ফীতি সব সময় হেলদি পর্যায়ে থাকা ভালো। এটা খুব বেশি হলে যেমন দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে একইভাবে এটা পড়ে গেলে অর্থনীতির ক্ষতি হবে। আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকে এটা ভালো দিক। মূল্যস্ফীতি খুব কমে গেলে খুশি হওয়ার কিছু নেই।

সারা দেশে করোনা মহামারিতে ১০ মাসে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার, একই সময়ে হার্ট অ্যাটাকে ১ লাখ এবং আত্মহত্যা ১১ হাজার মানুষ মারা গেছেন বলে জানান পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

করোনায় যত মানুষ মারা গেছেন, তার চেয়ে আত্মহত্যায় বেশি মারা গেছেন। এই সময়ে আত্মহত্যায় মারা গেছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ। আমরা শুধু করোনার পেছনেই দৌঁড়েছি। কিন্তু আমাদের অন্যান্য বিষয়েও যে ইন্টারফেয়ার (নজর দেয়া) দরকার, করোনার জন্য হয়তো সেগুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছি না। সেসব ক্ষেত্রে আমরা যদি গুরুত্ব না দিই, তাহলে কিন্তু আমাদের অন্যান্য রোগী বেড়ে যাবে। এই তথ্যগুলো জানানো আমাদের বিবিএসের দায়িত্ব’—বলেন সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক ভার্চুয়াল সভায় জানানো হয়, মার্চ ২০২০ থেকে নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন এক হাজার ৫৮ জন মানুষ।

বিবিসি ২০২০ সালের তাদের এক রিপোর্টে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স বাংলাদেশ ২০১৩ সালের জরিপ সূত্রে উল্লেখ করেছে,  প্রতিবছর দেশে গড়ে ১০ হাজার লোক আত্মহত্যা করে৷ প্রতি এক লাখে করেন ৭ দশমিক ৩ জন৷ বিভিন্ন বয়স, লিঙ্গ, পেশা এবং ভৌগলিক অবস্থানের নিরিখে ৮ লাখ ১৯ হাজার ৪২৯ জনের ওপর সরাসরি জরিপ চালিয়ে তারা এই তথ্য প্রকাশ করে৷ আর শহরের চেয়ে গ্রামে আত্মহত্যার হার ১৭ গুণ বেশি৷ গ্রামে যাঁরা আত্মহত্যা করেন, তাঁদের বড় অংশ অশিক্ষিত এবং দরিদ্র৷

 

জরিপে বলা হয়, নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি৷ এঁদের মধ্যে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি নারীরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ৷ এছাড়া ২০১৪ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করেন৷

বাংলাদেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহে।

যারা আত্মহত্যা করেন তাদের বেশিরভাগ অল্প বয়সী এবং নারী।

ঝিনাইদহে এখন সরকারি ও বেসরকারিভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে নানা রকম উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ঝিনাইদহে স্থানীয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করে, যাদের মধ্যে সোসাইটি ফর ভলান্টারি অ্যাকটিভিটিজ সোভা অন্যতম।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলছেন, ঝিনাইদহে প্রতি বছর গড়ে প্রায় চারশোর মত মানুষ আত্মহত্যা করেন।

জেলাটিতে ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩১৫২ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ২২ হাজার ৬৭৫ জন।

 

(  উপস্থাপক সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ। ভিডিও ক্রেডিট প্রমোদনা বুট লাইফ। তথ্য বিবিসিএ, বিবিসি, ডিডিব্লিউ, আরটিভি, খোলাকাগজ ) ।