পাঁচশ বছরের গাছ বাঁচাতে গ্রামবাসীর জীবনবাজি

প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৬:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।ঝিনইদহের কালীগঞ্জে প্রায় ৫শ বছরের পুরাতন বিশাল তেঁতুলগাছ বাঁচাতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক সংগঠন। শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টার সময় উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারে অবস্থিত তেঁতুলগাছ তলায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনের আয়োজন করে বালিয়াডাঙ্গা ছাত্র যুবসমাজ ও ঐতিহ্যবাহি সম্পাদ রক্ষাকারী কমিটি, স্বপ্ন ছোঁয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বালিয়াডাঙ্গা গ্রামবাসি। মানববন্ধনের আগে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

সাংসদ আনার বলেন, স্থানীয়রা না চাইলে গাছ বাঁচিয়ে হাট চান্দির কাজ করা হবে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি চক্র ঐতিহ্যবাহি এ গাছটি কাটতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গাছটি কাটা হচ্ছে ঘটনা জানাজানির পর এলাকার মানুষ ওই গাছ খেকো চক্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।

ওই দিন দুপুর ১টার দিকে গ্রিনভয়েস নামের একটি পরিবেশ রক্ষাকারী সংগঠন তেঁতুলতলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসময় কালীগঞ্জ থানার ওসি মুহা. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা পদির্শন করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান (৬০) নামের এক বৃদ্ধ জানান, সম্প্রতি আমফান ঝড়ে বাজারের তেঁতুল গাছটির একটি ছোট ডালও ভেঙে পড়েনি। গাছের কোনো শুকনো ডালও নেই। এই গাছের ডাল ভেঙে পড়ে কোনো ব্যক্তির হতাহতের ঘটনাও কখনো ঘটেনি। কিন্তু এরই মাঝে এই গাছটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে কাটার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই গাছের জন্য আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।

তিনি জানান, বালিয়াডাঙ্গা বাজারের এই তেঁতুল গাছটি আমাদের ঐতিহ্য। বাজারের সবকিছু এই গাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গাছের তলায় সপ্তাহে দুদিন বাজার বসে। এছাড়াও প্রচণ্ড খরায় এই গাছই আমাদের ছায়া দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। এই গাছের নিচেই আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে দোকানদারি করছি।

স্থানীয়রা জানায়, বাজারের হাট-চান্দি নির্মাণের জন্য আমাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। গাছ কাটার ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। তারা সকলেই গাছটি না কাটার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

বালিয়াডাঙ্গা বাজারের পল্লী চিকিৎসক ডা. সিদ্দিকুর রহমান (৬৫) জানান, গ্রামবাসী ও বাজারের শতকরা ৯৫ মানুষ গাছটি না কাটার পক্ষে। এই গাছটির দ্বারা কেউ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাজারে সরকারি জমিতে অনেক দোকান আছে সেগুলো উচ্ছেদ করলেই বড় হাট চান্নি নির্মাণ করা সম্ভব।

সুলতান আহমেদ নামের এক যুবক জানান, এই গাছটি বাজারের ঐতিহ্য। গাছটি বাঁচাতে জীবন দিতে রাজি আছি। গাছ না কাটার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা বাজারের মাঝখানে ৫শ বছরের পুরাতন এই গাছটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই গাছের ছায়ায় প্রতিবছর বৈশাখী মেলা বসে। প্রতিবছর এই গাছে প্রচুর তেঁতুল উৎপাদন হয়। যার বিক্রিত অর্থ বাজারের একমাত্র মসজিদের উন্নয়ন কাজে জমা হয়। গাছটির অবস্থান শ্রীবৃদ্ধি করে দাঁড়িয়ে থাকা কালের সাক্ষী এই মহীরুহকে কাটতে এলাকার কিছু লোক উঠেপড়ে লেগেছে।

গত ২২ জুন গাছটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে নতুন হাট চাঁদনি নির্মাণের কথা বলে। এই গাছ কাটার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেয়া আবেদনে স্থানীয় ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ছানা জোর সুপারিশ করে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। আবেদনটি করেন ইউনিয়নের ৭নং ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও ৮নং ইউপি সদস্য কে এম শামছুল হক।