সানফ্রান্সিসকোতে চীনের দূতাবাস নিয়ে এবার জটিলতা? চীনা বিজ্ঞানী সেখানে লুকিয়ে?

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০ | আপডেট: ২:১৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক বিতণ্ডা চলতে থাকার মধ্যেই, সান ফ্রান্সিসকো শহরের চীনা কনস্যুলেটে একজন পলাতক চীনা বিজ্ঞানীর লুকিয়ে থাকার ঘটনা নিয়ে আদালতে মামলা শুরু হয়েছে।তার বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি এবং সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্কের কথা গোপন করার অভিযোগ উঠেছে।

কৌঁসুলিরা বলছেন, চীনের সামরিক বাহিনীর বিজ্ঞানীদের নানা ছদ্ম-পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর একটি কর্মসূচি আছে – এবং এ ঘটনা তারই অংশ।এর একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরের চীনা কনস্যুলেটে কিছু লোক দলিলপত্র পুড়িয়ে ফেলছে – এমন এক ভিডিও বেরুনোর পর ট্রাম্প প্রশাসন মিশনটি বন্ধ করার আদেশ দেয়।সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে উপস্থাপিত দলিলপত্রে কৌঁসুলিরা বলেন, জুয়ান ট্যাং নামে ওই চীনা বিজ্ঞানী ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞানের একজন গবেষক ছিলেন।

এফবিআই-এর কৌঁসুলিরা ক্যালিফোর্নিয়া আদালতে দায়ের করা এক মামলায় বলছেন, ঐ বিজ্ঞানী চীনা সেনাবাহিনীর (পিএলএ) সদস্য, কিন্তু ভিসার আবেদনপত্রে তিনি তা গোপন করেছেন।মামলার দলিলপত্রে বলা হয়, গত মাসে এফবিআইয়ের এজেন্টদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিজ ট্যাং বলেছিলেন যে তিনি কখনো চীনা সামরিক বাহিনীতে কাজ করেননি।

কিন্তু এক তদন্তে মিজ ট্যাংএর এমন কিছু ফটো পাওয়া গেছে – যাতে তাকে সামরিক বাহিনীর পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়। এ ছাড়া তার বাড়িতে এক তল্লাশি চালানোর পর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সাথে তার সংশ্লিষ্টতার আরো কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়।দলিলে বলা হয়, “জুন মাসের ২০ তারিখের ওই সাক্ষাৎকার এবং তল্লাশির পর মিজ ট্যাং সান ফ্রান্সিসকোর চীনা কনস্যুলেটে যান এবং এফবিআইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী তিনি সেখানেই আছেন।”

এতে আরো বলা হয়, “ট্যাংএর ঘটনায় দেখা যাচ্ছে যে সান ফ্রান্সিসকোর চীনা কনস্যুলেট একজন পিএলএ কর্মকর্তাকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে – যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের সম্মুখীন হওয়া এড়াতে চান।”কৌঁসুলিরা আরো বলেন, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটা চীনা সামরিক বাহিনীর একটি কর্মসূচির অংশ – যার অধীনে সামরিক বিজ্ঞানীদের ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে।

সম্প্রতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ক্ষেত্র সহ নানা বিষয়ে বৈরিতা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে করোনাভাইরাস, বাণিজ্য এবং হংকং প্রশ্ন যেমন রয়েছে – তার সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কনস্যুলেট ইস্যু।হিউস্টনে কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ নিয়ে বিতর্কের মাঝে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন তিনি চীনের আরো কনস্যুলেট বন্ধ করে দেবেন। ওয়াশিংটনের দূতাবাস ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে চীনের মোট পাঁচটি কনস্যুলেট রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, হিউস্টনের কনস্যুলেটটি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরিতে জড়িত ছিল।চীন সরকার বলছে যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের বিজ্ঞানী, চীনা ছাত্র-ছাত্রী এবং কনস্যুলেটগুলোকে নানাভাবে হেনস্থা করছে।চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বোমা হামলা এবং হত্যার হুমকি পেয়েছে।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং টু্ইট করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সরকার যেভাবে চীনের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে তার পরিণতিতেই দূতাবাসকে লক্ষ্য করে বোমা ও হত্যার এই হুমকি।”