শামীমা বেগম ব্রিটেনে ফিরতে পারবেন: আদালতের রায়

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০ | আপডেট: ১১:৪৩:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

লন্ডন, লন্ডন টাইমস।শামীমা বেগম আইনি লড়াইয়ে জিতেছেন। আপীল আদালত রায় দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য তিনি ব্রিটেনে ফিরতে পারবেন।

বিশ বছর বয়সী মিস বেগম এবং আরও দুজন স্কুল ছাত্রী ২০১৫ সালে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীতে যোগদানের জন্য লন্ডন থেকে সিরিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন।

সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে তাকে খুঁজে পাবার পর, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সাজিদ জাভিদ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে দেন।

শামীমা বেগম ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান এই বলে যে ঐ সিদ্ধান্ত অবৈধ কারণ এই সিদ্ধান্তের কারণে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে গেছেন।

আপীল আদালতের শুনানিতে তার আইনজীবী যুক্তি দেন যে, তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরতে না দিলে, উত্তর সিরিয়ার শিবিরে থাকা অবস্থায় মিস বেগমের পক্ষে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি লড়াই চালানো কার্যত সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কারো নাগরিকত্ব বাতিল তখনই আইনানুগ যখন সেই ব্যক্তি আইনত আরেকটি দেশের নাগরিকত্ব পেতে পারে।

ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত রায় দেয় যে মিস বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল বৈধ কারণ সেসময় আইনত তিনি ছিলেন “বংশগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক”।

ধারণা করা হয় মায়ের নাগরিকত্বের সুবাদে মিস বেগম বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দাবি করতে পারেন।

ফ্ল্যাশব্যাক-বাংলাদেশ 

বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কাদির কল্লোল ঢাকা থেকে জানাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক দুজনেই বলেছেন “শামীমা বেগমের বিষয়টি বাংলাদেশের কোন বিষয় নয়- এটি ব্রিটিশ সরকারের বিষয়। তার ব্যাপারে বাংলাদেশের কিছুই জানা নেই।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আজ (বুধবার) একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে শামীমা বেগম বাংলাদেশী নাগরিক নন এবং তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেবার “কোন প্রশ্নই” ওঠে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের খবর সংবাদ মাধ্যম থেকে জেনেছে।

মি: আলম বলেছেন, “শামীমা বেগমের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এমন তথ্য সঠিক নয় এবং এই ভুল খবরের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

“বাংলাদেশ স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছে মিজ শামীমা বেগম বাংলাদেশী নাগরিক নন। তিনি জন্ম সূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক এবং কখনই বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন নি। কাজেই তাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেবার কোন প্রশ্নই নেই।”