টাকার জন্য হাসপাতালে লাশ বেঁধে রাখার অভিযোগ, ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০ | আপডেট: ১:১১:অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।টাকার জন্য মৃত ব্যক্তির হাত বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনা তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে ঘটনায় মৃতের পরিবারের করা অভিযোগ এজাহার হিসেবে নিতে শাহজাহানপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রোগীর মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মৃতের ভাই জসিম উদ্দিন রুবেলের করা রিটের শুনানি হয় আজ।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) পরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), প্রশান্তি হাসপাতালের পরিচালক ও আইসিইউয়ের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার আব্দুল আলিম এবং জেনারেল ম্যানেজার।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ১৪ জুন রাজধানীর মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালে ভর্তি হন মহিন উদ্দীন পারভেজ। অনেকটা সুস্থ থাকার পরও তাকে জোর করে আইসিইউতে পাঠিয়ে দেন আইসিইউ কনসালটেন্ট ডা. আলীম।

এরপর ১৮ জুন ভোরে মারা যান মহিন উদ্দীন পারভেজ। এসময় স্বজনদের কাছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয় হাসপাতাল। এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় রোগীর স্বজন রুবেলের মোবাইল কেড়ে নেন ডা. আলীমের ম্যানেজার সাইফুল।

রুমে আটকে রেখে রুবেলকে বলা হয়, টাকা না দিলে তাকে র‌্যাবের‌ কাছে দেওয়া হবে। আর তার ভাইয়ের লাশ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে দিয়ে দেওয়া হবে।

চাপের মুখে পড়ে রুবেল তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা হাসপাতাল খরচ ও প্রায় ৬০ হাজার টাকা ওষুধের দাম দেন। পরে লাশ নিয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় ছাড়া পান তিনি।

উল্লেখ্য, মৃত ব্যক্তির হাত বেঁধে রাখা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেই প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে থাকা আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা ডা. মহিন উদ্দীন পারভেজ।