গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পান খাওয়ার প্রলোভনে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণকারী বাবলু গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০ | আপডেট: ৩:১৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

আশরাফুজ্জামান সরকার, গাইবান্ধা:গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীর উপজেলার ৬নং বেতকাপা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামে পান খাওয়ার প্রলোভনে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ। এ ব্যাপারে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে । ধর্ষণের অভিযোগে দ’ সন্তানের জনক লম্পট ধর্ষক বাবলু মিয়াক ওরফে বালু খেকো বাবলু (৪৫)’কে গ্রেফতার করেছে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ।

মামলার বিবরণে ও সরেজমিনে প্রকাশ,পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হক মোজা মিয়ার ছেলে দু’ সন্তানের জনক নারীলোভী লম্পট বাবলু মিয়া ওরফে বালু খেকো বাবলু তার ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তার পাশের বাড়ীর দরিদ্র মন্টু মিয়ার অবিবাহিত কুড়ি বছরের প্রতিবন্ধী কন্যার প্রতি তার লোলুপ কু-দৃষ্টি পড়ে। সময়ের ব্যবধানে সুযোগ বুঝে এর আগেও বাবলু তাকে একাধিক দিন ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি ধর্ষকের স্ত্রী দেখে ফেলে এবং তা প্রকাশ করে দেয় এবং এসব ঘটনা ভিকটিম ও স্থানীয় এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানায়। পারিবারিক ও সামাজিক আত্মসম্মানের ভয়ে সে সময় বিষয়টি গোপন থাকে। স্ত্রী ঘটনা প্রকাশ করায় বাবলু স্ত্রী কে মারধর ও নানা হুমকির ফলে নিরাপত্তার জন্য ভয়ে বাবার বাড়ি চলে গেছে।

ঘটনার দিন দ্বিতীয় দফায় গত ১৬ জুলাই কেউ না থাকার সুযোগে বাবলু মিয়া সকাল ৯টার দিকে প্রতিবন্ধীর বসতবাড়ীতে ঢুকে। নানা প্রলোভনসহ এক পর্যায়ে পান খাওয়ানোর কথা বলে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাবলু তার নিজ বাড়িতে আসতে বলে। এসময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ধর্ষিতাকে তার নিজ বাড়ীতে রেখে আসে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ধর্ষক বাবলু অন্যত্র গাঁ-ঢাকা দেয়। এদিকে এ নিয়ে ধর্ষিতার বাবা দরিদ্র মন্টু মিয়া ধর্ষক বাবলু মিয়াকে আসামী করে পলাশবাড়ী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা (নং-১৫, তাং-২০/০৭/২০) দায়ের করেন।

উল্লেখ্য যে, বাবলু মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হলে তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সাকোয়া গ্রামের জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ২ কন্যা সন্তানের জননী প্রতিবেশী সম্পর্কে বোয়াসিন (ছোট ভাই বৌ) এর উপর। পরে ওই নারী লোভী লম্পট বাবলু ভাগিয়ে নিয়ে যায় এবং সে সময় বাবলুকে এলাকাবাসী এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জুতার মালা পড়িয়ে কয়েক গ্রাম ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। এতকিছুর পরও বাবলু ওই বোয়াসিনকে (ছোটভাই বউ)কে ২য় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে ঘরসংসার করে ২ ছেলে সন্তানের জনক হয়। ছেলেরা এখন অনেক বড়।

এদিকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঠেরহাটে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক বাবলু মিয়াকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার আটক ধর্ষক বাবলুকে গাইবান্ধা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হবে।