আষাঢ়ে চিঠি ।। লাভলী ইসলাম

প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০ | আপডেট: ৩:০৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০
চন্দ্র সূর্য পৃথিবীতে ঘুরে ঘুরে আসে । আসে অমাবস্যা পূর্ণিমা । কখনো রাতের আঁধারে কালো পর্দার আড়ালে হারিয়ে যায় পৃথিবীর সব উচ্ছলতা উৎপলতা উচ্ছাস হাসি গান আনন্দময় দিন সময় ক্ষণ গুলো ।
প্রকৃতির নিয়মে আবার ঘুরে এসে পূর্ণ চন্দ্র তার আলো ছড়িয়ে দেয় পৃথিবীর বুকে আঁধারের কালো পর্দা সরিয়ে । বার মাস আসে যায় ঘুরপাকে তারই নিয়মে ।
কেবল মানুষের জীবেনে হারিয়ে যাওয়া দিন গুলো ফিরে আসে না ঘুরে ফিরে দিন রাত্রির মত । ফিরে আসে কিছু সুখময় স্মৃতি আলেয়ার মত বুকের করিডোরে বিকেলের গোধুলী হয়ে মিলিয়ে যায় সন্ধ্যায় রাতের আঁধারের গব্বরে ধীরে ধীরে । সেখানে পড়ে না কোন সূর্য কিরণ কিংবা রাতের জোসনার আলো । কেবলই ঘন কালো অমবস্যার কুচকুচে অন্ধকার । কেউ জ্বালাতে আসে না কোন আলো ।
অথচ অন্ধকারের এই সীমাহীন পথ চলার পথটির নেই কোন সীমানা প্রাচীর , নেই কোন আশার গন্তব্য ।
খুব খুব করে ইচ্ছে জাগে অন্ধকারের এই দেওয়াল ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে এসে এক পৃথিবী সূর্যের হাসি দেখতে ঠিক আগের মত ।
কষ্টের স্মৃতি গুলো আঁকড়ে থাকে দিনের আলোর মত বুকের খাঁচার পাঁজরের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে ।
কত বরষায় দুজনে হেঁটেছি মেঠো পথ ধরে কাদামাটি জলে । টুইটুম্বুর দুই পাশের খাল বিলের ঘোলা জলে কচুরিপানা সাদার উপর ফোঁটা ফোঁটা বেগুনি ফুলের রুপ দেখে দেখে ।
ফুল নেবো বলে বায়না ধরার আগেই তুমি হাঁটু জলে নেমে তুলে আনতে কত ফুল । আমি খুশিতে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতাম ফুলের উপর ।
যখন বর্ষার প্রথম কদম দেখে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকতাম তুমি পুরোপুরি অনভিজ্ঞ হয়ে হয়েও উঠে যেতে গাছে । কষ্টে পিষ্টে হাত পা ছুলে ছিঁড়ে আনতে হলুদ মখমলে নরম মোলায়েম কদম ফুল । আঁচলে আদর করে জড়িয়ে রাখতাম খুব যত্ন করে , ওরা যেন নষ্ট হয় না কোন ভাবে আমার সংস্পর্শে তোমার এত কষ্টের আনা ফুল ।
তোমার হাত পায়ে আঁচড়ের দাগে ছুলে যাওয়া জায়গা থেকে রক্ত দেখে আমি কেঁদে ফেলে বলতাম আমি আর কখনোই কদম ফুল নেবো না ।
ঠিক তখনই তুমি আমার আঁচল টেনে রক্তের দাগ মুছে ফেলে বলতে , দেখো ভালবাসার পরশে রক্তের দাগ থাকে না থাকে হৃদয়ের ছাপ ।
এই আঁচলে যার ভালবাসার আশ্রয় তার সব কাজই চলবে নির্ভয়ে করবে দৌড়ঝাপ ।
আমার সুখকান্নার জল বৃষ্টির জলের সাথে মিলেমিশে গাল বেয়ে ঝরতো তুমি বুঝে ফেলবে সে ভয়ে আমি এক চোখে কেঁদে আরেক চোখে হেসে হেসে খুন হতাম ।
:
কখন কেন যেন এক ঝড় এলো , তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে কিছু না বলে দূরে বহুদূরে । আমি হয়ে গেলাম একা বড় বেশি একা ।  বছরের পর বছর আমি কাঁদি সাথে কয়মাস কাঁদে বৈশাখ জৈষ্ঠ বরষা আর শ্রাবণ । বাকি কয়মাস কাঁদি আমি একা একা যেন বন্যায় হয় এক প্লাবন ।
আষাঢ় এলে সেই কচুরি আর কদমের ফুল ,সেই পথ ঘাট বৃষ্টি বিলাসী আমি ভিজি মনের উঠোনে একা একাকী  । জানি আর কখনোই তুমি আসবে না ফিরে আসবে না আমার সাথে ভুল করেও করতে একটুখানি দেখা এ আমার হয়ত চার আঙ্গুলে কপালেরই লেখা । আমার কম দামী আঁচল ছেড়ে দামী আঁচলে নিজেকে বেঁধেছো সোনার শিঁকলে।
:
প্রতি বরষায় আমি প্রতিদিন লিখি একটি চিঠি । লিখে লিখে কালো খামে ভরে রেখে দেই হৃদয় আঁধারের বন্ধ কবরে  দাফন করি একাকী, নিজেই স্মৃতির বাতি জ্বালিয়ে আলোকহীন অন্ধ গহ্বরে ডুবে থাকি  ।
লাভলী ইসলাম ,কবি লেখক ও কথাসাহিত্য