সাফল্য-প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের দুই বছর

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩৪:অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদন। দুই বছর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জুন বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ। দেশ সেবার ব্রত নিয়ে গ্রহণ করা সেই দায়িত্বভার পালনে গত দুই বছর রয়েছে বেশ কিছু সাফল্যপ্রত্যাশা প্রাপ্তির গল্প। এই সময়ের মধ্যে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন, আম্ফানের মতসুপার সাইক্লোনসহ ফনী বুলবুলের মত দুটি ঘূর্ণিঝড় এবং বর্তমান করোনা মহামারীতে জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব দেশের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি বক্তব্যে দৃঢ় চিত্তে তিনি বারবার বলে গেছেন একটি কথা। আর তা হলো, ‘আমরা দেশের সেবা করতে এসেছি।

কিছুদিন আগেই ক্যাডেট কমিশন লাভ করা ২৫৫ সেনা অফিসারকে দেশপ্রেম ও সাহসিকতার সাথে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবেই সর্বদাই দেশপ্রেম ও সাহসিকতার সাথে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে কেউ হুমকির মুখে ফেলে তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত এবং সক্ষম।’

বিগত দুই বছরে সেনা প্রধানের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছিলো ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন বড় সহিংসতা ছাড়া জাতীয় নির্বাচন সমাপ্ত হয় ২০১৮ সালে। এ ক্ষেত্রেও তার নেতৃত্বে থাকা সেনাবাহিনীর বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক শঙ্কা ছিলো এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেকে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হামলার আশঙ্কাও করেছিলো। কিন্তু দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিলো অবিচল। আর তা সম্ভব হয়েছিলো সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কারণে।

বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদের ফিরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা দফতর থেকেও বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা দফতরের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে নীরবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা হচ্ছে সেনাবাহিনী পর্যায়ে। আর এ ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফরের সময় সেই দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আলোচনা করে গেছেন তিনি যা নীরব কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা যে বাংলাদেশের সৃষ্ট নয়, বরং মিয়ানমারের চাপিয়ে দেয়া তা বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনায় বারবার গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান।

বরাবরই বাংলাদেশে হওয়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামনের সারিতে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উপকূলীয় অঞ্চলে হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে রাস্তা নির্মাণ, জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান সর্ব ক্ষেত্রেই ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তার নেতৃত্বেও একই ভাবে সহায়তা করে গেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তার কারণে মানবিক সেনা সদস্য হিসেবে আরো একবার সাধারণ মানুষের সামনে নিজেদের মেলে ধরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধানের নির্দেশনা, ‘আমরা সেবা দিতে এসেছি।’ এই একটি নির্দেশনাকে সামনে রেখে দেশের মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে হওয়া ফনী ও বুলবুলের আঘাত কাটিয়ে উঠার পর চলতি বছর করোনা মহামারীর মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময় এই অঞ্চলে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে সেনাপ্রধানের নির্দেশে ছুটে গেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

করোনা মহামারীতেও আমরা প্রতি নিয়ত লক্ষ্য করেছি মানবিক সেনাবাহিনীর ভূমিকা। অনেকে যেখানে সেনাবাহিনীকে কঠোর হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চরাও হওয়ার কথা বলছিলো, তখন সেনাপ্রধানের নির্দেশ আরো একবার মানবিক রূপে দেখা যায় সেনা সদস্যদের। বুদ্ধিদীপ্ত ও দুর্দান্ত সব পরিকল্পনা নিয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে করোনা ভাইরাসের ভয় উপেক্ষা করে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। সেনাপ্রধানের নির্দেশে নিজেদের রেশনের অর্থ থেকে দুস্থ ও দরিদ্রদের ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর এমন মানবিক রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছে সাধারণ মানুষ।

২০১৮ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ সময় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বপূর্ণ আচরণের পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। এছাড়াও জাতিসংঘ ও জাতিসংঘ মিশন সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু দেশে সফর করেন তিনি। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী চিন্তার কারণেই জাতিসংঘের র‌্যাংকিং’এ আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পূর্বে বাংলাদেশ এই র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকলেও মধ্যে কয়েক বছরের জন্য তা দখল করে নেয় ইথিওপিয়া। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে আবারো শীর্ষস্থান ফিরে পেলো বাংলাদেশ।

সেনাবাহিনী দেশের জন্য সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পাওয়ার পর তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা সৈনিক এবং এই যুদ্ধে আমরা সর্বোতভাবে নিয়োজিত থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিবেদন করছি। দেশের এই ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীকে জনগণের সেবায় আত্ম নিয়োগের সুযোগ প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

বাংলাদেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর সাহসী ভূমিকা বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে। জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব এবার দেশের মানুষ দেখতে পেলো মানবিক সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ উদাহরণ।