চীন আমাদের দু’দেশের জন্যই বিপদ, ভারতকে বললেন পম্পেয়ো

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০ | আপডেট: ৬:১৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি।পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত-চিন সংঘাত এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই চিনের বিরুদ্ধে কার্যত বোমা ছুড়লেন মার্কিন বিদেশ সচিব। ইন্ডিয়া লিডস সামিটে মাইক পম্পেয়োর ঘোষণা, ‘‘চিনের কমিউনিস্ট পার্টি দু’দেশের কাছেই বিপদ।’’ গালওয়ান উপত্যকায় নিহত শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চিন নির্ভরতা কমানোর কথাও বললেন মার্কিন বিদেশ সচিব। নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটনের বন্ধুত্বের এই বার্তার পরেই চিনের পাল্টা, ভারত যেন স্বতন্ত্র বিদেশনীতি রক্ষা করে।

ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পর্যালোচনায় আয়োজিত অনলাইন পর্যালোচনা বৈঠক ‘ইন্ডিয়া লিডস’-এ বুধবার রাতে বক্তব্য পেশ করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামিটের আয়োজক ‘ইন্ডিয়া-ইউ এস বিজনেস কাউন্সিল’। এই সামিটেই মাইক পম্পেয়ো চিনের কমিউনিস্ট পার্টির বিপদের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওষুধের মতো ক্ষেত্রে চিন-নির্ভরতা কমাবে আমেরিকা।’’ ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকা যে সব সময়ই পাশে দাঁড়িয়েছে, সে কথাও আরও এক বার স্মরণ করিয়ে দেন মার্কিন বিদেশ সচিব।

কিন্তু নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটনের এই সখ্য চিন যে ভাল ভাবে নেবে না, তা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল নয়াদিল্লি। সেই মতোই বিবৃতি দিয়ে চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েবিন বলেছেন, ‘‘আমরা আশা ও বিশ্বাস করি যে, ভারত তার স্বাধীন গণতান্ত্রিক নীতিতে অটুট থাকবে। ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে ভারত।’’পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনা আগ্রাসন এবং তার জেরে গালওয়ান উপত্যকায় সেনা সংঘর্ষের জেরে ভারত-চিন সম্পর্কে অভূতপূর্ব শৈত্য। আবার গত কয়েক বছরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও ক্রমেই উন্নত হচ্ছে। উল্টো দিকে বেজিংয়ের সঙ্গে আবার নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন দু’দিকেই সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। চিনের উহানের ল্যাব থেকে করোনাভাইরাসের সৃষ্টি কি না, তা নিয়ে তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবারই মার্কিন মুলুকের হিউস্টনের চিনা দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এমন আবহে মাইক পম্পেয়ো যে ভাবে কার্যত কোনও রাখঢাক না রেখে ভারতের পক্ষে এবং চিনের বিপক্ষে মন্তব্য করলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।