নাক থেকে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে না কেন?

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০ | আপডেট: ২:২২:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।করোনাভাইরাস পরীক্ষা মানুষের শরীরের ক্ষতি করে বিভিন্ন ভাষায় এমন দাবি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এরকম কয়েকটি দাবি যাচাই করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বিবিসির রিয়ালিটি চেক বিভাগের জ্যাক গুডম্যান ও ফিয়োনা কারমাইকেল।

নাক থেকে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে না কেন?

নাকের ভেতর থেকে সোয়াব বা নমুনা নেবার একটি ছবি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে । ছবির সাথে দাবি করা হয়েছে নমুনা নেয়া হচ্ছে “ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার” থেকে।রক্ত থেকে কোনরকম বিষাক্ত পদার্থ বা জীবাণু যাতে মস্তিষ্কে ঢুকতে না পারে সেই কাজ করে এই ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার অর্থাৎ এটি মস্তিষ্কের জন্য একটি সুরক্ষা দেয়াল।নাকের ভেতর থেকে নমুনা নেবার সময় ওই দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছানো একেবারেই অসম্ভব।

কেন সেটা অসম্ভব?

মস্তিষ্ককে রক্ষা করার জন্য তাকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্তর। প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত সুরক্ষা স্তর হল মাথার খুলি। এই খুলির ভেতরেও মগজ বা মস্তিষ্ককে রক্ষা করছে সুরক্ষা ঝিল্লি এবং কিছু জলীয় পদার্থের আস্তরণ।মস্তিষ্কের দেয়ালে যে রক্তনালীগুলো আছে, সেটার মধ্যে থাকা ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার হল শক্তভাবে ঠাসা কোষের স্তর। এই সুরক্ষা স্তরের কাজ হল রক্ত থেকে ক্ষুদ্র অণুকে মস্তিষ্কে ঢুকতে বাধা দেয়া। কিন্তু রক্ত থেকে অক্সিজেন এবং পুষ্টি এই স্তর ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকতে পারে।

কাজেই বুঝতেই পারছেন, নাকের ভেতর দিয়ে সোয়াব নেবার জন্য কাঠি ভেতরে ঢোকানো হলে, মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছতে তাকে প্রথমে অনেকগুলো কোষের স্তর ভেদ করতে হবে, তারপর খুলির হাড়ের মধ্যে দিয়ে ঢুকতে হবে মস্তিষ্কের দেয়ালে রক্তনালীর ভেতর। সেখানে পাহারা দিচ্ছে ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার। তাকে ডিঙিয়ে তবেই মস্তিষ্ককে জখম করার জায়গায় পৌঁছতে পারবে সোয়াব স্টিক!

“নাক থেকে নমুনা নেবার পদ্ধতিতে যে সোয়াব স্টিক ঢোকানো হয় তা ‘ব্লাড ব্রেন ব্যারিয়ার’ বা রক্তনালীর সুরক্ষা দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছতে হলে যথেষ্ট জোরে সেটা ঢোকাতে হবে- এতটা জোরে যাতে কয়েক স্তর কোষ, কলা ও হাড় ভেঙে সেটা ঢুকতে পারে। কোভিড সোয়াব নেবার সময় এধরনের কোন জটিলতার কোন ঘটনা আমরা দেখিনি,” বলছেন ব্রিটিশ নিউরোসায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের ড. লিজ কোলথার্ড।

নাক এবং শ্বাসনালীর ভেতর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় শ্বাসনালীর মধ্যে জীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখা হয়।ব্রিটেনে নাক ও গলা থেকে নমুনা নিয়ে নিয়মিতভাবে কোভিড-১৯এর পরীক্ষা করা হচ্ছে।লিভারপুলের স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিনের ড. টম উইংফিল্ড বলছেন, “আমি হাসপাতালে বহু রোগীর নমুনা নিয়েছি। আমি একটা ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছি, ফলে নিজের নমুনাও আমি প্রতি সপ্তাহে এভাবে নিচ্ছি। নাকের ভেতর দিয়ে সোয়াব নেবার সময় মাথার অত কাছে পৌঁছন অস্বাভাবিক। এভাবে নমুনা নেবার সময় আপনার সুড়সুড়ি লাগার মত বা চুলকানির মত অনুভূতি হতে পারে, কিন্তু ব্যথা কখনই লাগবে না।”

এই ভুয়া তথ্য ছড়াতে শুরু করে ৬ই জুলাই, আমেরিকার কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এবং কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্যের সাথে টেস্টিং প্রত্যাখান করারও আহ্বান জানানো হয়।এমনকি ফেসবুকের নিজস্ব তথ্য যাচাই সংস্থাগুলোও এধরনের কিছু দাবি “ভুয়া” বলে জানিয়েছে।বিবিসি অনুসন্ধানে রুমানিয়ান, ডাচ, ফরাসি, পর্তুগিজ ভাষায় এই পোস্টে হাজার হাজার এনগেজমেন্টের নজির দেখেছে।

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা সামগ্রী থেকে সংক্রমিত কেন হবেন না

করোনাভাইরাস পরীক্ষার সরঞ্জাম থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে এমন ধারণা দিয়ে তথ্য ছড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।মহামারির শুরুর দিকে আমেরিকায় সংবাদ শিরোনাম হয়েছিল দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসির ল্যাবে পরীক্ষার ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা নেয়া হচ্ছে না এমন একটি খবর। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে করোনা পরীক্ষা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।