তারেক রহমানের ধীমান ভাবনা এবং করোনাকালীন মানবিকতা:শাকিলা ফারজানা 

প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০ | আপডেট: ৩:১৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

করোনা মহামারী প্রায় পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। অধিকন্তু ভোটারবিহীন, কূট কৌশল এবং জোরজবরদস্তির নির্বাচনে বারবার ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের দূর্নীতি, অমনোযোগিতা ও অদক্ষতা করোনা সংক্রমণ এবং মানুষের দূর্দশাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। করোনাকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গত ২৪’মার্চ এবং ২২’মে’র বক্তব্যে একজন মানবিক এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পেয়েছি।

একইসাথে দেশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং উন্নয়নে যে পরিবারের অবদান সবচেয়ে বেশী সে পরিবারেরই জৈষ্ঠ্য সন্তান তারেক রহমান। তাঁর বাবা-মা দু’জনই অসাধারণ, নিবেদিত এবং পরীক্ষিত মানবিক গুণসম্পন্ন দেশপ্রেমিক। নিঃসন্দেহে তাদের শিক্ষা তিনি ধারণ করেছেন এবং নিজেও গত দু’যুগেরও বেশী রাজনীতির অভিজ্ঞতায় নিজেকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছেন।
প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে চরমভাবে শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিকভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান করেছিলেন যতদূর সম্ভব করেনাকালে লকডাউনে কর্মহীন অসহায় জনগণের পাশে আর্থিকভাবে দাঁড়াতে। তাঁর সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে বিএনপির তৃণমূলসহ প্রায় সকল নেতাকর্মী তাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়েও প্রায় দুই কোটি জনগণের কাছে ত্রানসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। এতে তিনি নেতাকর্মীদের জন্য গর্ব অনুভব করেছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
করোনার টেস্টের ব্যাপারে সরকারকে তিনি সতর্ক করেছিলেন বহির্বিশ্বের মতো সজাগ হতে, সাবধান হতে, লুকোচুরি এবং দূর্নীতি পরিহার করতে। এর অন্যথা হলে করোনার মহামারীতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাবে, বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। সরকার বিপরীত কাজই করেছে। এই জন্যই বর্তমানে আমরা এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করছি। ফ্যাসিষ্ট সরকারের অদক্ষতা এবং দূর্নীতির কারণে দেশে যেমন আমরা করোনা মহামারীতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, ঠিক তেমনি বিদেশেও আমাদের ভাবমূর্তি ভয়ানকভাবে লাঞ্চিত। এখানে দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শিতা প্রবলভাবে প্রমাণিত।
গত এক যুগ ধরে সরকারী দলের অরাজকতা, দূর্নীতি, আর্থিক পাচার তার বক্তৃতায় বিস্তারিত এসেছে। এসেছে বিরোধীদের প্রতি চরম অবিচারের কথাও। নিঃসন্দেহে এর ফলেই করোনাকালে জনগণের দূর্দশা আরো চরমে পৌঁছেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় চরম ধ্বস নেমেছে এবং করোনাকালে পথেঘাটে মানুষ মারা যাচ্ছে। করোনাকালেও ক্ষমতাসীনদের অপশাসনে জনগণের দূর্দশা এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি কতোদূর পৌঁছেছে তা দেশনায়ক তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। নিজের এবং দলের চরম দূর্দশায়ও তিনি দেশের কথা, মানুষের কথা ভুলেননি, ভুলেননি সীমিত শক্তি দিয়ে হলেও মানবতার হাত প্রসারিত করতে। এই বক্তব্যে দেশনায়ক তারেক রহমানের মানবতা, দূরদর্শিতা এবং ন্যায়নিষ্ঠ দেশপ্রেমের প্রবল পরিচয় পাওয়া যায়।
লেখক: ব‍্যারিষ্টার। সোস‍্যাল এক্টিভিস্ট।