জিলহজ্জের প্রথম দশকের করণীয় (পর্ব চার/সমাপ্ত)-মুফতি মুহাম্মাদ আকতার আল-হুসাইন

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩১:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

মুফতি মুহাম্মাদ আকতার আল-হুসাইন

পবিত্র জিলহজ্জের প্রথম দশকের শেষ দিন তথা কুরবানীর দিন হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতের দিন। ঐ দিন আবার বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের দিন। ঐ দিনে দুই রাকাত ঈদুল আদ্বহার ওয়াজীব নামাজ আদায় করে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার লক্ষে আল্লাহর নামে পশু জবাই করে থাকেন যাদের উপর কুরবানী ওয়াজীব। কুরবানী ছাড়াও ঐ দিন আমরা যে কাজ গুলো করতে পারি সে বিষয়গুলো আমরা জানব ইনশা আল্লাহ।

🕋 ঐ রাতে নফল ইবাদত করা।

যেহেতু এই রাত জিলহজ্জের প্রথম দশকের মধ্যেই পড়ে তাই প্রতিদিনের মত আমরা ঐ রাতে আল্লাহর ইবাদাতে মগ্ন থাকতে পারি। বিশেষ করে যেহেতু ঐ রাত ঈদের রাত তাই আমরা নফল ইবাদাত একটু বেশি করার চেষ্টা করব। কারণ ঈদের রাতের ইবাদত করার ফজিলতের বর্ণনা বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফের হাদিসে এসেছে- “হযরত আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আদ্বহার রাতে (সাওয়াবের নিয়তে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐ দিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। (অর্থাৎ কিয়ামতের দিনে তার কোন ভয় থাকবে না)”। অন্য একটি হাদিসে এসেছে- “হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। তারবিয়ার রাত (জিলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখের রাত), আরাফার রাত, কুরবানী দিবসের রাত এবং ঈদুল ফিত্বরের রাত ও শবে বরাতের রাত”। (আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আসবাহানী ও লিল মুনজেরী)

🕋 ফজরের নামাজ মাসজিদে গিয়ে আদায় করা।

প্রতিদিনের মত ঈদের দিনও যথা সময়ে মাসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করার চেষ্টা করা। ফজরের নামাজের ফজিলত সম্পর্কে মুসলিম শরীফের হাদিসে এসেছে- “হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ইশার নামাজ আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফাজরের নামাজ জামাআতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল”।

🕋 সকালে গোসল করা।

ঈদের দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া ও ঈদুল ফিত্বরের নামাজ আদায় করার লক্ষ্যে সকালে গোসল করা। যেমন সুনানে ইবনে মাজাহ এর হাদিসে এসেছে- “হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বর ও ঈদুল আদ্বহার দিন গোসল করতেন”। হযরত ইমাম মালিক (রঃ) উনার কিতাব মুয়াত্তা ইমাম মালিকে একক ভাবে বর্ণনা করেছেন- “হযরত নাফি (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) ঈদুল ফিত্বরের দিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন”।

🕋 মিসওয়াক করা।

মিসওয়াক করার অনেক ফজিলত রয়েছে এবং
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করাকে অশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সুনানে আন-নাসাঈ এর মধ্যে এসেছে- “হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ও আল্লাহর সন্তোষ লাভের উপায়”।

🕋 সুগন্ধি ব্যবহার করা

ঈদের দিন সুগন্ধি ব্যবহার করার বিষয়ে মুস্তাদরাকে হাকেম এর চতুর্থ খণ্ডে একখানা সুন্দর হাদিস এসেছে- “হযরত হাসান ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন আমাদের নির্দেশ দিতেন। আমরা সর্বোত্তম সুগন্ধি ব্যবহার করি”।

🕋 উত্তম কাপড় পরিধান করা।

বুখারী শরীফের হাদিসে এসেছে- “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বাজারে বিক্রি হচ্ছিল এমন একটি রেশমী জুব্বা নিয়ে হযরত উমর (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি ক্রয় করে নিন। ঈদের সময় এবং প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এটি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করবেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন এটি তো তার পোষাক, যার (আখিরাতে) কল্যানের কোন অংশ নেই।(অর্থাৎ তাকওয়া ও সওয়াবের)”। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদ উপলক্ষে সুন্দর পোশাক পরার ব্যাপারে নিষেধ করেননি। কিন্তু তিনি এ জুব্বা কিনতে সম্মতি দেননি যেহেতু সেটি ছিল রেশমের তৈরী জুব্বা।

⬛ সহিহ ইবনে খুযাইমা কিতাবে এসেছে- “হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন একটি লাল রেখা বিশিষ্ট ইয়ামনী চাদর ছিল যেটা তিনি দুই ঈদের সময় ও জুমার দিন পরিধান করতেন”। মুস্তাদরাকে হাকেম এর চতুর্থ খণ্ডে একখানা সুন্দর হাদিস এসেছে- “হযরত হাসান ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন আমাদের নির্দেশ দিতেন। আমরা সর্বোত্তম কাপড় পরিধান করি”।

