শাহজাহান সিরাজের মৃত্যুতে আ স ম আবদুর রবের শোক-জাতির অন্তরাত্মায় ক্ষত হলো

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৯:৫৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

ঢাকা: স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাহজাহান সিরাজের মৃত্যুতে জাতির অন্তরাত্মায় ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার সহযোদ্ধা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে রাজনৈতিক সচিব শহীদুল্লাহ ফরায়জীর পাঠানো শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগে করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন শাহজাহান সিরাজ। একাত্তরের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে বিশাল ছাত্র জনসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন তিনি। সাবেক এই মন্ত্রী সবশেষ বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

শোক বার্তায় আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘শাজাহান সিরাজ ছিলেন জাতিরাষ্ট্র বিনির্মাণের অন্যতম কারিগর, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা, মুক্তি সংগ্রামের বীর সিপাহসালার। তিনি (শাজাহান সিরাজ) আমাদের জাতির অস্তিত্বের অংশ। তার মৃত্যু জাতির অন্তরাত্মায় ক্ষতের সৃষ্টি হলো।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সাহসী ও সংগ্রামী হিসাবে ছাত্র-যুবসমাজকে সংগঠিত ও তাদের  মাঝে স্বাধীনতার মন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন শাহজাহান সিরাজ। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তিনি সিরাজুল আলম খানের স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে সিরাজুল আলম খানের নির্দেশে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত নির্বাচনের পরিকল্পনায়ও শাজাহান সিরাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’

আ স ম রব বলেন, ‘১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এক বিশাল জনসভায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। সেই ঐতিহাসিক সমাবেশে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়। নিউক্লিয়াস প্রণীত ইশতেহার শাজাহান সিরাজ পাঠ করার মধ্য দিয়ে নিজেকে ইতিহাসের স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়ে সংযুক্ত করেন।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের তাগিদে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল গঠন ও সংগ্রাম আন্দোলনেও বিশাল ভূমিকা গ্রহণ করেন। যৌবনের বহু সোনালী দিন শাহজাহান সিরাজ দেশমাতৃকার জন্য কারাগারে কাটিয়েছেন। শাহজাহান সিরাজ আমার আন্দোলন সংগ্রামের সাথী, আমার অনুভূতি, আমার চেতনার অংশ।’

‘তার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। যতদিন আমাদের স্বাধীনতা, জাতির অস্তিত্ব, পতাকা ও জাতীয় সংগীত থাকবে, ততদিন শাহজাহান সিরাজ বেঁচে থাকবেন সকল বাঙালির হৃদয়ে। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি,’— বলেন আ স ম আবদুর রব।