প্রতারণায় রোগীর নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করতেন ডা. সাবরিনা

প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০ | আপডেট: ১১:১৮:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

ঢাকা: প্রতারণার কাজে সুবিধার জন্য ডা. সাবরিনা রোগীর নামে নিবন্ধন করা এক মোবাইল সিম কার্ড ব্যবহার করতেন। অথচ সাবরিনার নামে নিবন্ধন করা দুটি সিম থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করতেন না। সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী ডিবি পুলিশের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে  এ তথ্য জানিয়েছেন।

বর্তমানে ডা. সাবরিনা ডিবি পুলিশের হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে সাবরিনার কাছে জানতে চাইলে সাবরিনা জানায় সিমটি কার নামে নিবন্ধন করা তা তার জানা নেই। তবে পুলিশ বলছে, ওই সিম নম্বরটি অন্যের নামে নিবন্ধন করা। অন্যের নামে নিবন্ধন করা সিম কার্ড ব্যবহার বড় ধরনের অপরাধ। কারণ এ ধরনের সিম কার্ড ব্যবহার করে তার দায় অন্যের ওপর চাপানো যায়। বিষয়টি জানতে সাবরিনার গাড়ি চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় এক বছর ধরে সাবরিনা এ সিম কার্ড ব্যবহার করেছেন।

জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার আরিফুলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রিমান্ডে সাবরিনা দাবি করেন, দুই মাস আগে তাদের তালাক হয়ে গেছে।

সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নেওয়া এবং নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ জালিয়াতি করার অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরীর মোবাইল ফোন চেক করে নানা ধরনের অনেক মেসেজ পেয়েছে পুলিশ।

প্রতিটি মেসেজের শুরুতেই সাবরিনা নিজেকে জেকেজির চেয়ারম্যান দাবি করে বলে বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সাবরিনা ও আরিফ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও একে অপরকে তারা দোষারোপ করেছেন। আবারও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অন্যদিকে ডা. সাবরিনা শুক্রবার (১৮ ‍জুলাই) পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হলে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা ও আরিফ রিমান্ডে অনেক তথ্য দিয়েছেন। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে আনা হয়েছে। সেখানে কার কী ভুমিকা, কার কী পদবি সবই জিজ্ঞেস করা হবে। তাদের মুখোমুখি এমনকি আলাদাভাবেও জিজ্ঞেস করা হবে। যে যেমন অপরাধ করেছেন সেই অনুযায়ী আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।’