🕋 সকালে কিছু আহার না করা।

সুনানে তিরমিজী ও ইবনে মাজাহ সহ বহু হাদীসের মধ্যে এসেছে- “হযরত বুরায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ও ঈদুল আদ্বহার দিন কিছু খেয়ে নামাজের জন্য বের ‌হতেন না”।

🕋 নফল নামাজ আদায় না করা।

ঈদের দিন ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঘরে, ঈদগাহে অথবা মাসজিদে কোন নফল নামাজ না পড়া। সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফের হাদিসে এসেছে- “হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে লোকদের সাথে সালাত পরেন। তিনি ঈদের সলাতের পূর্বে বা পরে (নফল) সালাত পড়েননি”।

🕋 তাকবির পাঠ করা।

ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবীর পাঠ করা। যে তাকবীর জিলহজ্জের নবম দিন তথা আরাফার দিন ফজরের নামাজ থেকে শুরু করা হয়। পবিত্র কুরআনুল কারীমে সূরা বাকারাহ এর ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- “তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর”। মুস্তাদরাকে হাকেমে এসেছে- ঈদুল আদ্বহায় যাওয়ার সময় এ তাকবীর উচ্চ আওয়াজ করে পড়তে থাকবে। তাকবির হচ্ছে- “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ”। অনুবাদ- আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই ও আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান ও সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

🕋 সকাল সকাল ঈদগাহে রাওয়ানা করা।

ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজের জন্য সকাল সকাল ঈদগাহে রাওয়ানা করা। সুনানে আবু দাউদ শরীফের হাদিসে এসেছে- “হযরত আবূ উমাইর ইবনে আনাস (রহঃ)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একদল আরোহী এসে সাক্ষ্য দিলো যে, গতকাল তারা (ঈদের) চাঁদ দেখেছে। তিনি লোকদেরকে রোজা ভঙ্গ করার এবং পরদিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন”।

🕋 ঈদগাহে ভিন্ন রাস্তায় যাতায়াত করা।

ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে যাওয়া আসার সময় ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতেন। সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিজী শরীফের হাদিসে এসেছে- “হযরত ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন”। তিরমিজী শরীফের হাদিসে আরো এসেছে- “হযরত আলী (রাঃ) থেকে বলেন, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত”।

🕋 ঈদের নামাজ আদায় করা।

ঈদের দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দুই রাকাত ওয়াজীব নামাজ আদায় করা। হানাফী মাযহাবের ফকিহগনের মতে ঈদের নামাজের শরয়ী হুকুম হচ্ছে এটা আদায় করা ওয়াজীব। এ বিষয়ে আল-মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ এর মধ্যে এসেছে- “হানাফি মাযহাবের ফকিহগণের বিশুদ্ধ মতে ঈদুল ফিতর ও আদ্বহার নামাজ হচ্ছে ওয়াজীব”। আল্লামা আব্দুর রহমান আল-জাযীরি (রহঃ) তার কিতাব আল ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা এর প্রথম খণ্ডে বলেছেন- “ঈদুল ফিত্বর ও আদ্বহার নামাজ হচ্ছে ওয়াজীব”৷ উক্ত কিতাবের মধ্যে আরো বলা হয়েছে- “ঈদের নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য জুমার নামাজের ন্যায় জামাত হওয়া শর্ত”৷ (মাযাহিবুল আরবা প্রথম খণ্ড)

◼ জামাতে পড়তে না পারলে কি করা?

হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফেকার কিতাব হেদায়ার মধ্যে এসেছে- “যে ব্যক্তির ইমামের সাথে ঈদের নামাজ ফউত হয়ে গেছে, সে তা কাযা পড়বে না। কেননা এই প্রকৃতির নামাজ এমন কিছু শর্তসাপেক্ষেই ইবাদত রূপে স্বীকৃত হয়েছে, যা মুনফারিদ দ্বারা (একজনের দ্বারা) সম্পন্ন হতে পারে না”। হানাফী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ কিতাব আল ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা এর প্রথম খণ্ডে এ বিষয়ে বলা হয়েছে- “আহনাফের কথা হলো- জুমার নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য যেমন জামাত শর্ত ঠিক তেমনি ভাবে ঈদের নামাজের জন্যও জামাত শর্ত৷ তারা আরো বলেন, যদি কোন কারণে ঈদের জামাত ছুটে যায় ঐ সময় কিংবা অন্য সময়ে আদায় করা লাগবে না”৷ উনারা আরো বলেছেন- “আর যদি পড়তে চায় তাহলে সে চার রাকাত নামাজ (নফল) আদায় করবে অতিরিক্ত তাকবীর ছাড়া। তাতে প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা পাঠের পর পড়বে সূরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে পড়বে সূরা দুহা, তৃতীয় রাকাতে পড়বে সূরা ইনশিরাহ, আর চতুর্থ রাকাতে পড়বে সূরা সূরা তীন”৷ (আল ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা প্রথম খণ্ড)। এখানে যদিও বিভিন্ন সূরার নাম এসেছে। কিন্তু আপনি কুরআনুল কারীমের যে কোন সূরা দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। বরং আপনার জন্য যেটা সহজ এবং বিশুদ্ধভাবে মুখস্ত আছে সেই সূরা দিয়ে আদায় করা উত্তম হবে। এবং এক সালামে চার রাকাত না পড়ে দুই রাকাত করেও পড়তে পারেন। ইনশা আল্লাহ আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহ কবুল করবেন।

