দুই তারকা নারীর সংসারও ভাঙ্গে সাহেদের কারণে, হোটেল দখলের মতো অন্যের নারীকেও দখলে প্রতারণা

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০ | আপডেট: ৭:৫৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।প্রতারক জগতের মাস্টার মাইন্ড শাহেদ শুধু বিভিন্ন সেক্টরে প্রতারণা করেই ক্ষান্ত হননি। তার ফাঁদে পড়ে দুই তারকা দম্পতির সংসার তছনছ হয়ে গেছে। তাদের সংসার ভাঙার পেছনে শাহেদ দায়ী। একই জগতে প্রেমে ব্যর্থও হয়েছেন তিনি। এক নায়িকার প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়ে উঠেনি।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই নায়িকা ছাড়াও এসেছে দুই নারী তারকার কথা। টিভি মিডিয়ার সংগঠন ডিরেক্টর গিল্ডস’র এক নেতার সঙ্গে উত্তরা-ছয় নম্বর সেক্টরে নয় নম্বর সড়কের হোটেল মিলিনায় নিচতলায় রেস্টুরেন্টে খেতে যেতেন দুই নারী তারকা। ওই অভিজাত হোটেলটির দখলদার মালিক শাহেদ।বছর কয়েক আগে এক বৈধ হোটেল মালিকের কাছ থেকে তিনি নাম ভাঙিয়ে ওই  হোটেলটি দখল করেছেন। সেই হোটেলের রেস্টুরেন্টে পরিচয় হয় শাহেদের সঙ্গে দুই নারী তারকার। মোবাইলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলা শুরু হয় তাদের। শাহেদের সঙ্গে যখন থেকে তাদের সম্পর্ক হয় তখন থেকে শাহেদ হোটেলের ক্যাশিয়ারকে বলে দিয়েছেন যে, তারা হোটেলে খেতে এলে বিল যেন না নেয়া হয়। মাঝে-মধ্যে শাহেদও তাদের মোটা অংকের টাকা দিতেন। শাহেদের উদারতায় দুই নারী তারকা পটে যান। এরমধ্যে একজনকে নিয়ে তিনি থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। ওই তারকা তার স্বামীকে বলে গিয়েছিলেন যে, থাইল্যান্ডে তার একটি শো আছে। কিন্তু, পরে তিনি জানতে পারেন  যে, তার  কোনো শো ছিল না। বরং এক ব্যবসায়ীর আমন্ত্রণে একসঙ্গে থাইল্যান্ডে গেছেন। শুধু তাই নয়, হোটেলের এক রুমে তারা রাতও কাটিয়েছেন। এরপর ওই তারকার স্বামী তাকে ডিভোর্স দিয়ে দেন। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে  দুই নারী তারকার নাম উঠে আসে। দুই তারকার টিভি মিডিয়ায় খ্যাতি রয়েছে। তারা দুইজন তার রেস্টুরেন্টে খেতে যেতেন। একদিন রাতে শাহেদ তার একজন গেস্টকে নিয়ে তার রেস্টুরেন্টে  খেতে যান। এ সময় ক্যাশিয়ারের সামনে তাদের পরিচয় হয়। এছাড়াও দুই তারকাকে যে ডিরেক্টর গিল্ডের নেতা সেই রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেছেন তাকে আগে থেকেই চিনতেন শাহেদ। তার পরিচয় সূত্র ধরেই দুই তারকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে শাহেদের।

সূত্র জানায়, পরিচয়ের পর শাহেদ তাদের নিয়ে শপিংয়ে  যেতেন। দেশের বিভিন্নস্থানে লং ড্রাইভে যেতেন। তার মধ্যে একজনকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে হেলিকপ্টারে পার্বত্য এলাকার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে এবং গত বছরের মার্চ মাসে একজনকে নিয়ে থাইল্যান্ডে যান শাহেদ। তাদের যাতায়াত সম্পর্কের বিষয়টি দুই নারী তারকার স্বামীরা জেনে যান। তাদের সম্পর্ক যাতে না থাকে এরজন্য দুই তারকার স্বামী তাদের সতর্ক করে দেন। কিন্তু স্বামীদের কথায় তারা সাড়া দেননি। এ সময় তাদেরকে অর্থ ও বিত্তের লোভ দেখান শাহেদ। তারাও লোভে পড়ে যান। শাহেদের হয়ে দুই তারকাকে অর্থ লেনদেন এবং ভালো-মন্দ দেখাশোনার জন্য শাহেদ তার রিজেন্ট হাসপাতালের এক ব্যক্তিগত নারী উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এতে দুই তারকা শাহেদের ওপর অনেক সন্তুষ্ট ছিলেন।

শাহেদের ফাঁদে পড়া ওই নারী তারকা দম্পতির এক স্বামী শাহেদের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তার কথায় পাত্তা না দিয়ে নিজের স্ত্রীকে সামলানোর পরামর্শ দেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা  গেছে, গতকাল শাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করার চতুর্থদিন অতিবাহিত হয়েছে। রিমান্ডে তার কাছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তারাই বিস্মিত। তবে শাহেদ  কিছু  প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার সিনেমা জগৎকে কেন্দ্র করে স্বপ্ন, প্রেম ও পরিণয়ের কথা বলেছেন। একজন উঠতি নায়িকার প্রেমে পড়েছিলেন শাহেদ। ওই নায়িকার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায়। তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন শাহেদ। কিন্তু ওই নায়িকা তার ক্যারিয়ারের কথা ভেবে তাকে বিয়ে করতে রাজি হননি। তারপরও তিনি তার পিছু ছাড়েননি। পরক্ষণে ওই নায়িকা তাকে ফোন করে বলেছিলেন যে, তিনি তার পিছু যদি না ছাড়েন তাহলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রতারণার বিষয়টি জানাবেন। এরপর থেকে তিনি ওই নায়িকাকে আর বিরক্ত করেননি। গেল জানুয়ারিতে একটি পার্টিতে তাদের মুখোমুখি দেখা হয়েছিল। কিন্তু তারা দুইজনই মুখ ফিরিয়ে নেন। এই কথা বলার সময় শাহেদ কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে যান। এসব বিষয়ে মামলার মুখ্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) এডিসি বদরুজ্জামান জিলু জানান, অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না।

গত ৬ই জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব’র ভ্রাম্যমাণ আদালত। লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল পরিচালনা ও ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দেয়ার কারণে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সূত্র জানায়, এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। গত বুধবার সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। শাহেদ এখন ঢাকা মহানগর উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে আছেন।