সি‌লে‌টে ক‌রোনার ভুয়া সা‌র্টি‌ফি‌কেট দিতেন ডা. শাহ আলম-ভ্রাম্যমাণ আদালত

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৮:১২:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

সিলেট। সি‌লে‌টে অর্থের বিনিময়ে করোনা রোগীদের ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান ও নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েও রোগী দেখার দায়ে এএইচএম শাহ আলম নামে এক চিকিৎসককে একলাখ টাকা জরিমানা ও চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার রা‌তে নগরীর মধু শহীদ এলাকার বেসরকা‌রি মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নীচ তলায় ডা. শাহ আলমের চেম্বারে অভিযান চালায় র‌্যাব-৯। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় বলেন, ‘ডা. আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে ৪ মাসের জেল, ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি অনাদায়ে আরও ১ মাসের জেল দেওয়া হয়। তার সব অনিয়মের প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।’

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম জানান, ডা. আলম বিদেশযাত্রীসহ কয়েকজনকে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট টাকার বিনিময়ে দিয়েছেন বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেন। পরে তাকে নিয়ে তার চেম্বার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়।

সামিউল আলম বলেন, ‘তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। যদিও তিনি কোনো সরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন না। এ ছাড়া তিনি নিজে গত ১৪ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন। এই তথ্য গোপন রেখেই তিনি চেম্বারে রোগী দেখে যাচ্ছেন।’

বিদেশ যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও এয়ারলাইন্স করোনা নেগেটিভ সার্টিফেকেট বাধ্যতামূলক করার পর প্রবাসীদের টার্গেট করেন ডা. শাহ আলম। ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার বিপরী‌তে তিনি চার হাজার টাকা করে আদায় করেন। ফ্লাইটের ৪৮ ঘন্টা আগে তিনি ওই প্রবাসীকে ডেকে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেন প্রত্যয়নপত্র। রোগী বা যাত্রীকে না দেখেই নিজের প্যাডে দেওয়া ওই প্রত্যয়পত্রে ডা. শাহ আলম লিখে দেন, তিনি ওই ব্যক্তিকে তার চেম্বারে দেখেছেন। তার মধ্যে কোভিড-১৯ এর কোন লক্ষণ নেই।