পরীক্ষা না করে সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগে নিউ শেভরন সিলগালা

প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০ | আপডেট: ৪:০৯:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

চট্টগ্রাম ব্যুরোচট্টগ্রামে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ‍উঠেছে নিউ শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে আজিজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নিউ শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

মোজাম্মেল হক  জানান, প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু নঈম। সেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের পরীক্ষা করা হচ্ছে জানতে পেরে অভিযান চালানো হয়।

‘অভিযানের সময় সেখানে কয়েকটি মেশিন পাওয়া গেলেও করোনা পরীক্ষার জন্য আনুষাঙ্গিক মেশিন পাওয়া যায়নি। তারা রোগীদের কাছ থেকে করোনা পরীক্ষার কথা বলে নমুনা সংগ্রহ করে। এরপর সেই নমুনা পরীক্ষা না করেই পজিটিভ বা নিগেটিভ একটি রিপোর্ট দিয়ে দেয়। এজন্য আগে থেকেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারের সই নিয়ে রাখা হয়। সই দেখে রোগী ধরে নেন, এই রিপোর্ট সঠিক,’— বলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল।

ডাক্তার বা পরীক্ষক কেউ নেই, নেই কোন ল্যাব টেকনিশিয়ানও। এমনকী প্রতিষ্ঠানের বৈধতার কাগজপত্রও নেই। তবুও বোয়ালখালীর শাকপুরার নিউ শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি রোগীর স্যাম্পল নেয় ও পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্টও দেয়। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩ টায় উপজেলার চৌমুহনী বাজারের পূর্ব পাশে আজিজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে মালিক আবু নইমকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে উপজেলা প্রশাসন। জরিমানার সাজা পাওয়া আবু নইম উপজেলার সালেহ আহমদের ছেলে।

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন নির্দেশ দিলে বুধবার বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ভ্রামমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে বোয়ালখালী থানা পুলিশ তাকে সার্বিক সহায়তা করে।

অভিযানে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট দেখলেন, ল্যাবটিতে কয়েকটি মেশিন ছিল। রোগীদের কাছ থেকে স্যাম্পলও নেওয়া হয়েছে পরীক্ষার জন্য। রোগের রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল সংশ্লিষ্ট রোগটির পরীক্ষা না করেই। রিপোর্ট দেওয়ার সুবিধার জন্য আগে থেকেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারের স্বাক্ষর তৈরি রাখা হয়। পরে রিপোর্ট বানিয়ে পূর্বে স্বাক্ষর করা প্যাডে রোগীদের টেস্ট রিপোর্ট দেওয়া হত। রিপোর্ট প্যাডে স্বাক্ষর দেওয়া চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি স্বাক্ষরও করিনি।’

এছাড়াও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে কোনো প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনিশিয়ান বা ল্যাব সহকারী পাওয়া যায়নি। ল্যাব পরিচালনার বৈধতার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায় সবগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ।

অবিলম্বেই ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু নইমকে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর অধীনে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

 

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে নিউ শেভরন নামে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদফতর। অভিযানের সময় সেখানে ল্যাব টেকনিশিয়ান কাউকে পাওয়া যায়নি। কোনো চিকিৎসকও এ ধরনের কোনো রিপোর্টে সই করেননি।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করা হয়েছে এবং মালিককে ভোক্তা অধিকার আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোজাম্মেল হক।

 

এর আগে, নমুনা সংগ্রহ করেও পরীক্ষা না করেই করোনা পজিটিভ বা নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় এসেছে জেকেজি হেলথকেয়ার ও রিজেন্ট হাসপাতাল। দুইটি প্রতিষ্ঠানকেই অবশ্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে জেকেজি’কে নির্দিষ্ট বুথে ও রিজেন্টকে কেবল হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সে অনুমতির অপব্যবহার করে তারা বাসায় গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করেছে। আর সরকারি ব্যবস্থাপনাতে তাদের নমুনা পরীক্ষার কথা থাকলেও তারা সবার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরে জানা যায়, তারা নমুনা পরীক্ষা না করিয়েই ভুয়া পজিটিভ বা নেগেটিভ রিপোর্ট দিত গ্রাহকদের।