🕋 কুরবানী করা।

ঐ দিনের সবচেয়ে উত্তম এবং ফজিলতপূর্ণ কাজ হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে ঈদের নামাজ শেষ করে আল্লাহর নামে পশু জবাই করা। সূরা কাউছারের ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন- “সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করুন এবং কুরবানী করুন”। সুনানে ইবনে মাজাহ এর হাদীসে এসেছে- “হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্তেও কুরবানী করেনা, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে”। সুতরাং কেউ প্রাপ্ত বয়স্ক হয়, জ্ঞানবান হয়, মুকিম হয় ও মালে নেসাবের মালিক হয় তখন তার উপরে কুরবানীর দিনে কুরবানী করা ওয়াজীব। (ফতোয়ায়ে শামী)

🕋 কুরবানীর ফজিলত।

সুনানে তিরমিজী ও ইবনে মাজাহ এর হাদীসে এসেছে- “হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কুরবানীর দিনে আদম সন্তানগণ এমন কোন কাজ করতে পারে না যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করার (অর্থাৎ কুরবানী করা) চেয়ে বেশী প্রিয় হতে পারে। কুরবানীর সকল পশুর শিং, পশম, এদের ক্ষুরসহ ক্বিয়ামাতের দিন (নেকীর পাল্লায়) এসে হাজির হবে। কুরবানীর পশুর রক্ত মাটি স্পর্শ করার পূর্বেই আল্লাহর নিকট মর্যাদাকর স্থানে পৌঁছে যায়। তাই তোমরা সানন্দে কুরবানী করবে”।

⬛ এছাড়াও কুরবানীর আরো অনেক ফজিলত আছে কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কিতাবে। আর কুরবানীর অনেক মাসআলা আছে যে গুলো সবার জানা খুব জরুরী বিশেষ করে যারা কুরবানী দিবেন। আমরা বলব এগুলো মাসজিদের ইমাম, খতিব অথবা নিকটবর্তী ভালো কোন আলিম সাহাবের কাছ থেকে যেনে নিবেন যখন যেটার প্রয়োজন মনে করেন।

🕋 আনন্দ উৎযাপন করা।

ঐ দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের খুশির দিন হিসেবে খুশি উৎযাপন করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা হতে হবে শরীয়তের গন্ডির ভিতরে থেকে। সুনানে আবু দাউদ ও নাসাঈ শরীফের হাদিসে এসেছে- “হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদীনাহতে আগমন করেন সে সময় তারা (মদীনা বাসীগণ) দুটো দিনে খেলাধূলা করত। নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহ তোমাদেরকে এ দুটোর পরিবর্তে উত্তম দুটো দিন দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে আদ্বহার দিন ও ফিত্বরের দিন”।

🕋 শুভেচ্ছা বিনিময় করা

ঈদের শিষ্টাচারের মধ্যে রয়েছে পরস্পরের মাঝে উত্তম পদ্ধতিতে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। সে শুভেচ্ছার ভাষা যে ধরণেরই হোক না কেন। যেমন কেউ কেউ বলেন, “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম” তথা আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করে নিন। কিংবা ঈদ মোবারকসহ এ ধরণের অন্য যে কোন বৈধ ভাষায়। হযরত জুবাইর বিন নুফাইর (রঃ) বলেন, ঈদের দিন নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীবর্গ যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাত করতেন তখন বলতেন “তুকুব্বিলা মিন্না ও মিনকা” তথা আমাদের আমল ও আপনার আমল কবুল হোক। (ইবনে হাজার বলেন এর সনদ সহিহ। আল-ফাতহ দ্বিতীয় খণ্ড)

🤲 আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার তৌফিক দান করুন। ঈদের দিনের উছিলায় আমারদের সবাইকে মাফ করে করোনা ভাইরাস থেকে হেফাজতে রাখুন। (আমিন) ====সমাপ্ত

 

 

লেখক: ইমাম ও খতিব ওল্ডহাম জামে মাসজিদ, যুক্তরাজ্য