খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ-খাদ্য সংকটে ৮৭ শতাংশ দরিদ্র: জরিপ

প্রকাশিত: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০ | আপডেট: ৬:৩৯:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।দেশে ৮৭ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী খাদ্য সংকটে পড়েছে, ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ দরিদ্রের আয় হ্রাস পেয়েছে এবং পাঁচ শতাংশ দরিদ্র মানুষ দুই বেলা খেতে পারেনি- এমন তথ্য জানিয়েছে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের প্রকাশিত এক জরিপ। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা দরিদ্র মানুষের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের কাছে কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দ্রুত ছাড় দেওয়ার দাবি জানান।

সেখানে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ছিল দুই মাসেরও বেশি। এখন ছুটি শেষ হলেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সার্বিক অর্থে স্বাভাবিক হয়নি। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি হচ্ছে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের কারো আয় হ্রাস পেয়েছে, কেউ চাকরি হারিয়েছেন, দোকানপাট এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধসহ অনেকের আয়ের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার মুখোমুখিও হয়েছেন। এতে বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টির অবস্থা এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

‘দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির ওপর কোভিড ১৯-এর প্রভাব’ শীর্ষক জরিপের এ ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীর সঞ্চালনায় সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এস এম জুলফিকার আলী ও আইসিসিও কোঅপারেশন বাংলাদেশের কর্মসূচি প্রধান মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। জরিপের তথ্য-উপাত্ত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, ‘এটা মানতে হবে সকল দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা করোনাকালে সংকটের মধ্যে পড়েছে। নগর এলাকায় আমরা ওএমএস নিশ্চিত করতে কার্ডের বিনিময়ে এটা দিচ্ছি। ঢাকায় ১২০টি স্থানে স্টলের মাধ্যমে ওএমএসের চাল, আটা ইত্যাদি স্বল্পমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা যে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ এখনও করতে পারিনি। সেটি একটি বড় সমস্যা। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫০ লক্ষ পরিবারের জন্য যে অর্থ সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন তা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বছরব্যাপী দরিদ্র মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ ফুড প্যাকেজ অব্যাহত রাখতে হবে, তাহলে পুষ্টিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘সরকারের উচিত দরিদ্রদের সহায়তা বাড়ানো, আর এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত ও এনজিওদেরকেও যুক্ত করা। তিনি বলেন, ‘ধান্দাবাজদের কারণে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যায় না। যখন তথ্য সংগ্রহ করা হয় তখন এই ধান্দাবাজরা তা বিক্রি করে ফয়দা লোটার চেষ্টা করে। এদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সঠিক তথ্য যদি আমরা সংগ্রহ করতে পারি তা হলে সঠিক মানুষের হাতে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যাবে। ব্যাংক দরিদ্রদের মাঝে দুই লাখ চার লাখ টাকা ঋণ বিতরণে আগ্রহী না। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিষ্ঠিত যেমন- জয়িতা, পিকেএসএফ, এসএমই ফাউন্ডেশন প্রভৃতির মাধ্যমেও দরিদ্রদের ঋণ দিতে পারে। মানুষ দ্রুত প্রণোদনার সুবিধা পেলে দুর্ভোগ কম হবে।’

ড. এস এম জুলফিকার আলী বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পেয়েছে অসহায় ও দরিদ্র শ্রেণির মাত্র অর্ধেক জনগোষ্ঠী। আর এই অর্ধেকেরও অর্ধেক অর্থাৎ ২৫ শতাংশ পেয়েছে সরকারি সহায়তা। তা হলে সরকারি বাকি সহায়তা গেল কোথায়? এ বিষয়টি সরকারকে ভাবতে হবে।’

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৩৪ জনের মধ্যে ৯১.৬ শতাংশ দিনে তিনবেলা এবং বাকিরা দু’বেলা খাবার গ্রহণ করতেন মহামারির আগে। কিন্তু সাধারণ ছুটির সময়ে বিভিন্ন বিভাগের ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ উত্তরদাতা তিন বেলা খাবার গ্রহণে সমস্যার মুখোমুখি হন বলে জানিয়েছেন। ময়মনসিংহ ও সিলেটে খাবারের ঘাটতি বেশি ছিল। রংপুর অঞ্চলের দরিদ্ররা খাদ্য সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুষ্টিকর খাদ্য সংকটে বেশি প্রভাব পড়েছে রাজশাহী অঞ্চলে।’

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ড. নাজনীন কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। তা হলোÑ দরিদ্র মানুষের জরুরি খাদ্য সহায়তা সহজলভ্য করার জন্য বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ (নগদ সহায়তা বা অন্যান্য) বৃদ্ধি করা। বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাসহ নগদ অর্থ মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করে নিয়মিত সুবিধাভোগীদের কাছে প্রেরণ করা। দরিদ্র শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা।